Greater Noida AIDWA Protest

পরপর ধর্ষণ, বিক্ষোভ আটকাতে মহিলা নেত্রীকে গৃহবন্দি করল যোগীর পুলিশ

জাতীয়

ছবি - প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার জন্য রেখা চৌহান-কে গৃহবন্দী করেছে নয়ডা পুলিশ।

পরপর ধর্ষণ হচ্ছে উত্তর প্রদেশের নয়ডা অঞ্চলে। তারই প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। ঠিক তার আগে সংগঠনের সংশ্লিষ্ট জেলা সভানেত্রীকে বাড়িতে আটকে রাখল যোগী আদিত্যনাথ সরকারের পুলিশ। উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকারের ভূমিকায় ছড়িয়েছে তীব্র ক্ষোভ।
গ্রেটার নয়ডায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর ওপর নৃশংস দলবদ্ধ ধর্ষণ হয়। ছয় বছরের এক শিশু যৌন হেনস্তার শিকারও হয়েছে। দোষীদের শাস্তি এবং নারীদের নিরাপত্তার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, নয়ডায় পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয় মহিলা সমিতি। কর্মসূচিতে যোগ দেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেত্রী ও সংগঠনের নেত্রী বৃন্দা কারাতও। 
এদিকে ওই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যাতে অংশগ্রহণ করতে না পারেন তার জন্য গত বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, নয়ডা পুলিশ মহিলা সমিতির গৌতম বুদ্ধ নগর জেলা সভানেত্রী রেখা চৌহানকে গৃহবন্দি করে রাখে। 
ওই দিন রাত ৯টার সময় চারজন পুরুষ ও একজন নারী পুলিশ জোর করে রেখা চৌহানের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এমনকি পুলিশের তরফে ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করার জন্য হুমকিও দেওয়া হয় তাঁকে। এই অগণতান্ত্রিক ও দমনমূলক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মহিলা সমিতি।
গত ৩ আগস্ট, গ্রেটার নয়ডার পারি চক থেকে ওই ১৬ বছর বয়সী কিশোরী বাসে ওঠে। তারপর, বাসের মধ্যেই বাসের চালক ও কন্ডাক্টর মিলে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে দিল্লির কাশ্মীর গেটের কাছে তাঁকে ফেলে রেখে যায়। 
এর পর,  ২৮ আগস্ট গ্রেটার নয়ডার জালপুরা গ্রামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ওই ঘটনার পর তার মৃত্যু হয়।  সেই ঘটনারও প্রতিবাদ জানায় মহিলা সমিতি।  
গৌতম বুদ্ধ নগর জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে বৃন্দা কারাত বলেছেন যে ঘটনা দু’টি মর্মান্তিক। কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এগুলি উত্তর প্রদেশ পুলিশ, দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সম্মিলিত ব্যর্থতারই প্রতিফলন। তিনি বলেন দিল্লিতে নির্ভয়া-কাণ্ডের পর আন্দোলনের চাপে নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি তৈরি হয়। কিন্তু, প্রশাসন তা মেনে চলে না। প্রশাসনের তীব্র নিন্দা করে কারাত বলেন, এমনকি গণপরিবহণও এখন আর নারী ও কিশোরীদের জন্য নিরাপদ নয়। 
মহিলা সমিতির তরফে একটি স্মারকলিপি পেশ করে নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা, দায়িত্বে অবহেলার জন্য দায়ী পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং গণপরিবহণ ও নিত্যদিন চলাচলের সব জায়গায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। সেইসঙ্গে, প্রশাসন নারী ও মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এই আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে মহিলা সমিতি।

Comments :0

Login to leave a comment