Bhavnagar Police

প্রকাশ্যে খুনে অভিযুক্তকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর, বিতর্কে ভাবনগরের পুলিশ

জাতীয়

গুজরাটের ভাবনগর এসটি বাস স্ট্যান্ডে এক ৪০ বছর বয়সী মহিলাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ। পরকীয়া সন্দেহে বিবাদের জেরে তাঁর ২০ বছর বয়সী সঙ্গী তাঁর উপর হামলা করে।  ৩ সেপ্টেম্বর ঘটা এই হামলার দৃশ্য বাস স্ট্যান্ডের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। মৃতের নাম কাজলবেন বারাইয়া। ফয়সাল ওরফে খাটকি নামের যে ব্যক্তির সঙ্গে তিনি গত সাত বছর ধরে একত্রে বসবাস করছিলেন, সেই ব্যক্তিই তাঁর উপরে আক্রমণ করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও ৪ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ৩রা সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ঘটেছিল। ফয়সালের সাথে কাজলবেন ও তাঁর বন্ধু রবি গোহিলের বসচা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ফয়সালের সন্দেহ ছিল যে কাজলবেনের সঙ্গে রবির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সে কাজলবেনকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং লাথি ও ঘুষি মারতে থাকে। তাঁর মাথা ও শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। হামলার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে রবি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয় এবং সে আহত হয়। ভাবনগর এসটি বাস স্ট্যান্ডে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ফুটেজে দেখা যায়, আশেপাশের লোকজন দাঁড়িয়ে সেই হামলা দেখছিল। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও রবি পুলিশকে জানায় যে, মদ্যপানকে কেন্দ্র করেই এই বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, কাজলবেন ও ফয়সাল প্রায় সাত বছর ধরে একসঙ্গে বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ফুটপাতে বসবাস করছিলেন। ওইদিন রাগের বশে ফয়জল রবি ও কাজলকে লাথি মেরে টাইলসের ওপর ফেলে দেয়। এরপর সে কাজলবেনের চুল ধরে টেনে তার মাথা, ঘাড় ও মুখ বারবার টাইলসের ওপর আছড়ে ফেলতে থাকে। কাজল অজ্ঞান হয়ে গেলে ফয়জল তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্যার টি হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শহরের ডেপুটি এসপি আর আর সিঙ্ঘলের বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এর আগে অন্য একটি অপরাধের ঘটনায় ফয়সাল জেল খেটেছিলেন। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন যে, তাঁর বন্ধু রবির সঙ্গে কাজলবেনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। অভিযোগ, এই বিষয়টি নিয়েই ৩ সেপ্টেম্বর তাঁদের তিনজনের মধ্যে বসচা বাধে। হামলার পর কাজলবেনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন কাজলবেনের মায়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ফয়সালের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার করে। ডিওয়াইএসপি আরআর সিংগাল বলেন, ফয়সালের বিরুদ্ধে ডাকাতি এবং শারীরিক নির্যাতনের মতো অপরাধ সহ পূর্বের ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। 
শনিবার অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য ফয়সালকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। এ সময় নীলামবাগ থানার আধিকারিক ডি পি উন্দাদকাত তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে ১০৭ বার আঘাত করেন বলে অভিযোগ। এদিনই অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। যেভাবে প্রকাশ্যে অভিযুক্তকে ঘুরিয়েছেন এবং নির্মমভাবে মারধর করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 
উল্লেখ্য, গুজরাটের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি ড কে এল এন রাও কঠোর লিখিত নির্দেশ জারি করেছিলেন, কোনো পুলিশ সদস্য যদি কোনো অভিযুক্তকে প্রকাশ্যে ঘোরান বা অভিযুক্তের সাথে অপমানজনক আচরণ করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অভিযুক্তকে মারধরের ঘটনায় সমাজের একাংশ বলছেন গুজরাটের ডিজিপি এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশাবলি নীলামবাগ থানার আধিকারিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সারা দেশের আদালতগুলো পুলিশ বাহিনীকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে , গ্রেপ্তার হওয়া যেকোনো অভিযুক্তের সাংবিধানিক ও মানবাধিকার অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। পুলিশের আচরণবিধির প্রেক্ষাপটে এই বিতর্কটি সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে মারধর, জনসমক্ষে ঘোরানো বা আক্রমণ করতে পারবে না এবং শাস্তি প্রদানের দায়িত্ব আদালতের, তদন্তকারী আধিকারিকদের নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে গুজরাট হাইকোর্ট এর আগে ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের তাদের অধস্তনদের ওপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে, এখানে স্বয়ং একজন আইপিএস-স্তরের আধিকারিক এই আইন প্রণয়নের অগ্রভাগে রয়েছেন, যা আগামী দিনে একটি বড় আইনি বিতর্কের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

Comments :0

Login to leave a comment