আড়াই মাসের মধ্যে ইন্দাসের কারিষুন্ডা গ্রামে মহম্মদ শেখ মফিকের নামে বিশ্বমানের স্কুল তৈরির চুড়ান্ত ঘোষণা হবে। পাশাপাশি তাঁর ছেলে আবদুল হাপিজের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। শেখ মফিকের খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত বাকি অপরাধীদের সবাইকে দশদিনের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হবে।
মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় জেলা শাসকের দপ্তরের বাইরে ককরোচ জনতা পার্টির দীর্ঘ অবস্থানের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থান ওঠে।
প্রশাসন জানায় আবদুল হাফিজের ওপর আক্রমণ এবং তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে বাবার শেখ মফিকের খুনে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবী রাজ্য সরকারকে জানানো হবে।
সিজেপি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি দশদিনের মধ্যে পূরণ না হলে কলকাতার রাজপথ দখল নেবে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাঁকুড়া মাচানতলা থেকে শুরু করে তামলিবাঁধ, জেলাশাসকের দপ্তর সংলগ্ন এলাকা সহ পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ হয়ে গিয়েছিল। ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে মোকাবিলা করার জন্য রাখা হয়েছিল জলকামান, কাঁদানে গ্যাস সহ যাবতীয় ব্যবস্থা। ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের অভিযোগ বিভিন্ন জায়গায় সোমবার পুলিশ ফোন করে আন্দোলনকারীদের হুমকিও দিয়েছে যাতে তারা মঙ্গলবার অবস্থানে না আসে। তাছাড়া মঙ্গলবার বেলিয়াতোড়ে একটি গাড়িও আটকে দেয় পুলিশ।
গত ১৩ আগস্ট বাঁকুড়ার ইন্দাসের করিষুন্ডা গ্রামের যুবক আবদুল হাপিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধানশিক্ষক কাশীনাথ দে’র কাছে স্কুলের ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি, তাদের মিড ডে মিলের খাবার, স্বাস্থ্যের অবস্থা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নিতে যায়। প্রধান শিক্ষক তাকে পরে এসব জানাবো বলে স্থানীয় বিজেপি নেতাদের কাছে খবর পাঠান। সেদিনই সন্ধ্যায় আবদুল হাফিজের বাড়িতে গিয়ে বিজেপির নেতা শেখ আজাদ, পিন্টু মাঝি সহ ১৫জনের একটি টিম গিয়ে বাড়ির বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিয়ে আবদুলের উপর কাটারি, লাঠি, রড দিয়ে হামলা শুরু করে। তার আর্তনাদে মা হাসিনা বিবি তার বাবাকে খবর দিলে পাউরুটি হকার বাবা মহম্মদ শেখ মোফিক ছুটে আসেন। তিনি ছেলেকে বাঁচাতে তাকে ঘরে ঢুকিয়ে দেন কোনক্রমে। এই অবস্থায় ওই ১৫ জন শেখ মফিকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রক্তাক্ত করে তাঁকে।
এই অবস্থায় ইন্দাস হাসপাতালে দু’জনকে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও বিজেপি বাহিনী হাসপাতাল ঘিরে রাখে। চিকিৎসক ভয় চিকিৎসা করতে চাননি। সামান্য প্রাথমিক চিকিৎসা করেই দু’জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পর তাঁরা যখন বাড়ি ফিরছিলেন তখন খোসবাগ গ্রামে তাঁদের গাড়ি আটকে চড়াও হয় বিজেপি বাহিনী। আবদুলের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। তার বাবার তলপেটে বারে বারে লাথি মারা হয়। পরের দিন শেখ আজাদ তাদের বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে জানায়, পুলিশকে কিছুই বলা যাবে না। আর আবদুল যে স্কুলে গিয়ে ভুল করেছে তা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে আবদুলকে জানে মেতে দেওয়া হবে।
আবদুল জানায়, সে দিল্লিতে ককরোচ পার্টির কর্মসূচিতে গিয়েছিল। সেখান থেকে আন্দোলনের ছবি, ভিডিও পাঠায় সামাজিক মাধ্যমে। তার পর গ্রামে ফিরে আসার পরই বিজেপি’র লোকজনের রোষের মুখে পড়ে। তাকে হুমকিও দেয়। এই অবস্থায় ১৫আগস্ট মহম্মদ শেখ মোফিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেদিনই তিনি মারা যান। এর পর সারা রাজ্যজুড়ে এই ঘটনার প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নামেন।
করিষুন্ডা গ্রামে যান সিপিআই(এম) নেতা শতরূপ ঘোষ, এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে, জেলার যুব ও কৃষক, শিক্ষক নেতারা। আন্দোলনের চাপে পর্যায় ক্রমে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। আবদুলের অভিযোগ এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত বিজেপি নেতা সৌরভ বৈরাগ্য এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে।
Comments :0