Tarapith Hotel Fire

তারাপীঠের হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে মৃত অন্তত সাত

রাজ্য জেলা

রণদীপ মিত্র: তারাপীঠ

ভোররাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন দর্শনার্থীরা। শ্রাবন মাসের শেষ সোমবার বলে এমনিতেই তারাপীঠে দর্শনার্থীরা ঢল নেমেছে। ফলে হোটের পর হোটেল ভীড়ে ঠাসা। তেমনই একটি হোটেল ‘বিদেশিনী’। তারাপীঠে থানার কাছেই থাকা এই হোটেলটি থেকে আচমকা ধোঁয়া বেরোতে থাকে সোমবার ভোর চারটে সাড়ে চারটে নাগাদ। বাইরের রাস্তায় সবে যে ক’জন ঘুমের আড়িমুড়ি ভেঙে উঠেছিলেন তাঁরা স্তম্ভিত হয়ে যান। ভেতরে তখন শুরু হয়ে যায় আবাসিকদের আর্তনাদ। একতলা, দু তলা, তিন তলা জুড়ে তখন শুধু ধোঁয়াই ধোঁয়া। হুলুস্থূল পড়ে যায় হোটেল জুড়ে। সম্বিত ফিরতেই স্পষ্ট হয়, হোটেলের অভ্যর্থনা কক্ষে থাকা এসি মেশিনের সংযোগ থেকে আগুন লেগেছে। যা ছড়িয়ে পড়েছে এক তলা জুড়ে। আর হোটেলে প্রবেশদ্বার, প্রস্থান দ্বার, জানালা দরজা সব বন্ধ থাকায় ধোঁয়া গ্রাস করেছে গোটা হোটেলকে। কমকরে বিশ থেকে তিরিশ জন ছিলেন হোটেলের ভেতরে। কেউ বাথরুমে জানালার কাঁচ ভেঙে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। কেউ সিঁড়ি দিয়ে নেমে বেরোবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আপদকালীন প্রস্থানের দরজা বন্ধ থাকায় ধাক্কা খেতে হয়েছে অনেককেই। আটকে থাকতে হয়েছে হোটেলের ভেতরে। খবর পৌছায় তারাপীঠ থানায়। ছুটে আসে দমকল। শুরু হয় উদ্ধার কাজ। কিন্তু ততক্ষনে তারাপীঠে মর্মান্তিক মৃত্যু মিছিল। পুলিশ জানায়, মোট বাইশ জনকে হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারমধ্যে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। দু-জন চিকিৎসাধীন আছেন আশঙ্কাজনক অবস্থায়। 
হোটেলের মালিক কল্যাণ পালের বক্তব্য, তাঁদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল না। পিছনের দিকে বেরোনোর দরজাও ছিল। কিন্তু আগুন লেগে যাওয়ায় তৎক্ষণাৎ হোটেলকর্মীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন। ফলে অন্ধকারে অনেকে পিছনের দরজা খুঁজেই পাননি। তাঁরা সামনে রিসেপশনের দিক দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন। তখনই অনেকে আগুনের মুখে পড়েন।’’
দমকলের ওসি নীলাদ্রি মজুমদার জানিয়েছেন, ‘‘হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল। নিয়ম মেনে দু’টি সিঁড়ির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। কিন্তু সিঁড়ির জানলা বন্ধ থাকায় ধোঁয়া বাইরে বেরোতে পারেনি। তাই ধোঁয়ায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।’’  বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বুন্দেশ জানিয়েছেন, ‘‘হোটেলের মালিককে আটক করা হয়েছে। ফরেন্সিক দল আসছে। তাঁরা তদন্ত করে যে রিপোর্ট দেবে তার প্রেক্ষিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ তবে মৃতদের পরিচয় এখনও জানা যায় নি। তবে আবাসিকরা যে রাজ্য ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছিলেন তা পরিস্কার হয়েছে। জখমদের চিকিৎসার দেখভালের জন্য রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌছে সিপিআই(এম) নেতা সঞ্জীব মল্লিক, অমিতাভ সিংরা জানিয়েছেন,‘‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। মৃতদের পরিবারবর্গদের প্রতি সমবেদনা জানাই। বাইরে থেকে আসা পুণ্যার্থীদের সর্বতভাবে আমরা সহায়তা করব।’’

Comments :0

Login to leave a comment