সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেহালা বিমানবন্দর ফের চালুর ব্যাপারে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন। যেখানে উল্লেখ করেছেন বেহালা বিমানবন্দরটি ৯১৫ মিটার এবং সেটি এটিআর ৭২ বিমান চলাচলের উপযুক্ত।
আর এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, কোচবিহার বিমানবন্দরটি ১০৬৯ মিটার কিন্তু বিমান চলাচলে অনুপযুক্ত! যদি বেহালায় ৯১৫ মিটারে এটিআর ৭২ চলতে পারে তবে কোচবিহার বিমানবন্দরে নয় কেন? দুই ক্ষেত্রে দুই নিয়ম কেন? এ প্রশ্নের উত্তর রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকারকেই দিতে হবে।
উল্লেখ্য,কোচবিহার বিমান বন্দর থেকে ৯ আসনের একটি বিমান চলাচল করতো সেটিও এখন বন্ধ রয়েছে।এই বিমানবন্দর থেকে এখন আর কোন উড়ান ওঠা নামা করে না। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক থেকেই বারবার বলা হয়েছে রানওয়ে বড় না করলে বেশি আসনের বিমান চালানো যাবে না। প্রশ্ন এখানেই বেহালায় যদি কোচবিহারের চাইতে ছোট রানওয়ে সত্বেও মুখ্যমন্ত্রী বেশি আসনের উড়ান চালানোর কথা বলেন তবে কোচবিহার ব্রাত্য কেন?
এমনিতেই ভারতীয় আকাশে এক অদ্ভুত বৈপরত্ব চলছে।বড় শহরে বিমান জট চলছে। সেখানে উড়ান নামতে চেয়েও টাইম স্লট পাচ্ছে না। অন্যদিকে ছোট শহরের রানওয়ে ফাঁকা পড়ে থাকছে।
এই মুহুর্তে দেশের অভ্যন্তরে সব মিলিয়ে ১৬৬ টি বিমানবন্দর রয়েছে। যার মধ্যে কোচবিহারের মত ১৫ টি বিমানবন্দরে কার্যত বিমান চলাচল করেই না। আবার হুবলি, মাইসুর কিংবা বেলাগাভির মত আঞ্চলিক বিমান বন্দরে বিমান ওঠানামা এক ধাক্কায় ৬০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। এগুলিকে স্বাভাবিক না করে ভারত সরকার ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩৫-৩৬ আর্থিক বছরে নতুন করে ১০০ টি বিমান বন্দর গড়তে চাইছে। যার জন্য খরচ হবে ২৮,৮৪০ কোটি টাকা! স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে জনগনের করের টাকায় কোচবিহারের মত অসংখ্য ঝাঁ চকচকে রানওয়ে, টার্মিনাল গড়ে কি লাভ! যদি সেখান থেকে উড়ান না ওড়ে?
এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানবন্দর তখনই সফল হবে যখন তার চারপাশে সুস্থ বাণিজ্যিক পরিবেশ তৈরি হবে। বেসরকারি বিমান সংস্থা গুলির আগ্রহ জন্মাতে চাই পর্যটকদের যাতায়াত, নিরবিচ্ছিন্ন সড়ক ও রেল যোগাযোগ। এসব ছাড়া নতুন নতুন টার্মিনালের ফিতে কাটলেও তার ভবিষৎ কোচবিহার বিমান বন্দরের মতই হবে।
কোচবিহার বিমানবন্দরের বর্তমান রানওয়ের দৈর্ঘ ১০৬৯ মিটার। জেলা প্রশাসন আরও প্রায় সাড়ে ৪০০ মিটার রানওয়ে বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠাতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। গত ১৫ মে থেকে এই বিমানবন্দরে ৯ আসনের ছোট বিমানটিও আর ওঠানামা করছে না।
কোচবিহারবাসীর একটাই প্রশ্ন, ডাবল ইঞ্জিন সরকার ভোটের আগে উড়ান চালু নিয়ে বিস্তর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ভোট ফুরিয়ে সরকার গড়ে সেসব প্রতিশ্রুতি কি ভুলে গেল? নইলে অপেক্ষাকৃত ছোট রানওয়ের বেহালা বিমানবন্দর থেকে উড়ান চালুর প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রী পাঠাছেন অথচ ব্রাত্য থেকে যাচ্ছে কোচবিহার বিমানবন্দর।
Cooch Behar Airport
প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কেন বন্ধ কোচবিহার বিমান বন্দর, উঠছে প্রশ্ন
×
Comments :0