M A Baby

যন্তর মন্তরের আন্দোলন প্রভাব ফেলবে নির্বাচনেও, বললেন বেবি, দিলেন ত্রুটি সংশোধন অভিযানের ব্যাখ্যাও

জাতীয়

যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুব বিক্ষোভ নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। এই বিক্ষোভে স্পষ্ট যে সমাজের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে যুবসমাজ, ভয়কে জয় করে প্রতিবাদে নামছে।
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, নয়াদিল্লিতে একে গোপালন ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। দু’দিন পলিট ব্যুরো বৈঠকের পর এ দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। বেবি বলেন, দেশের ছাত্র-যুব, মহিলা, শ্রমিক-কৃষক সহ সব অংশ রাস্তায় নামলে বিজেপি-কে পরাজিত করা সম্ভব। 
এক প্রশ্নে বেবি বলেন, বিজেপি’র পরাজয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে সিপিআই(এম)। উত্তর প্রদেশ বা পাঞ্জাব, যেখানে বিধানসভা নির্বাচন সামনেই, সেখানে এই লক্ষ্যেই অবস্থান নেবে পার্টি। কারণ বিজেপি পরিচালনা করে ফ্যাসিস্ট লক্ষণসম্পন্ন আরএসএস
পলিট ব্যুরোর বিবৃতিতেও এদিন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগ্রামকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। গত ১০ আগস্ট কৃষক-খেতমজুর সংগঠন  এবং ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের ডাকে ‘জেল ভরো’ কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পড়ার উল্লেখ করা হয়েছে। 
যন্তর মন্তর বিক্ষোভ প্রসঙ্গে আরও বলা হয়েছে যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রছাত্রীরা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নিয়ে আন্দোলনে নামছে। আন্দোলন করছে সরকারি স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার বিরুদ্ধেও।
পলিট ব্যুরো তীব্র সমালোচনা করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দিমাগী নকশাল’ মন্তব্যের। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই শব্দবন্ধ একটি মারাত্মক অস্ত্র যাকে ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণ পথে বিরোধিতার সঙ্গে সশস্ত্র মাওবাদীদের ফারাক মুছে দেওয়া যায়। এই বক্তব্য সুরক্ষার উদ্দেশ্যে নয়। এর উদ্দেশ্য রাজনৈতিক বিরোধীদের আঙিনার বাইরে বের করে দেওয়া। সমালোচনাকে অন্যায্য প্রতিপন্ন করা, বিরোধী স্বরকে দমন করা এর উদ্দেশ্য। সেই সঙ্গে জনকল্যাণ, শিক্ষা বা কাজের প্রশ্নে ব্যর্থতার বিষয়গুলি থেকে চোখ সরাতে আদর্শগত শত্রু তৈরি করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। 
উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকার যেভাবে সিপিআই কর্মীদের দিল্লির সমাবেশে যোগ দিতে বাধা দিয়েছে তারও সমালোচনা করেছে পলিট ব্যুরো। 
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সব ঘটনা দেখাচ্ছে যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সাংবিধানিক কাঠামো আক্রান্ত। জনতাকে নিজেদের অধিকার রক্ষায় এই আক্রমণ প্রতিহত করার ডাক দিয়েছে পলিট ব্যুরো। 
জনগণনা এবং জাত ভিত্তিক তথ্য প্রসঙ্গে পলিট ব্যুরো বলেছে যে প্রায় ১৬ বছর বাদে এই কাজ হচ্ছে যখন নাগিকত্ব, ভোটদানের অধিকার এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তথ্য নেওয়ার পদ্ধতি পুরোপুরি বিজ্ঞানসম্মত নয়। জনগণনার তথ্যের সঙ্গে অন্য সরকারি ডেটাবেসকে সংযুক্ত করার গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে। জনগণনায় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, ভোটার তালিকায় নাম চিহ্নিত করা এবং নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক বিভিন্ন ডেটাবেসে সংযুক্তি নিয়ে আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। 
জনগণনার পর ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া হবে। সংসদে বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব পরিবর্তনে প্রভাব ফেলবে। এই প্রসঙ্গ উল্লেখের পাশাপাশি পলিট ব্যুরো বলেছে যে জাতের গণনার পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ। তফসিলি জাতি ও আদিবাসীরা তালিকা থেকে নিজেদের জাত নির্দিষ্ট করতে পারবেন। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে এমন কোনও তালিকা নেই। উত্তরদাতার বক্তব্যের ভিত্তিতে তা নথিভুক্ত হবে। 
জাতভিত্তিক বৈষম্যের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছে পলিট ব্যুরো। আইআইটি মান্ডি কর্তৃপক্ষ পোস্টার দিয়ে বর্ণাশ্রম প্রথার প্রশংসা করছে। যা অসাংবিধানিক। দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে পলিট ব্যুরো। আবার রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে উত্তরাখন্ডের হলদোয়ানিতে বক্তৃতার পর সভাস্থলকে ধুয়ে দেওয়ার মতো ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে সিপিআই(এম)। 
পলিট ব্যুরো বলেছে ২০১৪-তে বিজেপি কেন্দ্রে আসীন হওয়ার পর থেকে দলিত, আদিবাসী এবং অন্য অনগ্রসর অংশের ওপর আক্রমণ বাড়ছে। 
এক প্রশ্নে বেবি ত্রুটি সংশোধন অভিযানের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে তিনটি বিষয় বিবেচিত হচ্ছে। এক, সংসদ সর্বস্বতার ঝোঁকে, পার্টির সব স্তরে, আমরা আটকে পড়ছি কিনা। সংসদই সব সমস্যার সমাধান করবে ভাবছি কিনা। নিজেকে সংসদীয় পদে দেখতে আগ্রহী হয়ে পড়ছি কিনা। দুই, যৌথ নেতৃত্বের ধারণা কার্যকর করছি কিনা। সেক্ষেত্রে কী ভূমিকা নিচ্ছি। তিন, গণলাইন কার্যকর করতে ভূমিকা নিচ্ছি কিনা। এক সাংগঠনিক বৈঠক থেকে আরেক সাংগঠনিক বৈঠক বা এক কর্মসূচি থেকে আরেক কর্মসূচির মাঝে মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছি কিনা। জনতার বক্তব্য শোনা এবং সংগঠনে তাকে প্রতিফলিত করছি কিনা।  
বেবি জানান ত্রুটি সংশোধন অভিযান শুরু হয়েছে পলিট ব্যুরো থেকে। পলিট ব্যুরো সদস্যরা এই বিষয়ে নিজেদের ভূমিকা জানিয়েছেন। (আরও দেখুন: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দায়ী কর্পোরেটের লোভ, নেপালের বিপর্যয়ে শোক জানিয়ে বলল পলিট ব্যুরো)

Comments :0

Login to leave a comment