জয়ন্ত সাহা : মাথাভাঙা
নতুন সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর শ্রম দপ্তর রুগ্ন চা বাগানের তালিকা করেছে। ৪০ টি বাগানের নাম সেই তালিকা করেছে বলে জানা গেছে! যেগুলি হয় পুরোপুরি বন্ধ নয়তো নিজস্ব কারখানা থাকা সত্বেও এখন আর উৎপাদন করছে না। পাতা তুলে অন্যত্র বিক্রি হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে সিআইটিইউ নিয়ন্ত্রিত আলিপুরদুয়ার কোচবিহার চা শ্রমিক মজদুর ইউনিয়নের নেতা বিকাশ মোহালি সোমবার সাংবাদিকদের বলেন,"আগের সরকারের মতই বিজেপি সরকার রুগ্ন বাগানের সংখ্যার কারচুপি করছে। শুধু মাত্র আলিপুরদুয়ার জেলাতেই কোহিনূর, বীরপাড়া, জয়-বীরপাড়া, ডিমডিমা সহ ১৩ টি রুগ্ন বাগান রয়েছে। পাহাড়, তরাই সহ রুগ্ন বাগানের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে।
রুগ্ন বাগানগুলির ভবিষৎ অনিশ্চিত মানছে শ্রম দপ্তরের আধিকারিকেরাও। রুগ্ন বাগান প্রসঙ্গে শ্রম দপ্তরের বিশ্লেষন আগের সরকারের আমলে বাগানের মালিকানার হাত বদল ত্রুটিপূর্ণ ছিল। হাতবদলের সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও পালন হয় নি সঠিক ভাবে। বেশ কয়েকটি বাগানের লীজ নবিকরণও হয় নি। এই বাগানগুলি বন্ধ হয়ে যেতে পারে যেকোন মুহুর্তে।
ডুয়ার্স, তরাই এবং দার্জিলিং মিলিয়ে এই ৪০ টি বাগান ছাড়াও আরও বেশ কিছু বাগানের নিয়মিত পিএফ জমা না পড়ার অভিযোগের পাশাপাশি বাগানগুলিতে মজুরি এবং চাকরি শেষে গ্র্যাচুয়িটি না মেলার অভিযোগ রয়েছে শ্রমিকদের। প্রাথমিক নিরিক্ষায় যেসব বাগানের নাম উঠে এসেছে সেই বাগানগুলির সাম্প্রতিক অতীতে কোন না কোন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা রুগ্ন হয়ে পড়ার রেকর্ড রয়েছে। সেই সময়ে বাগান গুলি খুলে দেওয়া হলেও এখন যারা বাগান পরিচালনা করছে সেই মালিক গোষ্ঠী সঠিক ও সুষ্ঠ ভাবে বাগান পরিচালনা করছেন না।
ডাবল ইঞ্জিন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতায় এসে বন্ধ বাগান খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে সময়ে শ্রম দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী বন্ধ ও রুগ্ন বাগানের সংখ্যা ২০/২৫ বলা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সমীক্ষায় সেই সংখ্যা এভাবে বেড়ে যাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে শ্রম দপ্তরের আধিকারিকদের।
সিআইটিইউ সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের দাবি প্রাথমিক সমীক্ষায় রুগ্ন বাগানের যে সংখা সরকারি আধিকারিকেরা তুলে এনেছেন বাস্তবে তার চাইতেও বেশি রুগ্ন বাগান রয়েছে ডুয়ার্স, তরাই ও দার্জিলিঙয়ে।
শ্রম দপ্তর সূত্রে জানা গেছে বাগানে কারখানা থাকা সত্বেও যেসব বাগানে উৎপাদন এই মুহুর্তে হচ্ছে না সেই বাগান গুলিকেই রুগ্ন তালিকায় রাখা হয়েছে।
আধিকারিকদের বক্তব্য কারখানা থাকা সত্বেও উৎপাদন না হলে বুঝে নিতে হয় বাগানের পরিচালন ব্যবস্থা সঠিক নেই।
এদিকে বোনাস নিয়ে ১১ সেপ্টেম্বরের মালিক পক্ষের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের আগে রবিবার শিলিগুড়িতে বসেছিল শ্রমিক ইউনিয়নগুলির "জয়েন্ট ফোরামের" বৈঠক। সেই বৈঠক প্রসঙ্গে বিকাশ মোহালি সোমবার বলেন, আমরা চাইছি দ্রুত মালিক পক্ষ বোনাস নিয়ে মুখোমুখি বৈঠকে বসুক। আমরা জয়েন্ট ফোরাম চাই যেহেতু কয়েক বছর মজুরি বাড়ে নি, এবং দ্রব্যমূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে তাই এবার ২০ শতাংশ বোনাসের সাথে শ্রমিকদের এক্সগাসিয়া দেওয়া হোক।
জয়েন্ট ফোরামের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে পাহাড়, ডুয়ার্স ও তরাইয়ের চা বাগানগুলিতে বোনাস এক্স-গ্রেশিয়া সহ শ্রমকোড বাতিল, শ্রমিকদের পিএফ, এবং গ্র্যাচুয়িটির দাবিতে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর বাগানে বাগানে গেট মিটিং হবে। এবং আগামী ১ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের পিএফ অফিসগুলির সামনে ধর্নায় বসবে শ্রমিকেরা।
Comments :0