MUKTADHARA | JOURNEY | BANGALIR EUROPNAMA | SUPRATIK BANIK | 5 SEPTEMBER 2026 | 4th YEAR

মুক্তধারা | ভ্রমণ | বাঙালির ইউরোপনামা | সুপ্রতিক বণিক | ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

নতুনপাতা/মুক্তধারা

MUKTADHARA  JOURNEY  BANGALIR EUROPNAMA  SUPRATIK BANIK  5 SEPTEMBER 2026  4th YEAR

মুক্তধারা

ভ্রমণ 

বাঙালির ইউরোপনামা 

সুপ্রতিক বণিক

৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ

 

বাঙালি তো ……ঘোরার নেশা আমাদের বড়ই বিষম নেশা, সেটা কম বেশী আমরা সবাই জানি।আর ইউরোপ যাত্রা নেশার থেকেও বড় সখ ।আর সখের দাম লাখ টাকা ।কারণ আগেই বলেছি মধ্যবিত্ত পরিবার, আর হিসাবটা সত্যি বলতে বেশ দরকার।
সেসব ভাবনা চিন্তা করে দেখলাম প্রথম বিদেশ যাত্রা নিজে না করে কোন ট্যুর কোম্পানির সাথে গেলে একরকম সাপোর্ট থাকবে।সেই নেতাজী ইনডোর এর ভ্রমণ মেলা থেকে ইন্টারনেট, সব খুঁজে পেলাম ব্রিন্দা শর্মা নামে এক ভারতীয় ভ্রমণ সংক্রান্ত ইনফ্লুএন্সার এর নিজের সস্থা “কীগো” - তার সাথে কথা বলে,তাদের ভাবগতিক বুঝে মনে হলো ওদের সাথে যাওয়াই যায় ।
তিনটে দেশ এর কথা ভাবা মাত্রই মাথায় আসে যে কি দেখব আর কি দেখব না । দেশ তিনটে ঠিক করার আমাদের লিস্ট এ জার্মানি ও ছিল , যেমন ধরুন বার্লিন দিয়ে ঢুকে বা মিউনিখ দিয়ে ঢুকে দুদিন জার্মানি তে কাটিয়ে অস্ট্রিয়া প্রবেশ করা।খারাপ হতো না ব্যাপারটা- কি বলেন আপনারা ? আর আমার সাধের “Allianz Arena” এর একটা দর্শন হয়ে যেত।কিন্তু খালি বুড়ী ছোঁয়ার মত করে জার্মানি না গিয়ে ,আর বাজেট ও না বাড়িয়ে , সর্বোপরি সম্পূর্ণ ভ্রমণ দিন্ সংখ্যার কথা ভেবে পরের কোন বারের জন্য তুলে রাখলাম।
এই পর্বে চেষ্টা করছি অস্ট্রিয়া এর যে যে শহরগুলোতে আমরা ছিলাম সেগুলো উল্লেখ করতে, সাথে ভিসা প্রসেস নিয়ে কথা বলতে।অস্ট্রিয়া এর রাজধানি ভিয়েনা , যেটা ছাড়া পূর্ব ইউরোপ অসম্পূর্ণ থেকে যেত, সাথে সলজবুর্গ (অথবা জালৎস্‌বুর্গ) , আর ইন্সব্রুক।
তিনটে শহর তিন ধরনের তাদের সৌন্দর্য, তাদের মানুষ, সেখানকার স্থাপত্য ,পরিবেশ -সব ই স্বতন্ত্রভাবে আলাদা করা যায়। বলাই বাহুল্য ভারত থেকে যাওয়া আমরা - একটা  জিনিস সব জায়গায় সমান বা বেশী পেয়েছি -সেটা হল হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা।
ফিরে আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যেটা যেকোনো বিদেশ ভ্রমনের আগে দরকার – পাসপোর্ট আর ভিসা।আর আমরা সবাই মোটামুটি জানি যে, ইউরোপ এর ভিসাটা পাওয়া একটু কঠিন। তবে অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত কঠিন নয়।কিন্তু ভিসার জন্য আয় এর প্রমাণ , Letter of intent , সঠিক ভ্রমণ সূচী , নিজের নিয়োগকর্তা বা কর্ত্রী এর থেকে অনুমত ছুটির আবেদন সবশুদ্ধ নিয়ে আবেদন করে টাকা জমা দিলে সাক্ষাৎ এর জন্য গণ্য হবে আপনার আবেদন। কলকাতা থেকে আবেদন করে থাকলে আপানাদের ও যেতে হবে রেনে টাওয়ার্স এর vfs Global এর অফিসে।
এবার নিশ্চই আপনাদের মনে হচ্ছে এত খুঁটি-নাটি তথ্য নিয়ে কি এ বা করবো, তাই তো ?
অধৈর্য হবেন না – এই তথ্য আপনারা যে কোন দিন ইউরোপে পাড়ি দিলেই খুব দরকার হয়ে পড়বে, একবার হলেও মনে পড়বে আমার এই ইউরোপনামার কথা। 
সত্যি বলতে কি -এই কাজ গুলো সম্পন্ন করার জন্য ভ্রমণপিপাসু জনদের একরকম বিশেষ জীবিকার প্রয়োজনীয়তা দেখা গিয়েছে, সেটা হল “Visa Assistance”,যেটা কিছুটা হলেও আপনার ভ্রমণ এর বাজেট বাড়িয়ে দেবে।তবে সত্যি বলতে একটু আত্মবিশ্বাস নিয়ে চেষ্টা করলে আমরা নিজেরাও পারবো। ভিসা নিয়ে কথা বলার মূল কারণ হল আমরা এতটাই ভয়ে ছিলাম ভিসা পাবো কিনা এই ভেবে যে – আমাদের যাত্রার পরিকল্পনাই আটকে গেছিল ভিসার অপেক্ষায়।
এবার যাত্রার প্রথম ধাপ- ফ্লাইট এর টিকিট কাটা। এক্ষেত্রে বিষয়টা জরুরি, কারণ গন্তব্য শহরের  সাপেক্ষে টিকিট এর ভাড়া, সময় এবং ফেরা - সব ই নির্ভর করে।সেই ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যে প্রথম গন্তব্য ভিয়েনা আর ফেরার সময় শেষ শহর প্রাগ।

যাওয়ার পথে অবশ্য বেশ খানিকক্ষণ-এর একটা layover আমাদের মধ্য প্রাচ্যের দেশ এ পা রাখতে সাহায্য করেছিল বৈ কি!
আগামি পর্বে শুরু করব এয়ারপোর্ট , এয়ারপোর্ট এর ফ্রি ডিনার, মধ্য প্রাচ্যের দুপুর আর শুয়ে শুয়ে ভিয়েনা পৌঁছনোর গল্প।এবারের পর্ব একটু ইনফরমেটিভ লাগতে পারে কিন্তু যাত্রা শুরুর শুরুটা না বললে বাকিটা কেমন অসম্পূর্ণ থেকে যায় – আপনাদের উপর বিশ্বাস আছে তাই না ঢেকে সবটাই বলছি।।

Comments :0

Login to leave a comment