SIR Bankura Mahsina Khatun

আবেদন ঝুলে ট্রাইবুনালে, পুলিশ বলছে ‘তুলে নিয়ে যাব’, আতঙ্কে মহসিনা

রাজ্য জেলা

বাঁকুড়ার আচুড়ি অঞ্চলের বনকাটা গ্রামে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার কাগজ দেখাচ্ছেন মহসিনা খাতুন। রয়েছেন স্বামীও।

মধুসূদন চ্যাটার্জি

নাম ওঠেনি এসআইআর-এ। তারপর আবেদন জানিয়েছেন ট্রাইবুনালে। নিষ্পত্তি হয়নি আবেদনের। তবু পুলিশ বাড়িতে এসে বলে গিয়েছে যে দু’দিন পর তুলে নিয়ে যাবে। তারপর থেকে খাওয়া বন্ধ বাঁকুড়ার আচুড়ি অঞ্চলের উত্তর বনকাটা গ্রামের গৃহবধূ মহসিনা খাতুনের পরিবারের। 
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়িতে আসে পুলিশ। আতঙ্কের মধ্যেই মহসিনা খাতুনের শ্বশুরবাড়ি ও বাপের বাড়ির সবাই। ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনায় বাদুলাড়া, জলহরিম কাপিষ্টা, বনকাটা সহ একাধিক এলাকায় একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
জন্ম, লেখাপড়া শিখে বেড়ে ওঠা, বিয়ে হওয়া, সব কিছুই
বাঁকুড়া-১ ব্লকের আচুড়ি অঞ্চলে। বেশ কয়েকবার ভোট দেওয়া সত্বেও এসআইআর-এ মহসিনা খাতুনের নাম এবার ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। নতুন করে নাম লেখানোর জন্য তীব্র গরমে অসুস্থ হয়েও বাঁকুড়া-১ ব্লকে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে হিয়ারিংয়ের নোটিস পেয়ে নিজের ও পরিবারের সমস্ত তথ্য জমা দিয়েছিলেন তিনি। তার পরও চুড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম আসেনি। 
সরকারি নির্দেশ মতো তিনি ভোটাধিকারের অধিকারে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। গত ৬ এপ্রিল তিনি বাঁকুড়া জেলা শাসকের দপ্তরে ট্রাইব্যুনালে সেই আবেদন জানান। গত ৩জুন শুনানি হলেও তাঁর আবেদন ‘পেনডিং’ বলে উল্লেখ করা হয় ট্রাইবুনালে। রেখে দেওয়া হয়েছে।
এর পরই পুলিশ প্রশাসন ময়দানে নেমেছে। শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, উত্তর বনকাটা গ্রামে মহসিনা খাতুনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখা গেল দুই নাবালিকা শিশু কন্যাকে নিয়ে কার্যত ভয়ার্ত মুখে বসে আছেন তিনি। তাঁর স্বামী পাউরুটি হকার
জসিমুদ্দিন মিদ্যা, মহসিনার মা মেহেরুন বিবি ও পরিবারের লোকজন, সবাই আতঙ্কে।
মহসিনা জানান, ‘‘বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ২২৬ নম্বর অংশের ৩৬২ ক্রমিক নম্বরে তাঁর নাম ছিল। এসআইআর-এ মা মেহেরুন বিবির নাম দেই। বাবা মজরুল মিদ্যা আমার দেড় বছর বয়সে মারা গেছেন। ফলে ফর্মে মা ও স্বামীর নামই দেই। 
মা মেহেরুন বিবি বলেন, ‘‘আমার নাম আছে ভোটার তালিকায়। আমার নাম ব্যবহার করে আমার বাকি দুই মেয়ের নাম উঠে গেল ভোটার তালিকায়। কিন্তু এই মেয়ের নাম কেন উঠল না কেন?’’ 
মহসিনার স্বামী জসিমুদ্দিন মিদ্যা বলেন, ‘‘আমার নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। কেন স্ত্রীর নাম বাদ জানি না।’’ জসিমুদ্দিন উড়িশায় পাউরুটি হকারের কাজ করেন। তাঁর পাঠানো অর্থেই সংসার চলে। এদের দুটি মেয়ে। 
মহসিনা বলেছেন, ‘‘বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁকুড়া থানা থেকে কয়েকজন পুলিশ এসে জানায়, তোমার নাম নেই ভোটার তালিকায়। আমরা সব কাগজ দেখাই। পুলিশ কিছুই শুনতে চায় না। তারা বলে, আজ কিছু করলাম না বাচ্চা মেয়েটাকে দেখে। দু’দিন পর এসে তুলে নিয়ে যাব। এর পর থেকে পরিবারের খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।’’ 
শুক্রবারবার বিকালে বাদুলাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষজন সভা করে এই ঘটনার নিন্দা করেন। তাঁরা জানান, অবিলম্বে এই সমস্যাগুলির সমাধান করতে হবে। কারন মহসিনা খাতুনকে জন্ম থেকেই এখানকার মানুষজন চেনেন। 
এদিন বাঁকুড়া থানার আইসি রজত চৌধুরী বলেন, ‘‘সমস্যার সমাধান মহসিনা খাতুনকেই করতে হবে। ব্লক প্রশাসনের কাছে গিয়ে ঠিক করতে হবে। পুলিশের কিছু করার নেই।’’
কিন্তু প্রশ্ন হলো, আর কোথায় যাবেন এঁরা? সে প্রশ্নের জবাব মেলেনি।

Comments :0

Login to leave a comment