সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রাক্তন তৃণমূলী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন সিপিআই(এম)-কে কোন অবস্থাতেই বাড়তে দেবেন না। একই সঙ্গে তিনি একথাও বলেছিলেন তাঁর পুরানো দল তৃণমূলকে গণতান্ত্রিকভাবে খতম করে দেবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা নিছক যে কোনও কথার কথা ছিল না, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত কর্মসূচি সেটা ইতিমধ্যে রাজ্যের সর্বত্র প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। দলের কর্মীরা তৃণমূলী কায়দা গুন্ডা-দুষ্কৃতীদের জড়ো করে প্রবল উৎসাহে নেমে পড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত লক্ষ্য পূরণ করতে।
প্রতিদিনই সেই কোচবিহার থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, রাজ্যের সর্বত্র সিপিআই(এম)’র একাধিক কর্মসূচিতে আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে হামলা করা হচ্ছে। বাধা দেওয়া হচ্ছে। চেষ্টা চালাচ্ছে কর্মসূচি ভণ্ডুল করার জন্য। তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো বিজেপি দুষ্কৃতীদের এমন হামলার পরিকল্পনা আগাম জানা থাকলেও পুলিশ তা আটকানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং দূরে দাঁড়িয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। পুলিশ তৃণমূল জমানার মতো স্বেচ্ছায় শাসক দলের দলদাসত্ব মেনে নিয়ে তাদের সহযোগিতা ও খুশি করার চেষ্টা করছে কিনা স্পষ্ট নয়। অথবা সরকার থেকে এমন আচরণের অঘোষিত নির্দেশ এসেছে কিনা সেটাও স্পষ্ট নয়। তবে বিজেপি যে দলগতভাবে একাজ করছে তাতে সন্দেহ নেই। আদি বিজেপি এবং তৃণমূলী বিজেপি’র মধ্যে যতই অভ্যন্তরীণ বিবাদ থাকুক সিপিআই(এম)’র বিরুদ্ধে অভিযানে তাদের মধ্যে কোনও দ্বিমত বা অনৈক্য নেই। কারণ এটা তাদের কাছে একরকম অস্তিত্বের সঙ্কট। সদ্য অর্জিত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার সঙ্কট।
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে এবং প্রাক্তন তৃণমূলী শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এখনও চার মাস কাটেনি। অথচ এর মধ্যেই তাদের ক্ষমতা হারানোর ভয় মাথার মধ্যে চেপে বসছে। আসলে গোবলীয় সংস্কৃতির আধারে বিজেপি’র যে রাজনৈতিক চরিত্র গড়ে উঠেছে বাংলার চিরাচরিত সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে একেবারেই বেমানান। পদে পদে তাই তাদের ঠোক্কর খেতে হয়। এ রাজ্যে বিজেপি বহিরাগত এমন ভাবনা মোটামুখি মানুষের মনে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। আবার বাঙালি হয়ে ওঠার চেষ্টায় বিজেপি’র তৃণমূলীকরণ যে দুর্বার গতিতে শুরু হয়েছে তাতে বিপদ আরও বাড়ছে। তাছাড়া বিজেপি নেতারা হাড়ে হাড়ে জানে রাজ্যের মানুষের ইতিবাচক ভোটে তারা জয়ী হয়নি। তৃণমূলকে হারাতে মানুষ বিজেপি-কে ভোট দিয়েছেন। তাই গত নির্বাচনে বিজেপি’র ৪৫ শতাংশ ভোট ২৫ শতাংশ হতে বেশি সময় লাগবে না।
এমন এক ভয়ের বাস্তবতায় বিজেপি বুঝতে পারছে তৃণমূলের ফিরের আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। ইতিমধ্যেই উঠে যাবার পথে। কংগ্রেস একান্তই দুর্বল শক্তি। কয়েকটি পকেটেই তাদের অস্তিত্ব। কিন্তু গোটা রাজ্যের সব জেলায় প্রবলভাবে আছে সিপিআই(এম) তথা বামপন্থীরা। গত কয়েক মাসে সিপিআই(এম)’র আন্দোলনের গতি যেভাবে বেড়েছে এবং জনসমর্থন যেভাবে বাড়ছে তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে শুভেন্দুরা। এই অবস্থায় তাদের মনে হয়েছে সিপিআই(এম)-কে না আটকালে তাদের ক্ষমতা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তাই শমীক-শুভেন্দুরা ঠিক করেছে দল ও সরকারকে কাজে লাগিয়ে সিপিআই(এম)-কে ঠেকাতে হবে। তার জন্য গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে ক্ষমতার চূড়ান্ত অব্যবহার করতেও তাদের আপত্তি নেই।
Editorial
সিপিআই(এম)-কে বড্ড ভয়
×
Comments :0