Communal Harmony

সম্প্রীতির নজির স্বরূপনগরের সেলিম মণ্ডলের

জেলা

দেশ তথা এই রাজ্যে যখন সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে আরএসএস পরিচালিত ডবল ইঞ্জিন সরকার ঠিক সেই সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়লো ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের তেঁতুলিয়ায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃত দাহকার্যে এগিয়ে এলেন মুসলিম যুবক। স্বরূপনগরের তেঁতুলিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সরকারি খাস জমিতে বাস হা অন্ন দাস পরিবারের।
জানা গেছে, এই পরিবারের পিতা বাপি দাস, বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। অত্যন্ত অভাবের মধ্যে দিন কাটতো তাঁর পরিবারের। বাপি দাসের দুই ছেলে জয়ন্ত দাস ও মন্টু দাসও অসুস্থ বলে জানা গিয়েছে। সংসারে নিয়মিত আয়ের তেমন কোনও ব্যবস্থা নেই। কোনওরকমে দিন গুজরান করছিল পরিবারটি। এর মধ্যেই মৃত্যু হয় বাপি দাসের। বাবার মৃত্যুর পর কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন দুই ছেলে। একদিকে পরিবারের আপনজনকে হারানোর শোক, অন্যদিকে বাবার শেষকৃত্য কীভাবে সম্পন্ন হববে, এই চিন্তায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। কারণ, দাহকার্য সম্পন্ন করার মতো অর্থ তাঁদের হাতে ছিল না। 
ঠিক সেই সময় আসেন সেলিম মণ্ডল নামে এক মুসলিম যুবক। অসহায় পরিবারের পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসেন তিনি। পরিবারের কাছ থেকে পুরো বিষয়টি শোনার পর আর কোনওরকম দ্বিধা করেননি সেলিম। বাপি দাসের দাহকার্যের সমস্ত খরচ নিজের দায়িত্বে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
শুধু টাকা দিয়ে সাহায্য করেই দায়িত্ব শেষ করেননি সেলিম মণ্ডল। মৃতদেহের শেষযাত্রা থেকে শুরু করে দাহকার্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কাজে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন। সেলিম মণ্ডল পেশায় একজন ট্রাভেলস ব্যবসায়ী। 
এলাকার বাসিন্দারা জানান, বাপি দাসের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। তাঁর দুই ছেলেও অসুস্থ। ফলে সংসারে উপার্জনের সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। সেই সময় সেলিম মণ্ডল যেভাবে এগিয়ে এসে সমস্ত দায়িত্ব নিলেন, তা সত্যিই নজিরবিহীন।

Comments :0

Login to leave a comment