বাঘের হামলায় জখম হয়েছিলেন দিন পাঁচেক আগে। রায়দিঘির আজিজ মোল্লা চার-পাঁচদিন চিকিৎসাধীন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। সোমবার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগীর ‘ব্রেন ডেথ’ হয়েছে। তাঁদেরই অনুরোধে অঙ্গদানে রাজি হলেন প্রান্তিক মৎস্যজীবী আজিজ মোল্লার পরিবার।
কুলতলি এলাকার কালীবেড়া জঙ্গলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন আজিজ মোল্লা। সুন্দরবনে এই মৎস্যজীবীকে আক্রামণ করে বাঘ। এমন ঘটনা নতুন নয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই জীবিকার সন্ধানে বেরতে হয় প্রান্তিক পরিবারের মানুষকে। তাঁর পরিবারই অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অসুস্থ অন্য রোগীর জন্য কিডনি নিতে চাইছেন চিকিৎসকরা।
আজিজ মোল্লা থাকেন রায়দিঘিতে। সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য সাম্য গাঙ্গুলি জানিয়েছেন যে পরিবার গোড়া থেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ‘ব্রেন ডেথ’ হওয়ার বিষয়টি জানানোর পরও তাঁর সঙ্গেই যোগাযোগ করে পরিবার।
সাম্য বলছেন, ‘‘একেবারে প্রান্তিক পরিবার। মৎস্যজীবী আজিজ মোল্লা বাঘের কবলে পড়েছেন জীবিকার খোঁজে নেমে। সোমবার চিকিৎসকরা জানানা যে ‘ব্রেন ডেথ’ হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান কিডনি দানের অনুরোধ জানান। পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।’’
সাম্য জানিয়েছেন যে পরিবার তাঁকে চিকিৎসকদের অনুরোধের বিষয়টি জানায়। তিনি বলছেন, ‘‘আমরা পরিবারকে বোঝাই যে কেন এই সিদ্ধান্ত অন্য রোগীর জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে। আমাদের সঙ্গে কথা বলে পরিবার অঙ্গদানে রাজি হয়।’’
অতি সম্প্রতি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য দেহদানে নিষেধ করেছেন। তিনি যদিও অঙ্গদানের জন্য বলেছেন। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বক্তব্য, দেহদান বা অঙ্গদানের পরিস্থিতি আলাদা। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানমনস্কতার বিষয়টি জড়িত। একটিতে নিরুৎসাহিত করলে তার প্রভাব অন্য ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। এমন আবহেই এই প্রান্তিক পরিবার দেহদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাম্য বলেছেন যে দেশে এবং রাজ্যে যারা সরকারে আসীন বিভেদের প্রচারে ব্যস্ত তারাই। আজিজ মোল্লার পরিবার জানেন না, জানতে চাননি যে কিডনি যে রোগীকে দেওয়া হবে তার ধর্ম কী। মানবতার দৃষ্টিকোণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংখ্যালঘু এই মৎস্যজীবীর পরিবারের সদস্যরা। সমাজের জন্যই এমন নজির জরুরি।
Organ Donation Fisherman Sundarban
বাঘের থাবায় ‘ব্রেন ডেথ’, অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত আজিজ মোল্লার পরিবারের
ছবি প্রতীকী।
×
Comments :0