চরম অব্যবস্থার ছবি ধরা পড়ল উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ল হাসপাতাল। ফলে কার্যত অচল হয়ে গেল জরুরি পরিষেবা। আইসিইউ, মেডিসিন বিভাগ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে নেমে এল অন্ধকার। প্রচণ্ড গরম ও দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগের শিকার হলেন ভর্তি থাকা রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগে থেকেই ঠিক ছিল যে ট্রান্সফরমারের কাজ হবে। সেই কারণে আগে থেকেই জেনারেটর চালিয়ে পরিষেবা সচল রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই জেনারেটরও মাঝপথে বিকল হয়ে যায়। আর তাতেই বিপত্তি।
একদিকে মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অন্যদিকে বিকল্প ব্যবস্থাও অকেজো। ফলে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়ে থাকে গোটা হাসপাতাল চত্বর।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরই বন্ধ হয়ে যায় ফ্যান, আলো। বন্ধ হয়ে যায় বহু জরুরি যন্ত্রপাতি। আইসিইউ-তে ভর্তি মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়। মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীরা প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকেন। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীদের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক হয়ে ওঠে। অন্ধকার ওয়ার্ডে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে রোগীদের দেখতে হয় পরিজনদের। জরুরি বিভাগে নতুন আসা রোগীদের চিকিৎসা দিতেও সমস্যায় পড়েন চিকিৎসকরা।
এক রোগীর আত্মীয় ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, "হাসপাতালে ভর্তি মানেই তো জীবন-মরণ সমস্যা। সেখানে ৪০ মিনিট বিদ্যুৎ থাকবে না, এটা ভাবা যায়? জেনারেটরও খারাপ! এ তো প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা।"
আগে থেকে ট্রান্সফরমারের কাজ ঠিক থাকলেও কেন পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হলো না, এই প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন ওঠে, কেন জেনারেটরের রক্ষণাবেক্ষণ ঠিক মতো করা হয়নি? এই প্রশ্ন তুলছেন রোগীর পরিজন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
যদিও গোটা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি। তিনি দাবি করেছেন, এরকম কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তাঁর এই বক্তব্যের পর আরও ক্ষোভ বাড়ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রশ্ন, দিনের আলোর মতো স্পষ্ট ঘটনাকে কীভাবে অস্বীকার করা হচ্ছে?
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
Power Outage Uluberia Hospital
বিদ্যুৎহীন ৪০ মিনিট, সমস্যা অস্বীকার হাসপাতালের, ক্ষোভ
বিদ্যুৎহীন উলুবেড়িয়া হাসপাতাল। ছবি: মনিরুল হক
×
Comments :0