সাদা রঙ থেকে রাতারাতি গেরুয়া রঙ করে দিনহাটা পৌরসভার অবৈধ ভাবে তৈরি দ্বিতল ভবন প্রশাসনের ভেঙে ফেলা এড়াতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ঘনিষ্ট কতিপয় ধুরন্ধর ব্যবসায়ী! এরা প্রত্যেকেই প্রাক্তন মন্ত্রীর বদান্যতায় নিয়ম ভেঙে ওই স্টল গুলি বাগিয়ে নিয়েছিলেন। ব্যবসায়িক স্টল কিনে নেওয়া প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘনিষ্ট কতিপয় ব্যবসায়ীর অবৈধ নির্মান ভাঙা ঠেকানোর এই মরিয়া চেষ্টার পেছনে বিজেপির সাথে ওই ব্যবসায়ীদের সেটিং তত্বই দেখছেন দিনহাটা শহরের সাধারণ মানুষ।
তৃণমূলের দাপুটে প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ দিনহাটা পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকার সময়ে শহরের বোর্ডিং রোডের পাশে নিকাশি নালা বন্ধ করে ২০১৭-১৮ সালে দ্বিতল ভবন গড়েছিল। সেই দ্বিতল ভবন গড়ার সময়েই অভিযোগ উঠেছিল সরকারি জমির ওপর নিকাশি নালা আটকে এরকম বিল্ডিং খোদ পৌরসভা কি করে গড়লো? তখন প্রাক্তন মন্ত্রীর দাপটে কেউই আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন নি। চলতি বছরের ১ জুলাই নিকাশানালা বন্ধ করে পৌরসভা অবৈধ নির্মান করেছে, সেটি তদন্ত করে ভেঙে দেওয়া হোক এই দাবি নিয়ে দিনহাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি। এরপরেই নড়েচড়ে বসে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর। দিনহাটার ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর মাপজোখ করে দিনহাটা থানা, এবং মহকুমা শাসককে রিপোর্ট দেয় যে জায়গায় পৌরসভা বিল্ডি করেছে সেই জমির খতিয়ান নাম্বার ৩৯৫৬ এবং দাগ নাম্বার ৭১৫০। এই জমির শ্রেণী চরিত্র হল এটি নিকাশিনালা। এতেই স্পষ্ট হয় নির্মানটি পুরোপুরি বেআইনী।
এরপরেই মহকুমা শাসক ওই বিতর্কিত বিল্ডিং নির্মান সংক্রান্ত যাবতীয় নথি পৌরসভার কাছে চেয়ে পাঠায়। প্রশ্ন উঠেছে ওই দ্বিতল ভবনের বিল্ডিংয়ের প্ল্যান কি আদৌ আছে? নিকাশিনালার জমির ওপর কি করে প্ল্যান পাশ করলো পৌরসভা?
উল্লেখ্য প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তার অনুগামী চিকিৎসক বিদ্যুৎ কমল সাহা, পার্থ সাহা, কনট্রাকটার এসোশিয়েশন সহ গুটি কয়েক মানুষকে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিতে ওই দ্বিতল ভবন গড়েছিলেন। অথচ প্রাক্তন মন্ত্রী দ্বিতল ভবন গড়ার সময়ে বলেছিলেন শহরের বেকার যুবকদের ব্যবসার জন্য দ্বিতল ভবনে ১০টি স্টল গড়া হচ্ছে। বাস্তবে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই স্টল গুলি পেয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ঘনিষ্টরা।
এই প্রসঙ্গে দিনহাটার সিপিআই(এম) নেতা শুভ্রালোক দাস শুক্রবার বলেন, ‘‘প্রাক্তন মন্ত্রী একাধিক মামলায় এখন বিচারাধীন বন্দী হয়ে আছেন। তৃনমুলের সুদিনে গুটি কয়েক সুবিধাভোগী মানুষ নিয়ম কানুন না মেনেই বিতর্কিত ভবনের স্টল গুলি পৌরসভার থেকে টাকার বিনিময়ে নিয়েছিলেন। এখন প্রাক্তন মন্ত্রী জেলে বিচারাধীন বন্দী। এবারে চলছে নতুন করে সেটিংয়ের খেলা। বর্তমান শাসক দলের পরামর্শেই হয়তো বিল্ডিংয়ের সাদা রঙ বদলে গেরুয়া রঙ করে অবৈধ নির্মান ভাঙা আটকানোর খেলা শুরু হয়েছে। আমরা চাই নিকাশিনালা বন্ধ করে যদি পৌরসভা নিজেই আইন ভেঙে দ্বিতল ভবন গড়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিল্ডিং প্ল্যান প্রকাশ্যে আনতে হবে। অন্যথায় রাস্তায় নেমেই আন্দোলন হবে। সেটিং করে অবৈধ নির্মান টিকিয়ে রাখতে দেওয়া হবে না। গেরুয়া রঙ হলেও সাতখুন মাফ হবে এটা মেনে নেওয়া হবে না।’’
এদিকে মহকুমা শাসক বিতর্কিত দ্বিতল ভবনের প্ল্যান সহ যাবতীয় নথি চেয়ে পাঠানোর পরেও সেগুলি তার কাছে জমা দেয় নি পৌরসভা। এমনটাই সূত্রের খবর।
Dinhata Illegal construction
অবৈধ নির্মাণ ভাঙা এড়াতে বিল্ডিংয়ের সাদা রঙ বদলে গেরুয়া দিনহাটায়
×
Comments :0