Post editorial

অক্ষরের দুনিয়ায় সাক্ষরতা দিবস

সম্পাদকীয় বিভাগ

উর্বা চৌধুরি

“আমাকে কখনও কেউ পড়ায়নি”—  নগর কলকাতার ছেচল্লিশ বছর বয়সি গৃহ-শ্রমিক বলে ওঠেন তাঁর অক্ষরজ্ঞানহীনতার রহস্য। এই উত্তরের সূত্রেই ফের প্রশ্ন ওঠে, কার দায়িত্ব বর্তায় নাগরিককে সাক্ষর করার? ভারতের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতিতে রাষ্ট্রকে বরাবরই এই জাতীয় দায়িত্বভার দেওয়া ছিল। অর্থাৎ কি না গোড়া থেকেই আইনগতভাবে ভারত রাষ্ট্র নাগরিকের শিক্ষা সুনিশ্চিত করার কর্তব্য পালনে বাধ্য না থাকলেও, এই দায়িত্বের নীতিগত বাধ্যতা ছিল। তবে  পরবর্তীকালে ২০০২ সালে এই প্রেক্ষিতে ভারতের সংবিধানে এক তাৎপর্যপূর্ণ সংশোধনী আসে— ভারতের সকল শিশুর অষ্টম শ্রেণি অবধি, অর্থাৎ প্রারম্ভিক শিক্ষা শেষ করা সুনিশ্চিত করতে ভারত রাষ্ট্র বাধ্য থাকবে। যার অর্থ হলো, প্রারম্ভিক (স্কুল) শিক্ষা স্থান পেল নাগরিকের মৌলিক অধিকারে। এবং আরও একটি সংযোজন হলো নাগরিকের মৌলিক কর্তব্যের তালিকায়— সব শিশুর বাবা-মা বা অভিভাবক তাঁদের শিশুদের ১৪ বছর বয়স অবধি, অষ্টম শ্রেণি অবধি, স্কুলে পাঠাতে আইনত বাধ্য থাকবেন। 
সাক্ষরতাকে মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। ১৯৬৭ সাল থেকে সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ পালন করা হচ্ছে। এর ঘোষিত উদ্দেশ্য হলো, নীতি নির্ধারকদের, সংশ্লিষ্ট পেশাদারী ব্যক্তিদের এবং সাধারণ মানুষকে একটি শিক্ষিত, ন্যায়সম্মত, শান্তিপূর্ণ ও মজবুত সমাজ গঠনে সাক্ষরতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দেওয়া। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের স্লোগান হলো “মানুষের জন্য, এই গ্রহের জন্য, সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা” (ইউনেসকো)। 
ন্যাশানাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-৫ (২০১৯-২১)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী এ দেশের সাক্ষরতার হার পুরুষদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ ও নারীদের মধ্যে ৭২ শতাংশ। এবং পশ্চিমবঙ্গে এই হার পুরুষের মধ্যে ৮১.৬ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ৭৬.১ শতাংশ (২০১১-র পর যেহেতু জনগণনার কোনও প্রতিবেদন এখনও অবধি নেই এবং ন্যাশানাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে রিপোর্ট-৬-এর প্রতিবেদনে (২০২৩-২৪) সাক্ষরতার হার সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশিত নয়, তাই উক্ত প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হলো)। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে নারীদের মধ্যে জাতীয় গড়ের তুলনায় ৪.১ শতাংশ বিন্দু সাক্ষরতার হার বেশি হলেও, পুরুষদের মধ্যে এই হার জাতীয় গড়ের তুলনায় ২.৪ শতাংশ বিন্দু কম। কার্যত ২০১১ সালের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে নারীদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ২০২১ সাল অবধি বৃদ্ধি পায়ইনি, এবং পুরুষদের মধ্যেও বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ বিন্দু। দেশের প্রেক্ষাপটে এই পরিসংখ্যান সুনির্দিষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা মধ্যমবর্গীয়। আবার আরও একটি মান্য প্রতিবেদন, পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে ২০২৩-২৪-এর তথ্য জানাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মোট সাক্ষরতার হার ৮০.৫ শতাংশ ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সহ মোট ৩৬টি রাজ্যের মধ্যে তার অবস্থান ২২তম।
অক্টোবর ২০২৫-এর হিসাব অনুযায়ী, গোটা ভারতে শূন্য-ছাত্র স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৮০০০। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এমন স্কুল রয়েছে সব চেয়ে বেশি— ৩৮১২টি। এবং এ রাজ্যে এই শূন্য-ছাত্র স্কুলে শিক্ষক নিযুক্ত রয়েছেন ১৭৯৬৫ জন। আবার বাকি স্কুলে ভাল সংখ্যক ছাত্র থাকা সত্ত্বেও সেগুলি ভুগছে শিক্ষকের অভাবে। ২০১২ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এ রাজ্যে বন্ধ হয়েছে ৭০০০ স্কুল— ২০১২ সালে ছিল ৭৪৭১৭টি প্রাথমিক স্কুল, যা ২০২২ সালে কমে হয়েছে ৬৭৬৯৯টি। কেবলমাত্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ১৩টি ব্লকে বন্ধ হয়েছে ১১৯২টি স্কুল। পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বন্ধ হয়েছে ১০৪৭টি ও পূর্ব মেদিনীপুরে বন্ধ হয়েছে ৯৬৭টি প্রাথমিক স্কুল। 
সরকারি উদ্যোগে চলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই দুর্দশার প্রভাব যে এ রাজ্যে সাক্ষরতার হারের উপর বা স্কুল শিক্ষা সম্পূর্ণ করার হারের উপর পড়বে তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। উপরন্তু গত বেশ ক’বছরে পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের শিক্ষা পরিসরে অবহেলা, দুর্নীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রের শাসক দলের অন্যায় সরকারি শিক্ষা নীতি, সার্বিকভাবে কার্যকরী সাক্ষরতার হার ও সাক্ষরতার উপর অনেকটাই নির্ভরশীল নাগরিকের সচেতনতা ও সক্ষমতার বিকাশকে বিপজ্জনক রকমের ব্যাহত করছে। ভারতের সব রাজ্যের মতো সমগ্র শিক্ষা মিশনের অর্থের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি, সরকার পোষিত স্কুলের সিংহভাগ খরচ চালাতে হয়। রাজ্য সরকারি শিক্ষা দপ্তরের খাত থেকে বরাদ্দ হয় শিক্ষক ও অন্যান্য বিভিন্ন কর্মীদের বেতন।  সমগ্র শিক্ষা মিশনের ৬০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় কেন্দ্রীয় সরকার, ৪০ শতাংশ ব্যয় হয় রাজ্য সরকারের তরফে। ২৫ বছর ধরে চলা এই সমগ্র সশিক্ষা মিশন প্রকল্প ২০১০ সালের এপ্রিল থেকে শিশু শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯-এর বাস্তবায়নের প্রকল্পও বটে। অন্যদিকে, ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির অন্যতম প্রকল্প পিএমশ্রি (প্রধানমন্ত্রী স্কুলস্‌ ফর রাইজিং ইন্ডিয়া), যার আওতায় প্রতিটি রাজ্যে কিছু কিছুমডেল স্কুল বানানো হচ্ছে, হবে। যার ৬০ শতাংশ ব্যয় বহন করবে কেন্দ্র আর ৪০ শতাংশ বহন করবে রাজ্য। এতে শর্ত রাখা হয়েছে, যে রাজ্য এই প্রকল্পে রাজি হবে না, কেন্দ্রীয় সরকার তার প্রাপ্য সমগ্র শিক্ষা মিশনের ৬০ শতাংশ বরাদ্দ অর্থও বন্ধ করে দেবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্রকল্পে সই করতে রাজি হয়নি মূলত প্রকল্পের অর্থকরী শর্তের জন্য ও প্রকল্পের যুক্তিহীন নামের জন্য। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার গত দু’বছর ধরে, পশ্চিমবঙ্গকে সমগ্র শিক্ষা মিশনের অর্থ (৬০ শতাংশ) দেয়নি। স্কুলশিক্ষায় এরকম বেপরোয়া অত্যাচার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিরল। শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের এই যাবতীয় প্রবঞ্চনার ফলে রাজ্যে একদিকে যেমন বাড়ছে শিশুদের স্কুলছুট হওয়ার প্রবণতা, আরেকদিকে তেমনই কমছে কার্যকরী সাক্ষরতার পরিমাণ। 
রাজ্যে মাস চারেক হলো নতুন সরকার, নতুন শাসক দল। চার মাসের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কোনও রাজনৈতিক দলের শাসক-চরিত্রের মূল্যায়ন সম্ভব নয়, এমনটা অনেকেরই অভিমত। তবে শ্রমজীবী মানুষ সাময়িক সিদ্ধান্ত যা-ই নিন, শাসকের অভিসন্ধি বুঝতে তাঁর বিস্তর সময় লাগে না। পশ্চিমবঙ্গের নতুন শাসক দল, দেশের ক্ষেত্রে নতুন নয়। ২০১১ সালের সাক্ষরতার হারে পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে নিচে ছিল যে ১৭টি রাজ্য, তার মধ্যে ২০০১ সাল থেকে ২০১১ সাল অবধি হিমাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ড বাদে সব কটি বিজেপি বা তার শরিক শাসিত রাজ্য ছিল। কাজেই রাজ্যের সরকার চালানোর প্রশ্নে হোক বা কেন্দ্রের সরকার চালানোর প্রশ্নে হোক, সাক্ষরতাকে সর্বজনীন মানবাধিকার বা ভারতের নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসাবে দেখার সদিচ্ছা বিজেপি বা বিজেপি চালিত জোটের আছে বলে প্রমাণ হয়নি। তবে উলটো কথা বারংবার প্রমাণ হয়েছে— নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র মতো শিক্ষার অধিকার আইনকে অগ্রাহ্যকারী নীতির খসড়া বানানো, প্রনয়ণ করা, উদ্‌যাপন করা, সেই নীতিকে হাতিয়ার করে রাজ্যগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা এবং শিক্ষা ও সাক্ষরতাকে সুনিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় কর্তব্য অস্বীকার করার উদ্দেশ্য এই স্বেচ্ছাচারী গৈরিক বাহিনীর নির্ঘাৎ রয়েছে। পিএমশ্রি যোজনার বরাদ্দ-শর্ত তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কেরালা, পঞ্জাব অনিচ্ছুক হয়েও এই যোজনাকে গ্রহণ করতে বাধ্য হয় ২০২৫ সালে, এবং তামিলনাডু ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্য আত্মসমর্পণ না করায় সমগ্র শিক্ষা মিশনের কেন্দ্রের বরাদ্দ থেকে বঞ্চনার সম্মুখীন হয়। 
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, নিরক্ষরতার উৎসমুখ রোধ করা ও সকল শিশুর স্কুল-শিক্ষা সুনিশ্চিত করার প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিজেপি-চালিত সরকারকে সন্দেহ এবং প্রশ্নের মুখে ফেলা দরকার গুরুতর বিচারে। আমাদের জানা প্রয়োজন, ২০২০-র শিক্ষানীতিতে অঙ্গনওয়াড়ির মতো শিশু-বিকাশ কেন্দ্রকে স্কুলের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে প্রাথমিক স্তরের প্রথম দুই শ্রেণি ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকে প্রাক-বিদ্যালয় স্তরের ব্লকে রাখা, বা উচ্চ-প্রাথমিক স্তর শুরু হওয়া মাত্র ভোকেশানাল প্রশিক্ষণের নিয়ম চালু করে শিশুদের আবশ্যিক প্রারম্ভিক শিক্ষার দর্শনকে নড়বড়ে কর হয়েছে। অথবা নীতিটিতে ‘মুক্ত-শিক্ষা’, ‘বিকল্প শিক্ষার’ মতো আধা-প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার (ইনফরমাল এডুকেশন) রমরমা মারফত কার্যকরী সাক্ষরতা ও প্রারম্ভিক শিক্ষাকে বিপন্ন করা হলো কোন যুক্তিতে? 
এ রাজ্যে বঙ্গীয় সাক্ষরতা প্রসার সমিতি আজকের দিনেই উদ্‌যাপন করছে তার চল্লিশতম প্রতিষ্ঠা দিবস। শিক্ষাশ্রয়ী সমাজের লক্ষ্যে কর্মরত, বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদে সম্মত এবং অবিজ্ঞান-বিমুখ সব মানুষের মতো এই সংগঠনের কর্মীদেরও উপলব্ধি যে, নিরক্ষরতার আঁধার বহুমুখী, বহুস্তরীয়। অক্ষরের দুনিয়ায় কোনোদিন অক্ষর যিনি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেলেন না, সেই শ্রমজীবী প্রবঞ্চিতেরা বাস করছেন অক্ষরজ্ঞান-বঞ্চনার সবচেয়ে প্রকট পাটাতনে, আবার যাঁরা কিছুদিন স্কুলে গিয়েও ছাড়তে বাধ্য হলেন প্রাথমিক বা উচ্চ প্রাথমিক শেষ করার আগেই, তাঁদের মধ্যে প্রচুর মানুষের চর্চার অভাবে কার্যকরী সাক্ষরতা প্রায় নিঃশেষ হয়েছে বা হতে বসেছে। 
প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী শ্রমজীবী মানুষের অর্থবহ শিক্ষা-সাক্ষরতাকে সীমাবদ্ধ করতে নীতিগতভাবে উৎসুক। সেজন্যই যে প্রগতিশীল বাহিনী সমাজ-রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয়, সেই বাহিনীর প্রত্যেক সাক্ষরের জরুরি কাজ অক্ষরজ্ঞান-বঞ্চিতদের সাক্ষর হতে সহায়তা করা। এই কাজ কোনও বায়বীয়, রোম্যান্টিক সমাজ-সেবা নয়। এই কাজ রাষ্ট্রকে দিয়ে নাগরিকের সাক্ষরতা সুনিশ্চিত করিয়ে নেওয়ার আন্দোলনের মতো আবশ্যিক। তাই কৃত্য। এই সার্বভৌম্য, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্রের নির্বাচনী বন্দোবস্তে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ভোট ব্যবহৃত হয় সরকার গঠনের মতো বা আইনসভার সদস্য, বিদেশনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষানীতি, স্বাস্থ্যনীতি নির্মাতাদের নির্বাচন করার মতো গুরুতর উচ্চমার্গীয় কাজে। অথচ এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে হামেশাই বলা হয় – ওরা সাধারণ মানুষ, ওরা অচেতন, ওরা জটিল কিছু বোঝে না, ওদের জন্য চাই ওদের বুদ্ধি-মাফিক বিশেষ প্রচার কায়দা, ওদের বোধ-মাফিক জনসংযোগ কৌশল। বোধবুদ্ধির প্রশ্নে সব বাহিনীর কাছেই কমবেশি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ হলেন “ওরা”, অপরায়িত। 
ফলে জনসংযোগের কুশল ভাষা যত দিন যাচ্ছে “সরল” থেকে হয়ে চলেছে “চটুল”, “মোটা দাগের”, “যুক্তিহীন” এমনকি “অশ্লীল”, “কদর্য”। দেশের শাসক নির্বাচনের মেধা যে “সাধারণ মানুষের” থাকে, কাজের কথা, জটিল হলেও, সেই “সাধারণ মানুষ” যে বুঝতে অক্ষম নন, তা বিরাট সংখ্যক রাজনৈতিক কর্মী-সংগঠকেরা মেনে নিতে পারেন না। সহায়তা আসলে দরকার অক্ষর চিনে, পড়তে-লিখতে-বুঝতে পারার গতিময়, কেজো দক্ষতা অর্জনে। ১৯৫৬ সালে মাস-এডুকেশন-এর এক রিভিউ কনফারেন্সে প্রিয় নেতা হো চি মিন বলছেন— সাক্ষরতা ও জনশিক্ষার কাজটি অসুবিধাজনক ও কঠিন এবং এ কাজ কোনও খ্যাতিই দেয় না।…শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণ—উভয়ক্ষেত্রেই জনশিক্ষা আন্দোলনের প্রধান শক্তি হলো যুবসমাজ। সর্বত্র যুবসমাজকে এই দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। উভয় ক্ষেত্রেই যুবসমাজকে সবসময় সামনে থাকতে হবে।
প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী-সংগঠকেরা প্রিয় নেতার বলা এই সারসত্যটুকু বুঝে নিতে পারলে জনসংযোগের কৌশলে “নিরক্ষরকে” “সাক্ষর” করার কর্মসূচিটিও রাখবেন বলে আশা রাখা যায় এই আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে। যাতে শ্রমজীবী মানুষ দেয়াল-লিখন থেকে শুরু করে ইস্‌তেহার অবধি নিজে পড়ে নিজেই বিশ্লেষণ করতে পারেন।  

Highlights

নিরক্ষরতার আঁধার বহুমুখী, বহুস্তরীয়। অক্ষরের দুনিয়ায় কোনোদিন অক্ষর যিনি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেলেন না, সেই শ্রমজীবী প্রবঞ্চিতেরা বাস করছেন অক্ষরজ্ঞান-বঞ্চনার সবচেয়ে প্রকট পাটাতনে। প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী শ্রমজীবী মানুষের অর্থবহ শিক্ষা-সাক্ষরতাকে সীমাবদ্ধ করতে নীতিগতভাবে উৎসুক। সেজন্যই যে প্রগতিশীল বাহিনী সমাজ-রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয়, তার প্রত্যেক সাক্ষরের জরুরি কাজ অক্ষরজ্ঞান-বঞ্চিতদের সাক্ষর হতে সহায়তা করা।

Comments :0

Login to leave a comment