Mathabhanga Sub-Divisional Hospital

স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশে চিকিৎসক বদলির অভিযোগ, সঙ্কটে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতাল!

খেলা

নজিরবিহীন ভাবে রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে গত ১৫ দিনের মধ্যে ১৩ জন চিকিৎসকের রিলিজ অর্ডারে স্বাক্ষর করে দিলেন মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাঃ অভিনাশ কুমার সিং! অথচ ভোটের আগে এবং ভোটের  ফল প্রকাশের পরেও শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল "এইমস" গড়া হবে উত্তরবঙ্গে। সাম্ভাব্য জায়গা মাথাভাঙা। এইমস এখন বিশ বাঁও জলে। উলটে মহকুমার গুরুত্বপূর্ন হাসপাতাল চিকিৎসক সংকটে ভুগছে। অথচ কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরেই মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতাল সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে থাকে। আউটডোর ও ইনডোর পরিষেবায়। এটুকুই মন্তব্য করলেন হাসপাতালে মাত্র তিনমাস আগে কাজে যোগ দেওয়া হাসপাতাল সুপার। তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে শুধু এটুকু বলেন,‘‘আমার চাকরী জীবনে সুপার পদে এক সঙ্গে এতজন ডাক্তারকে রিলিজ অর্ডার দিই নি। হাসপাতালের পুরনো কর্মীরাও মনে করতে পারছেন না, একসাথে এতজন চিকিৎসক শেষ কবে বদলি হয়ে গেছে স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশে! মহকুমা হাসপাতালের ৩০০ বেড বিশিষ্ট ইনডোর ও আউটডোরের জন্য ৫৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা ছিল। বাস্তবে এতদিন ৪৫ জন চিকিৎসক সামলাচ্ছিলেন মহকুমা হাসপাতাল। সোমবার থেকে সেই সংখ্যাটা নেমে এলো মাত্র ৩৩ জনে। স্বাস্থ্যভবনের নয়া নির্দেশিকায় মেডিসিন বিভাগে মোট তিনজন চিকিৎসক ছিলেন। এখানে এখন দুজন চিকিৎসক রইলো। অথচ গড়ে ইনডোরে ১০০ জন মেডিসিনের রোগী ভর্তী থাকে। দুজনের একজনকে ওপিডিও সামলাতে হবে। সার্জারি বিভাগে ২ জন চিকিৎসক ছিলেন। একজনকে তুলে নেওয়া হল। এই বিভাগে গড়ে ৪৫ জন রোগী ইনডোরে ভর্তি থাকে। অপারেশন সহ ওই একজনকেই ওপিডি সামলাতে হবে। একজন মাত্র সাইকিয়াট্রিস্ট ছিলেন। তিনিও এদিন বদলি হয়ে গেলেন। শিশু বিভাগে ৬ জন চিকিৎসক ছিলেন। এখান থেকে দুজন বদলি হলেন। শুধু তাই নয় প্রসূতি বিভাগে এই মহকুমা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৪-১৫ টি সিজার হয়। এছাড়াও আছে নরমাল প্রসব। গড়ে ৫০ জন প্রসূতি ভর্তি থাকেন ইনডোরে। মাত্র ৪ জন গাইনোকোলজিস্ট কি করে সামলাবেন ইনডোর, আউটডোর আর অপারেশন থিয়েটার! এর উত্তর কারও কাছেই নেই। মহকুমা হাসপাতাল জুড়ে সোমবার সিকিউরিটি গার্ড থেকে অন্য স্টাফেরা বলছেন, "এবারে বাড়বে রেফারের পরিমান"! মহকুমা হাসপাতাল সূত্রেই জানা গেছে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে গত তিনমাসে তিনবার মেইল গেছে স্বাস্থ্যভবনে। সোমবার মহকুমা হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার চিকিৎসক নিয়োগের চিঠির হার্ডকপি জমা দিতে গেছেন স্বাস্থ্যভবনে। এরই মধ্যে বদলি হয়ে গেলেন ১৩ জন চিকিৎসক! 
মহকুমা হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এই মুহুর্তেই চাই দুজন অর্থোপেডিক দুজন সার্জেন, তিনজন মেডিসিন, একজন গাইনোকলিজস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট। নইলে মহকুমা হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে পড়তে বাধ্য। মহকুমা হাসপাতালের স্টাফ নার্স থাকার কথা ১৮০ জন। আছেন মাত্র ১২৮ জন। হাসপাতালে সাফাই কর্মী ৪৫ জনের মধ্যে আছেন মাত্র ১৪ জন। জিডিএ কর্মীর পরিষেবায় অপরিসীম গুরুত্ব। অথচ এই পদে ৪৫ কর্মী থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ১৫ জন। মহকুমা হাসপাতালে ৭৫ জন হেল্পিং গ্রুপ ডি কর্মী থাকার কথা আছেন মাত্র ১৭ জন! রেডিওলজিস্ট ছাড়া পরিষেবা ব্যহত হচ্ছে। মহকুমা হাসপাতাল নিয়ে কি ভাবছে রাজ্যের শাসক বিজেপি সরকার! সেটা স্পষ্ট না হলেও গত ১৫ দিনে ১৩ জন চিকিৎসককে তুলে নেওয়ার ঘটনায় স্পষ্ট হতে চলেছে মহকুমার সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র!

Comments :0

Login to leave a comment