Tarapith Fire

তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ডে ধূপগুড়ির যুবকের মৃত্যু

রাজ্য জেলা

কৌশিক দাম: ধূপগুড়ি

তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। তদন্তে নেমে হোটেলের মালিক কল্যাণ পালের পর তাঁর বাবা প্রবীর পালকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। সোমবার মধ্যরাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে তারাপীঠ থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, বাবা-ছেলে ওই হোটেলটি পরিচালনা করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে আগুন লাগার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। পুলিশ ৪৩ জনকে বের করে আনে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকজন। মঙ্গলবার সকালে হোটেল লাগোয়া পুকুরে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, হোটেল সংলগ্ন পুকুরে কেউ ঝাঁপ দিয়ে থাকতে পারেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোট ৪৩ জনকে হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে ২৮ জন্য সম্পূর্ন সুস্থ। সাতজন চিকিৎসাধীন এবং নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ৯ জনের মধ্যে ৫ জনই মেঘালয়ের বাসিন্দা এবং তাঁরা একই পরিবারের সদস্য। তাঁদের মধ্যে দু'জন শিশুও রয়েছে। আলিপুরদুয়ারের তিনজন।‌ রয়েছে আট ও দশ বছরের দুই শিশু। মেঘালয়ের পাঁচজন হলেন রাজেন্দ্র নাথ, আশা নাথ, বুরন মোদক, শিবরাজ মোদক(১০) ও উশনাথ মোদক (৮)। আলিপুরদুয়ারের তিনজন হলেন কমল রায়, অমিত পাল ও সুবির সাহা। অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে ধূপগুড়ির এক যুবকেরও। মৃতের নাম রাকেশ শর্মা। এলাকায় ‘রাখি’ নামে পরিচিত ওই যুবকের বাড়ি ধূপগুড়ি পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের গয়েরকাটা স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায়। এই অগ্নিকাণ্ডের খবর ধূপগুড়িতে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার, পরিজন ও বন্ধুদের মধ্যে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার আলিপুরদুয়ারের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে ধূপগুড়ি থেকে দেওঘরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন রাখি। সেখানে শিবের মাথায় জল ঢেলে পুজো দেওয়ার পর ফেরার পথে রবিবার তারাপীঠে পুজো দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। সেই কারণে রাতে একটি হোটেলে আশ্রয় নেন তাঁরা। সোমবার ভোরে আচমকাই ওই হোটেলে বিধ্বংসী আগুন লাগে। আগুনের লেলিহান শিখায় হোটেলের ভিতরে বহু মানুষ আটকে পড়েন।
দমকলকর্মী ও পুলিশ হোটেল থেকে রাখিকে উদ্ধার করে রামপুরহাট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ধূপগুড়িতে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা ও বন্ধুবান্ধবরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাখি সকলের সঙ্গে মিশুক ও হাসিখুশি স্বভাবের ছিলেন। মিলপাড়ার একটি হার্ডওয়্যার দোকানে কাজ করতেন তিনি। এর আগেও একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলেন।
প্রতিবছরই দেওঘরে যেতেন রাখি। এ বছরও সেই উদ্দেশ্যেই বেরিয়েছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর ছয় মাসের কন্যাসন্তান রয়েছে। দেওঘর থেকে ফিরে মেয়ের মুখে ভাতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রামপুরহাট হাসপাতালে রাখির দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। এরপর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তাঁর ভাই-সহ আরও দু’জন রামপুরহাট হাসপাতালে রয়েছেন। তাঁরা দেহ ধূপগুড়িতে নিয়ে আসবেন বলে জানা গিয়েছে। তরুণ বয়সে রাখির এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা ধূপগুড়ি শহর।

Comments :0

Login to leave a comment