সলিড ওয়েষ্ট ম্যানেজমেন্টের প্লান্টের দূষিত জঞ্জাল পড়ছে বৈদ্যবাটির ঘুঙ্গীর খালে। দূষিত জল খাল বেয়ে এসে পড়ছে গঙ্গায় তার জেরে গঙ্গায় অক্সিজেন কমে গিয়ে মাছের সংখ্যা কমছে। বৈদ্যবাটি পৌরসভা সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টের দূষনের প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন পরিবেশকর্মী থেকে মৎস ব্যবসায়ীরা।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, তৃণমূল সরকারের সময়ে কেএমডিএ-র এই সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্টের দায়িত্ব একটি বেসরকারি সংস্থাকে দিয়েছে। কিন্তু বেসরকারি সংস্থা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ভাবে দূষিত বর্জ জল পরিষ্কার না করে ঘুঙ্গির খালে ছাড়ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাঝে মাঝে এই প্লান্ট থেকে এমন দুর্গন্ধ বেরোয় টিকে থাকা দায় হয়ে পড়ে। দূষিত বর্জ্য ফেলে খালের একাংশ বোজানোর কাজ হচ্ছে। আইন অনুযায়ী দূষিত জল পরিশোধন না করে নদীতে ছাড়া যায়না। কিন্তু কার্যত কোনও নিয়ম মানা হচ্ছেনা। স্থানীয়রা বলেছেন ফ্যানা ভর্তি দূষিত জল মিশছে ঘুঙ্গির খালে।
বৈদ্যবাটীর মৎসজীবিদের অভিযোগ কলকাতা থেকে খাটাল সরিয়ে দেবার পরে খাটাল গুলি ডানকুনি, সংলগ্ন এলাকায় খালধারে জায়গা করে নিয়েছে। তার গোবর জলে গঙ্গা দূষণ হচ্ছিলো। কিন্তু এই সলিড ওয়েস্ট প্লান্টের নোংরা জল গঙ্গায় পড়ার জন্য মাছ কমে যাচ্ছে গঙ্গায়। বৈদ্যবাটী থেকে রিষড়া পর্যন্ত মাছ হীন একটা এলাকা তৈরী হয়েছে।
মৎসব্যবসায়ী মৃত্যুঞ্জয় সাঁতরা জানান, আমি বহুদিন মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত এবং মাছ চাষের জন্য পুরস্কার প্রাপ্ত। এই দূষিত জল গঙ্গায় পড়ছে বলে গঙ্গায় মাছ নেই বললেই চলে। ফলে আগে যেমন গঙ্গায় ইলিশ মিলতো এখন আর পাওয়া যায়না। বেলে, আড়, রিটে মাছও অমিল গঙ্গায়।
পরিবেশকর্মী ও প্ৰখ্যাত আইনজীবী বিশ্বজিৎ মুখার্জি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও স্থানীয় পৌরসভার উচিত অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যদি দেখা যায় কোনও কারখানা এটা করছে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমাদের কাছে এরকম অভিযোগ এসেছে আমরা পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডে জানিয়েছি তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এক্ষেত্রে ভিডিও সহ প্রমান মিললে আমরা অভিযোগ জানাবো।"
Comments :0