Cooch Behar Rajbari

কোচবিহারের রাজবাড়িকে বিয়েতে ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা রাজ্য পর্যটন দপ্তরের!

জেলা

কোচবিহারের প্রাচীন স্থাপত্য রাজবাড়িকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করতে তৎপর রাজ্যের পর্যটন দপ্তর। রাজ আমলের এই ঐতিহ্যকে ম্যারেজ হল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে রাজ্য সরকারের এই দপ্তর বলে উঠছে অভিযোগ।
তাহলে কি বিয়ের আয়োজনের গন্তব্যস্থল হয়ে উঠতে চলেছে কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি? ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।
জানা গেছে, সম্প্রতি এই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বিবাহ পরিকল্পনাকারী সংস্থা এবং হোটেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ বলে খবর। তবে শুধুমাত্র কোচবিহার রাজবাড়িই নয়, জলপাইগুড়ি রাজবাড়িকেও বিয়ে বাড়ি হিসেবে ভাড়া দিয়ে রাজস্ব আদায়ের নয়া পন্থা অবলম্বন করতে চলেছে এই দপ্তর।
কোচবিহারের রাজ আমলের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন হলো কোচবিহার রাজবাড়ি। কোচ রাজাদের তৈরি রাজবাড়ি হলো কোচবিহারের বুকে অন্যতম বিশেষ স্থাপত্য। 
১৮৮৬-৮৭ সাল নাগাদ ইতালীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হয় কোচবিহার রাজপ্রাসাদ। ১৯৭০সালে এই প্রাসাদ রাজহীন হয়ে পড়ে মহারাজা জগদ্বীপেন্দ্র নারায়ণের মৃত্যুর পর। প্রায় দু দশক অস্ত্রাগার ছাড়া আর কোন অংশ দেখভাল করা হতো না বলে অভিযোগ নানা মহলে। ১৯৯৭সালে প্রাসাদ অধিগ্রহণ করে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বক্ষণ তথা এএসআই। ২০০০সালে প্রথমত প্রাসাদের ৪টি ঘর ও পরবর্তীতে আরও ৩টি ঘরকে নিয়ে চালু হয় জাদুঘর। বেশ কিছু তৈলচিত্র ও রাজমুদ্রা, রাজাদের বিলিয়ার্ড বোর্ড, মহারাজাদের ব্যবহার করা সোফা ইত্যাদি স্থান পায় এই জাদুঘরে। এরপর ২০১৮সালে এই জাদুঘরে যোগ হয় অস্ত্র ভান্ডার। হয় নতুন গ্যালারি। রাজবাড়ি দেখতে আসা মানুষের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে রাজবাড়ি মিউজিয়াম, বিশেষ করে রাজ অস্ত্রাগার।
এক কথায় বলতে গেলে কোচবিহারবাসীর অন্যতম আবেগ এই রাজপ্রাসাদ। তাকে বিয়ে বাড়িতে রূপান্তরিত করা মানে কোচবিহারের ঐতিহ্য এবং আবেগকে জোর ধাক্কা দেওয়া বলে মনে করছেন কোচবিহারের বড় অংশের মানুষেরা।

Comments :0

Login to leave a comment