নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন বিল্ডিং ধসে পড়ার ঘটনার একদিন কেটে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই, ওই ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সাউথ জোনের ডেপুটি কমিশনার সহ পাঁচ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে যে, ঘটনাটির পঁচিশ ঘন্টা পর ওই বিল্ডিং-র মালিক হরিরাম বানসালকে রাজস্থানের ভিওয়াদি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ধসে পড়া ভবনটির নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে পুলিশ।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের বহু ছাত্রছাত্রী সত্য নিকেতন এলাকায় থাকে। স্নাতক স্তরের বিভিন্ন কলেজের পড়ুয়াও থাকেন। এই পাঁচতলা ভবনের বেসমেন্টে মেরামতির কাজ চলছিল। তার জেরে একটি পিলারের ক্ষতি হয়। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন যে বেসমেন্টে মেরামতির কাজের কারণেই কাঠামো নড়বড়ে হয়ে যায়। কিন্তু এই এলাকায় দু’বছর আগেও একটি বাড়ির বারান্দা ভেঙে পড়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। দিল্লিতে অন্য একটি এলাকায় ইউপিএসসি কোচিং সেন্টারের বেসমেন্টে জল ঢুকে তিন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন কতটা সতর্ক হয়েছে তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
সত্য নিকেতনের এই পাঁচতলা বাড়িতে ছাত্ররাই থাকতেন। এখন বেশ কয়েকজন চাপা পড়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে স্থানীয় সূত্রে।
এনডিআরএফ, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই তাঁদের তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
দিল্লির মন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, পুরনো ভবনটির বেসমেন্টে করা কাজের কারণেই সম্ভবত ধসের ঘটনাটি ঘটেছে। এখন পর্যন্ত ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশ বনসল ও অন্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র ১০৫ (হত্যায় দায়ী তবে খুন নয়), ২৯০ (অবহেলাপূর্ণ নির্মাণকাজ) এবং ১২৫(ক) (জীবন বা ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য বিপজ্জনক কাজ) ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করেছে।
এর আগে পলাতক বিল্ডিং মালিকের বিরুদ্ধে একটি লুক-আউট নোটিশ জারি করা হয়েছিল।
সেইসঙ্গে, এমসিডি-র তরফে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো ভাঙার জন্য নোটিশ জারি করা শুরু করেছে। সত্য নিকেতনের ১৩ নম্বর ভবনটিকে বাসিন্দারা, দর্শনার্থী, পথচারী এবং পার্শ্ববর্তী ভবনগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে সেটিতে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। এরপরই অনেককে ওই অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়।
ওই ভবনটির কাছাকছি একটি হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যমকে বলে, "আমার নাম বিশাল। ভবনটি ধসে পড়ার পর আশঙ্কা দেখা দেয় যে আশপাশের ভবনগুলোও হয়তো ধসে পড়তে পারে। তাই ওই এলাকার সব ভবন খালি করে ফেলা হয়। এখানকার মেয়েদের হোস্টেল সহ অন্যান্য সব ভবনই খালি করা হয়েছিল; আশপাশের সব ভবনই বাসিন্দামুক্ত করা হয়। মূলত সেগুলোতেও ফাটল দেখা দেওয়ার কারণেই এমনটা করা হয়েছিল। কলেজগুলো তাদের আবাসন সুবিধা খুলে দিয়েছিল এবং খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই এখন আত্মীয় বা বন্ধুদের বাড়ি গিয়ে থাকছে।"
Delhi Building Collapse
মৃত বেড়ে ৭, রাজস্থানে ধৃত দিল্লির ধসে পড়া ভবনের মালিক
×
Comments :0