Self-Help Groups

গ্রামীণ এলাকার স্বনির্ভর হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল ডবল ইঞ্জিন সরকার

জেলা

বামফ্রন্ট আমল থেকেই সারা রাজ্যের সাথে কোচবিহার জেলার গ্রামীণ এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য ও উপভোক্তাদের মুরগী,হাঁসের ছানা,গরু,ছাগল,ভেড়ার বাচ্চা বিনামূল্যে বিলি করা হত। তৃণমূল আমলে এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হলেও প্রকল্প চালু ছিল। কিন্তু ডবল ইঞ্জিনের সরকার ক্ষমতায় আসার পর বুঝি প্রকল্পে ইতি টানা হয়েছে!
প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের উদ্যোগে এই প্রকল্পের মাধ্যমে এইসব বিনামূল্যে বিলির উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করে তোলা। চলতি বছরে সেই প্রকল্প চালুর কোনো খবর নেই জেলা প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের কাছে।
দপ্তর সূত্রে জানা গেছে সাধারণত মে-জুনে এই প্রকল্পে উপভোক্তাদের বিনামূল্যে এইসব বিলি করা হত।অবশ্য এর জন্য তিন মাস আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করতো প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর।এইবারে সেপ্টেম্বর মাসেও আসেনি কোনো নির্দেশিকা।
মাথাভাঙা ব্লক প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের এক কর্মী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, উপভোক্তা পিছু ১০টি মুরগীর ছানা, ১০টি করে হাঁসের ছানা,এছাড়াও কোনো উপভোক্তাকে গরু, ছাগল, ভেড়ার ছানা বিলি করা হত।
গত বছরেও কোচবিহার জেলায় মোট ৩০ হাজার মহিলাকে ১০টি করে ৩ লক্ষ মুরগীর ছানা, ৪ হাজার উপভোক্তাকে ১০টি করে মোট ৪০ হাজার হাঁসের ছানা বিলি করা হয়েছিল।এছাড়াও ১২০০ ছাগলের বাচ্চা,৭২টি গরু, ১৭০টি শূকর এবং ১০০টি ভেড়া উপভোক্তাদের মধ্যে বিলি করা হয়েছে। এবারে এই প্রকল্প না থাকায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে  নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এরফলে দেশী হাঁস, মুরগীর ডিমের আকাল হতে বাধ্য। একইভাবে মাংসের ঘাটতিও হবে।
প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তর সূত্রেই জানা গেছে চলতি মাসেও যদি প্রকল্প বাস্তবায়িত করার নির্দেশ আসে তবে গরু,ছাগল,ভেড়া,শূকর কোনোভাবে দেওয়া সম্ভব হলেও হাঁস এবং মুরগীর ছানা দেওয়া সম্ভব নয়।
কারণ হাঁস ও মুরগীর ছানা করতে প্রথমে ডিম সংগ্রহ করতে হবে।তারপর সেই ডিম হ্যাচিং মেশিনে বসাতে হবে।বাচ্চা ফুটতেই ২১ দিন সময় লাগে।তারপর সেই বাচ্চা গুলি অন্তত ২৬-২৮ দিনের হওয়ার পর বিলি করা সম্ভব হবে।ফলে প্রকল্প চালু হলেও  চলতি বছরে হাঁস,মুরগীর ছানা বিলি কার্যত অসম্ভব।
পাইকারি বাজারের ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে দেশি হাঁস ও মুরগীর ডিমের চাহিদা খুব বেশি। দামেও অনেকটাই বেশি। সাধারন হিসেব অনুযায়ী একটি মুরগী বছরে ২৮০টি এবং একটি হাঁস বছরে প্রায় ৩০০টি ডিম দেয়।এবারে যদি গ্রামীণ এলাকায় প্রকল্পে ৩ লক্ষ মুরগীর ছানা এবং ৪০ হাজার হাঁসের ছানা বিলি না হয় তবে বাজারে দেশী হাঁস ও মুরগীর ডিমের কতটা ঘাটতি হবে সেটা অংকে কষে দেখলেই বোঝা যাবে বাজারে কতটা প্রভাব পড়তে চলেছে।
হাঁস,মুরগী সহ গরু,ছাগল,ভেড়া,শূকর বিলির নির্দেশিকা কেন এল না সেটাই এখন প্রশ্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের। স্বাবলম্বী হওয়ার এই পথটাও বন্ধ করে দিল বিজেপি সরকার।

Comments :0

Login to leave a comment