Unrecognised Party Huge Fund

গুজরাটের ৬ অনামী দলের তহবিলে ১৫০০ কোটি, খরচ কোথায়, উঠল প্রশ্ন

জাতীয়

ছয়টি রাজনৈতিক দল, পরিচিতি যাদের একেবারেই সামান্য, তাদেরই আর্থিক তহবিল ছাড়িয়ে গিয়েছে স্বীকৃত প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে।
২০২২-২৩ অর্থবর্ষে এই ছয় রাজনৈতিক দলের তহবিলে অনুদান হিসেবে জমা পড়েছিল ১৫০০ কোটি টাকা। বিজেপি বাদে বাকি সব জাতীয় দলের তহবিল যোগ করলেও অনুদান বাবদ এত অর্থ জমা পড়েনি। অথচ নামমাত্র প্রার্থী দাঁর করিয়েছে এই ছয় দল। ফলে খরচ কিভাবে হয়েছে বা খরচ না হলে টাকা কোথায় রয়েছে তা নিয়ে উঠেছে গুচ্ছ প্রশ্ন।
বিবিসি হিন্দি চ্যানেল প্রায় দু’মাস খোঁজ চালিয়ে এই দলগুলির আর্থিক অনুদান সম্পর্কে প্রতিবেদন দিয়েছে। 
সত্যবাদী রক্ষক পার্টি, আম জনমত পার্টি, গরিব কল্যাণ পার্টি, স্বতন্ত্র অভিব্যক্তি পার্টি, ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল এবং নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টির তহবিলে জমা অর্থের খোঁজ চালিয়েছে বিবিসি। ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যে সাংবাদিক ফোন করায় একটি দলের কোষাধ্যক্ষ বলছেন তিনি কিছু জানেন না। আমেদাবাদে দলের দপ্তরে শাটার নামানো। 
বিবিসি’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে ছয়টি দল ২০২৪’র লোকসভা ভোটে, সব মিলিয়ে, ১৫ জন প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিল।
আশ্চর্যজনক তথ্য বেরিয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বিজেপি’র তহবিলে অনুদানের অর্থ আদায়ে একচেটিয়া থেকেছে। প্রধান বিরোধী দল হলেও কংগ্রেস থেকেছে অনেক পিছিয়ে। মাঝে নির্বাচনী বন্ড চালু থাকার সময়ে বিজেপি’র ভাণ্ডারে নাম গোপন রেখে জমা পড়েছে ব্যবসায়ীদের অর্থ। পরে যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বহু তথ্য বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু দেশের নির্বাচনে অবৈধ টাকার লেনদেন গণতন্ত্রকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে রেখেছে। এই ছয়টি রাজনৈতিক দলই প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাট থেকে নথিভুক্ত হওয়ায় সন্দেহ বেড়েছে। 
এই ছয়টি দলই নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত। আইনে এই দলগুলি অনুদান নিতে পারে। 
অনামি দলের বিশেষ ভূমিকা পালনের ঘটনা সামনে এসেছে সম্প্রতি। তৃণমূল কংগ্রেসের কুড়ি সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই নামে একটি দলে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তা নিয়ে মামলাও চলছে। কিন্তু এই ‘মিশে যাওয়ার’ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করতে দেখা গিয়েছে বিজেপি-কে। 
বিবিসি-র প্রতিবেদন দেখাচ্ছে আম জনমত পার্টি ২০২০ এবং ২০২২সালে সামান্য অনুদান পেয়েছিল। তারপরই, ২০২২-২৩ অর্থবষে এই রাজনৈতিক দলের তহবিলে ঢুকেছে ২১৬ কোটি টাকা।
প্রশ্ন হচ্ছে ১৫০০ কোটি টাকার বেশি, লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই যা তহবিলে ঢুকেছে, খরচ হয়েছে কোথায়। নথিভুক্ত কিন্তু স্বীকৃত নয় এমন রাজনৈতিক দলগুলিকেও নির্বাচন কমিশনে আয় ব্যয়ের হিসেব দেখাতে হয়। 
নির্বাচন কমিশন ৮০০ রাজনৈতিক দলের নথিভুক্তি বাতিল করেছে নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ায়।

Comments :0

Login to leave a comment