প্রায় ২৮ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ ঘিরে ফের অনিয়মের অভিযোগ উঠল। ছয়তলা হাসপাতাল ভবনের ঢালাইয়ের কাজে পাঁকুড়ের পাথরের পরিবর্তে চামুর্চির পাথর ব্যবহারের অভিযোগের পর এবার দেওয়াল গাঁথনিতে নিম্নমানের ‘কাট্টা’ বা সিমেন্টের ইট ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধীন ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে হাসপাতাল ভবনটির নির্মাণকাজ চলছে। তিন দফায় অর্থ বরাদ্দের পর বর্তমানে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে দুটি ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় দেওয়াল গাঁথনির কাজ চলছে।
অভিযোগ, দেওয়াল তৈরিতে পোড়া মাটির ইট কিংবা নির্ধারিত মানের ফ্লাই অ্যাশ ইটের পরিবর্তে ‘কাট্টা’ বা সিমেন্টের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের দাবি, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে এই ধরনের ইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমোদন ও মান বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ আরও, ‘কাট্টা’ বা সিমেন্টের ইট দিয়ে গাঁথনি করার পর তার উপর সিমেন্টের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাইরে থেকে গাঁথনিটি সাধারণ ইটের মতো দেখাচ্ছে।
হাসপাতালের মতো জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নির্মাণকাজে কোনও ধরনের অনিয়ম হলে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। ফলে নির্মাণকাজের গুণমান যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
সিপিআই(এম) ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার বলেন, ধূপগুড়িবাসীর দীর্ঘ আন্দোলনের ফল এই মহকুমা হাসপাতাল। তাঁর অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।
ধূপগুড়ি কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক নিশীথ পাল জানান, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজে ‘কাট্টা’ বা সিমেন্টের ইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম ও অনুমোদনের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ব্যবহার করা হলে তার প্রতিবাদ করা হবে।
ধূপগুড়ি মহকুমা নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক অনিরুদ্ধ দাশগুপ্ত বলেন, হাসপাতালের নির্মাণকাজে কোনও ধরনের গুণগত শিথিলতা মেনে নেওয়া হবে না। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে সত্যতা প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ নিয়ে নির্মাণসংস্থার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ক্যামেরার সামনেও কথা বলতে অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেডের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল) জয়দীপ ওঝা জানান,বিষয়টি তাঁর কাছে নির্দিষ্টভাবে জানা নেই। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নির্মাণকাজের গুণমান নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর এখন প্রশ্ন, সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান কতটা নির্ধারিত নিয়ম মেনে হচ্ছে এবং অভিযোগ সত্য হলে তার দায় কার?দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
Dhupguri Sub-Divisional Hospital
ধূপগুড়ির নির্মীয়মাণ মহকুমা হাসপাতালের কাজে অনিয়মের অভিযোগ
×
Comments :0