editorial

চতুর্থ স্তম্ভ বিপন্ন

সম্পাদকীয় বিভাগ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাকে এক অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করতে পারেন এমন আশঙ্কায় দিল্লির পুলিশ দু’জন মহিলা সাংবাদিককে অনুষ্ঠানস্থল থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে থানার লক আপে আটকে রাখে। প্রতিবাদ করায় থানার মধ্যেই দু’জনকে বেধড়ক পিটিয়ে আধমরা করে তাদের ফোন কেড়ে নেয়। ধর্মে মুসলিম হওয়ায় তাদের যাচ্ছেতাই অপমান করে। মারের চোটে তাদের দেহের বিভিন্ন জায়গা ফুলে ওঠে এবং কালশিটে পড়ে যায়। মোদী জমানায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ঠিক কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে অমিত শাহর পুলিশ দুনিয়ার সামনে আরও একবার হাজির করেছে।
দুই মহিলা যে চ্যানেলের সাংবাদিক সেই চ্যানেল সরকারের কাজের ভুলভ্রান্তি নিয়মিত প্রচার করে থাকে। সম্ভবত সেই কারণেই তারা দিল্লি পুলিশের টার্গেট হন। তাছাড়া আরএসএস-বিজেপি পরিচালিত কি রাজ্য সরকার, কি‍‌ কেন্দ্রীয় সরকার — যেহেতু প্রশ্ন সহ্য করতে পারে না তাই যে সব সাংবাদিকরা বেশি প্রশ্ন করে তাদের নানাভাবে ভয় দেখিয়ে হেনস্তা করে মুখ বন্ধ করতে চায়। প্রকাশ্যে মন্ত্রীদের প্রশ্ন করলে যদি গুছিয়ে উত্তর বা সদুত্তর দিতে না পারে তাহলে তাহলে বেইজ্জতির একশেষ। তাছাড়া উত্তরকে ঘিরে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে সেভাবেই কাজে নামানো হচ্ছে। এটা শুধু দিল্লিতে নয়, দেশের যেখানেই বিজেপি’র শাসন রয়েছে সেখানেই এই প্রশ্নে পুলিশ অতিমাত্রায় সক্রিয়। যে সব সাংবাদিক এখনও পেশার গরিমা বিকিয়ে দেয়নি, সত্য ও ন্যায্য প্রতিষ্ঠায় অকুতোভয়। পদে পদে প্রশ্ন করে বিকৃত ও ভুয়া সংবাদের ভিড়ে প্রকৃত সংবাদ তুলে আনে তাদের বারেবারে আক্রান্ত হতে হয়। পুলিশ তাদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এমনকি যখন তখন ডেকে পাঠিয়ে ভয় দেখায়, হুমকি দেয়, এমনকি ‍‌মিথ্যা মামলা সাজিয়ে গ্রেপ্তার পর্যন্ত করে। অনেক সাংবাদিককে এমন এমন কেসে ফাঁসানো হয় যাতে বছরের পর বছর জেলে থাকতে বাধ্য হয়।
গণতান্ত্রিক দেশে (বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে ঢাক পেটানো হয়) গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদমাধ্যমকে মোদী সরকার এভাবেই কুক্ষিগত করে ফেলতে চাইছে। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখার আর একটি হাতিয়ার পুলিশকে শাসক দলের শাখায় পরিণত করে ফেলেছে। পুলিশ আইনের রক্ষক। দেশের সংবিধান এবং আইনসভায় তৈরি আইনের ধারা উপধারা অনুসরণ করেই চলতে হয় পুলিশকে। বাস্তবে তারা শাসকের দাসত্বকেই উপাদেয় মনে করে। তাই সংবিধান এবং আইনের বই শিকেয় তুলে রেখে তারা বিশ্বস্ততার সঙ্গে শাসকের নির্দেশ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে। তাই পদে পদে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কে‍‌ড়ে নিতে তারা উদ্ধত।

Comments :0

Login to leave a comment