সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টের আইনি নির্দেশ মেনেই হবে শিক্ষক নিয়োগ। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে আর নিয়োগ করা হবে না।’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা এবং পরীক্ষার ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মৌখিক পরীক্ষায় ১৫-২০ নম্বর রাখা হয়েছিল। যাতে নিজের লোক ঢোকানো যায়। এসএসসিকে পরামর্শ দিয়েছি মৌখিকের নম্বর ৫ করার।’
উল্লেখ্য সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগামী ন’মাসের মধ্যে এসএসসি’র ২৬ হাজার শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে রাজ্য সরকারকে। সোমবার এমনই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। নিয়োগের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সু্প্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার এবং এসএসসির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। সেই মামলার শুনানি ছিল সোমবার।
বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সচিন সচদেবার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়ে ৩১ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি। তার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে রাজ্য সরকারকে। এরপর আর কোন সময় তাদের দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য ২০১৬ এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির জন্য ২৬ হাজার শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মীদের চাকরি যায়। নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছিল শীর্ষ আদালত। চিহ্নিত অযোগ্যদের বেতনও ফেরত দিতে বলা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে নতুন নিয়োগের পরীক্ষা হয়। তাতে চিহ্নিত অযোগ্যরা বসতে পারেননি। বাকিরা পরীক্ষা দিলেও নিয়োগ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই মামলায় ফের সময় চাওয়া হয়। সেই আবেদনকে মান্যতা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত যারা যোগ্য তাদের চাকরি বহাল থাকবে। অর্থাৎ তাদের বেতন বন্ধ হওয়ার যেই কথা ছিল বন্ধ হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে চাকরি হারা যোগ্যদের প্রশ্ন যদি তাদের মধ্যে থেকে কেউ চাকরি না পায় তাহলে তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিন এই বিষয় কোন কথা বলতে শোনা যায়নি মুখ্যমন্ত্রীকে।
এদিনের অনুষ্ঠানে কম্পোজিট গ্রান্ট নিয়ে সরব হন তিনি। অভিযোগ করেন গত তিন বছর বন্ধ রাখা হয়েছিল এই টাকা। স্কুল গুলোকে টাকা দেওয়া হতো না। তিনি বলেন, ‘আগের সরকার তিন বছর কম্পোজিট গ্রান্টের কোন টাকা দেয়নি। খুবই সামান্য টাকা স্কুল গুলো পায়। মিত্র ইনস্টিটিউশনে সাপ কামড়ালো এই টাকা না পাওয়ার জন্য। এই টাকা দিয়ে স্কুল গুলো কার্বোলিক অ্যাসিড, ব্লিচিং পাউডার কেনে। আমরা সরকারে আসার পর ৩০০ কোটি টাকা কম্পোজিট গ্রান্ট দিয়েছি স্কুল গুলোকে। তাতে অনেকে পেয়েছে।’
Suvendu Adhikari
কবে হবে শিক্ষক নিয়োগ শিক্ষক দিবসে বলতে পারলেন না মুখ্যমন্ত্রী
×
Comments :0