JUTA opposes state bill

বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের বিলের বিরোধিতা জুটা'র

রাজ্য

রাজ্য সরকার প্রস্তাবিত ' দ্যা ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি এন্ড কলেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এন্ড রেগুলেশন আমান্ডমেন্ট বিল, ২০২৬'-এর মাধ্যমে  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রাজ্যের যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, মঙ্গলবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জুটা) তরফে বিবৃতি দিয়ে তার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে । 
সোমবার মন্ত্রীসভার বৈঠক থেকে ‘দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর তড়িঘড়ি রাজ্য বিধানসভার মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য বিশেষ অধিবেশন ডেকে তা পাশ করিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে রাজ্য সরকার। বিবৃতিতে জুটার তরফ এই বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার ও চাকরির নিরাপত্তার উপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করা হয়েছে। 
জুটা তরফে বলা হয়েছে , " প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ও নির্দিষ্ট পরিচালনবিধি রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াও সেই ভিত্তিতেই হয়ে থাকে। তাকে  উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ নতুন শর্তে কাজ করাতে বাধ্য করার নীতি স্বাভাবিক আইনের পরিপন্থী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভিডেন্ট ফান্ডের যে আইনি প্রভিশন রয়েছে এই আইনে কি তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে? তাছাড়া এর ফলে গবেষণার বিষয়টিও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। রিসার্চ প্রজেক্টে যে সমস্ত যন্ত্রপাতি আসে সেগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকে। গবেষক ছাত্র নথিভুক্ত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ রিসার্চ প্রজেক্ট এবং গবেষক ছাত্রের তত্ত্বাবধান, এই দুই ক্ষেত্রেই অধ্যাপকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে যা তাঁর অনুপস্থিতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।  সরকার যেভাবে পুরো ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীভূত করতে চাইছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসনের ভিত্তিকে দুর্বল করবে যা ইউ জি সি'র মৌলিক নীতির পরিপন্থী। সর্বোপরি, এই আইন সরকারি নীতির সমালোচকদের জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার হবেনা তো?"
জুটার তরফে আরও বলা হয়েছে , "দেশের কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারি এবং বিদেশের স্বীকৃত উচ্চশিক্ষায় এধরণের মডেল নেই। যেকোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উৎকর্ষের সঙ্গে মানবসম্পদ হিসেবে শিক্ষক সমাজের ভূমিকা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এই নীতিতে কার্যত পাবলিক এডুকেশন সিস্টেমকে দুর্বল করে বেসরকারি ব্যবস্থার পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।"
এই বিলে বর্তমান চাকরির শর্তের বাইরে কোনও অবস্থাতেই নতুন শর্ত আরোপ করা যাবেনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবদ্ধ অধিকার খর্ব করা চলবে না বলেও দাবি জানিয়েছে জুটা।

Comments :0

Login to leave a comment