আম জনতার প্রতিদিনের জীবনের সঙ্কট একেবারেই চেপে যাওয়া হয়েছে জিডিপি-র তথ্যে। মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপি’র সংখ্যার সঙ্গে জনতার জীবন যন্ত্রণার কোনও সম্পর্কই নেই।
রবিবার, ৬ আগস্ট, বিবৃতিতে একথা বলেছে সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো। গত শুক্র ও শনিবার বৈঠকের পর এদিন বিবৃতিতে কর্পোরেট এবং ধান্দার ধনতন্ত্রকে লাগাতার মদতের নিন্দা করা হয়েছে।
জি সংস্থার মালিক সুভাষ চন্দ্রের ঋণ ছাড় প্রসঙ্গের উল্লেখ করে দেউলিয়া বিধি (ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাঙ্করাপ্টসি কোড বা আইবিসি) বাতিলের দাবি তুলেছে পলিট ব্যুরো। তার বদলে ঋণখেলাপি কর্পোরেটের থেকে টাকা উদ্ধারে কঠোর আইন পাশ করার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিন বিবৃতিতে নেপালে বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব উষ্ণায়ণ, রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের দুর্নীতি, সরকার বিরোধী প্রতিবাদ, ‘দিমাগী নকশাল’ বলে আক্রমণ, জনগণনা ও জাতভিত্তিক গণনা, জাতভিত্তিক বৈষম্য সম্পর্কে বক্তব্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে ত্রুটি সংশোধন অভিযান সম্পর্কে প্রতিবেদন আলোচনা করেছে পলিট ব্যুরো। পার্টি ২৪তম কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির দাবিতে অনেক কিছুই আড়াল করা হয়েছে। শ্রমিক শ্রেণির বাস্তব পরিস্থিতিকে আড়াল করে এমন অর্থনীতির গুনগান করা হয়েছে যা আসলে দেশে গভীর বৈষম্য করেছে। জিডিপি-র তথ্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে।
পলিট ব্যুরো বলেছে, তথ্যে দেশের কৃষি সঙ্কটকে ইচ্ছে করে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। কৃষিতে বৃদ্ধির হার মাত্র ৩.৬ শতাংশ আর খনি ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হয়েছে। কৃষি সরঞ্জামের দাম বৃদ্ধির ফলে কৃষকের যন্ত্রণাকে আড়াল করা হয়েছে এই তথ্যে। যে মানুষ প্রতিদিন দামবৃদ্ধি, অপুষ্টি এবং বেকারির সঙ্গে লড়ছেন, তাঁর সম্পর্কে কোনও কথা নেই।
কর্পোরেট এবং ধান্দার ধনতন্ত্র প্রসঙ্গে পলিট ব্যুরো বলেছে, জনতার অর্থকে সমানে কর্পোরেটের হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষে সংস্কারের কাজ করছে বিজেপি সরকার। ‘সমুদ্র মন্থন’ প্রকল্প, সেমি কন্ডাকটর মিশন, মোবাইল ফোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্রকল্প, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম উৎপাদন প্রকল্পের মতো বিভিন্ন নাম দিয়ে এই কাজ চলছে। কর্পোরেটকে উৎসাহ দেওয়ার নাম করে জনগণের অর্থ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যেও এ কাজ হচ্ছে।
পলিট ব্যুরো বলেছে, সুভাষ চন্দ্রের মামলায় জাতীয় কোম্পানি ল ট্রাইবুনালের রায় জনগণের অর্থ হস্তান্তরকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রের পাশ করা ২০১৬’র দেউলিয়া বিধি এই লুটকে বিধিবদ্ধ করেছে। ‘সহজে ব্যবসা’ নীতিতে জনতার অর্থ কর্পোরেটের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
Polit Bureau on IBC
বাতিল কর দেউলিয়া বিধি, সুভাষ চন্দ্রকে ঋণ ছাড় প্রসঙ্গে দাবি পলিট ব্যুরোর
×
Comments :0