MJN Hospital

মৃতদেহ সংরক্ষণে তীব্র সসমস্য কোচবিহারের এমজেএন হাসপাতাল, দূষণ ছাড়ানোর সম্ভবনা

জেলা

কোচবিহারের মর্গে জায়গার অভাব। ২৪ টি চেম্বারের মধ্যে ২০ টি চেম্বার এই মুহুর্তে অকেজো। বাকি চারটি চেম্বার উপচে পড়ছে বেওয়ারিশ লাশে! স্বাস্থ্য দপ্তর পৌরসভার কোর্টে বল ঠেলে দায় এড়াতে চাইছে! স্বাস্থ্য দপ্তর ও পৌরসভার পরিষেবা কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়ার জন্যই এই দশা বলছেন কোচবিহারবাসী।
এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বিভিন্ন অব্যবস্থা ও চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফের অভাব এবং পরিকাঠামোর অভাবে বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে! এবারে কোচবিবারের এই মেডিকেল কলেজ থেকে ‘বেওয়ারিশ মৃতদেহ’ পাশের আলিপুরদুয়ার জেলায় এমনকি শিলিগুড়িতে পাঠাতে হচ্ছে। কারণ মর্গে জায়গা নেই! 
আর, এতেই স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর নগ্ন চেহারা আরও একবার প্রকাশ্যে এলো। কোচবিহারের যে মর্গ রয়েছে সেখানে খোঁজ নিতেই জানা গেল, এখানকার মর্গে মোট ২৪ টি চেম্বার রয়েছে। গত এক বছরে ২০ টি চেম্বার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। কারণ চেম্বারগুলির ক্ষমতার চাইতেও বেশি মৃতদেহ রাখায় সেগুলি অকেজো হয়ে গেছে। বাকি চারটি চালু চেম্বারেও ধারণ ক্ষমতার চাইতে বেশি মৃতদেহ রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট চারটি চেম্বারও যে কোন মুহুর্তে নষ্ট হয়ে গেলে অবাক হবার কারণ থাকবে না।
উল্লেখ্য; নষ্ট ২০ টি চেম্বারেও রয়েছে পচন ধরা বেওয়ারিশ লাশ। এর থেকে দূষণ ছাড়ানোর সম্ভবনা প্রবল বলেই মনে করা হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রেই জানা গেছে, এখন অবস্থা এমন জায়গায় এসেছে, যে বেওয়ারিশ লাশ ময়না তদন্তের পর আলিপুরদুয়ার কিংবা শিলিগুড়িতে পাঠাতে হচ্ছে। মর্গ সংস্কার, আয়তন ও চেম্বার সংস্কার বা প্রয়োজনের নিরিখে আরও চেম্বার বাড়ানোর কোন পরিকল্পনাই নেই স্বাস্থ্য দপ্তরের।
মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্রেই জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে মৃতের পরিবারের খোঁজ না মিললে সেই মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মর্গে সংরক্ষিত রাখতে হয়। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে মর্গ কর্তৃপক্ষ পৌরসভাকে জানায়। পৌরসভা সেই বেওয়ারিশ দেহ সৎকার করে। অভিযোগ পৌরসভা সেই দায় বহন করছে না। তার জেরেই এই বিভ্রাট! 
এই মুহুর্তে রাজ্যের অন্য পৌরসভাগুলির মত কোচবিহার পৌরসভাও প্রশাসক সামলাচ্ছেন। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি চিঠি দিয়েছেন প্রশাসকের কাছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভেঙে পড়বে গোটা ব্যবস্থা।

Comments :0

Login to leave a comment