KMC DELIMITATION

কোথাও কম কোথাও বেশি! শুনানিতে ডিলিমিটেশনের অসঙ্গতিতে সরব সিপিআই(এম)

কলকাতা

ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া আপত্তি সংক্রান্ত শুনানি চলছে কলকাতা কর্পোরেশনে। শনিবার থেকে এই শুনানির কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত এই শুনানির পর্ব চলবে। 
সোমবার কলকাতা কর্পোরেশনে শুনানিতে ডিলিমিটেশনে অসঙ্গতির একাধিক অভিযোগ করেছে সিপিআই(এম)। ডিলিমিটেশনের পরও কেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যায় বৈষম্য সেই প্রশ্ন তুলেছেন সিপিআই(এম) কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার। তিনি বলেছেন, কমিশন যদি এর পরিবর্তন না করে তাহলে আইনি পথে লড়াই হবে। 
কল্লোল মজুমদার বলেছেন, "ডিলিমিটেশনের আগে কোনও ওয়ার্ডে ৮৪ হাজার ভোট ছিল। আবার কোনও ওয়ার্ডে ৬ হাজার ভোট। দুই ওয়ার্ডেই একজন প্রতিনিধি। এটা হতে পারে না। সে কারণে ডিলিমিটেশনকে আমরা সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু নতুন যা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তাতেও অসঙ্গতি থাকছে।’’
উল্লেখ্য, কলকাতায় ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার শুরুতে লক্ষ্য ছিল প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১৬ থেকে ১৮ হাজার হবে। তার কম থাকলে অন্য অংশের সঙ্গে মিশে যাবে। বেশি থাকলে ভেঙে পুনর্বিন্যাস করা হবে। তবে বাস্তবে গড়ে ১৪-১৯ হাজার ভোটার সংখ্যা থাকবে ধরে নেওয়া হয়েছিল। 


মজুমদার জানান যে এ পর্যন্ত সমস্যা ছিল না। কিন্তু ডিলিমিটেশনের পর দেখা যাচ্ছে 
২৩টি ওয়ার্ডে ৫৬০০ থেকে ১১ হাজার ভোটার রয়েছে। শ্যামপুকুর, বড়বাজারের মতো এলাকায় বিজেপি’র শক্তি বেশি বলে সেখানে পুনর্বিন্যাসে হাত দেওয়া হচ্ছে না। 
মজুমদার বলেন, ‘‘আবার ডিলিমিটেশনের পর ৭টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২০ থেকে ২৮ হাজার। সেই ওয়ার্ডগুলিও অক্ষত রাখা হচ্ছে।’’ 
তিনি আরও বলেন, "চূড়ান্ত বিন্যাসে এই ত্রুটি ঠিক করতে হবে। না হলে আমরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনে যাব। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকেও চিঠি দেব। প্রয়োজনে আইনের পথেও যাব।’’
সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন যে মামলা করে ভোট পিছিয়ে দেওয়া সিপিআই(এম)’র উদ্দেশ্য নয়। মজুমদার বলেন, ‘‘এমনিতেই বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর নাগরিক পরিষেবা প্রায় ভেঙে পড়েছে। বোর্ড গঠন পিছিয়ে গেলে মানুষের সমস্যা আরও বাড়বে। তা আমরা চাই না। তবে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট আকৃতির দাবি জানিয়েছি। দু’টি রাস্তার মধ্যে একটি অংশ অন্য ওয়ার্ডে ঢুকে গিয়েছে। এর ফলে মানুষের পরিষেবা পেতে সমস্যা হবে।’’ 
কল্লোল মজুমদার অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, "এন্টালি অঞ্চলে মুসলিম প্রধান বস্তি ভেঙে অন্য ওয়ার্ডে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এই জন্যই অপ্রয়োজনীয় আকৃতি দিতে হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তা করা হয়েছে।’’ তিনি বলেছেন, ‘‘বিরোধী রাজনৈতিক দল, কোথাও তৃণমূল বা কোথাও সিপিআই(এম) শক্তিশালী হলে সেই এলাকা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন ডিলিমিটেশন হলে প্রতিরোধ করা হবে।’’

Comments :0

Login to leave a comment