যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভে দুষ্কৃতীদের আনাগোনার অভিযোগ তুলেছে দিল্লি পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করেছে ২৮৭৩ জনের তালিকা। তার মধ্যে গুরুতর অপরাধে জড়িত ২৫ জনের নামও রয়েছে। আইনি নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে সেই ২৫ জন বিক্ষোভের সময় দিল্লিরই বিভিন্ন জেলে ছিল।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ দিল্লি পুলিশের হলফনামায় অসঙ্গতির তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, দায়ী কে, দিল্লি পুলিশের মুখ চিহ্নিত করার প্রযুক্তি নাকি বাহিনীর মনোভাব?
গত মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি পুলিশের আবেদন মেনে বিক্ষোভরত ছাত্রদের ওপর দায়ের সব এফআইআর বাতিল করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু দিল্লি পুলিশ জানায় মুখ চিহ্নিত করার প্রযুক্তি বা ‘ফেসিয়াল রেকগনিশন টেকনোলজি’ দিয়ে ২৮৭৩ জন দাগী অপরাধীকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। এরা ছাত্র নয়।
দেখা গিয়েছে চিহ্নিত ২৮৭৩ জনের মধ্যে খুন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ২৫ জনও রয়েছে। তার মধ্যে ১৭ জনকে খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। ৪ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে পকসো আইনে মামলা। আরও চার জনের নাম রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ নথি ঘেঁটে দেখেছে এরা বন্দি ছিল তিহারের মতো একাধিক জেলে।
মোট ২৮৭৩ অভিযুক্তদের মধ্যে মোট ১০১ জন খুনি, ৬১ জন ধর্ষক, এবং ৬২ জনের মধ্যে ৩৭ জনকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়। এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে কেবল প্রযুক্তির ভরসায় তদন্ত হবে না। জুলাইয়ের ২০-২৬ এরা কে কোথায় ছিল খতিয়ে দেখে পরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেছেন, দিল্লি পুলিশের প্রযুক্তি যদি ঠিক হয় তা’হলে জেলে বন্দিদের ছবি এল কী করে। আর দিল্লি পুলিশের মনোভাব যদি ঠিক না হয় তা’হলে আরও মারাত্মক প্রশ্ন ওঠে। গোলমাল পাকানোর জন্য দিল্লি পুলিশ কি এই অপরাধীদের ছাত্র বিক্ষোভে ছেড়ে দিয়েছিল? উত্তর দিতে হবে।
Jantar Mantar Criminal List Delhi Police
জেলবন্দিরা কী ক’রে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে! প্রশ্নের মুখে দিল্লি পুলিশ
×
Comments :0