অনিন্দিতা দত্ত : শিলিগুড়ি
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার কালিম্পঙে অবতরণ করতে না পারায় মঙ্গলবার কালিম্পঙের টাউন হলে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে পারলেন না মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি কালিম্পঙের টাউন হলে সরকারি অনুষ্ঠান থেকে ২০২৫ সালে লোনাক হ্রদ ভেঙে হড়পাবানে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৩টি পরিবারের হাতে পুনর্বাসন ও আর্থিক সাহায্য তুলে দেবার কথা ছিলো। গোটা কালিম্পঙ শহর সেজে উঠেছিলো। মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, সাংসদ রাজু বিস্তা, পাহাড়ের তিন বিধায়ক সোনম লামা, নোমান রাই ও ভরত ছেত্রী। ছিলেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরাও। উত্তরকন্যা থেকেই ভার্চুয়ারি অনুষ্ঠান করেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, কালিম্পঙের সরকারি অনুষ্ঠানের পর তিস্তা নদী ড্রেজিং ধস ও জাতীয় সড়কের পরিস্থিতি নিয়ে আধিকারিকদের নিয়ে উত্তরকন্যা থেকেই ভার্চুয়ালি বৈঠক সারেন। এদিন উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, জিটিএ সমস্যার সমাধন করে দিয়েছি। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে পাহাড়ে কাজ করার জন্য। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মুখ্যসচিব রাজেশ সিনহাকে পাহাড়ের বিপর্যয় নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। তাঁর দাবি জিটিএ'র বরাদ্দ বৃদ্ধি করে বিপর্যয় মোকাবিলায় ২৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। পাশাপাশি কালিম্পঙের জন্য মেডিকেল কলেজ তৈরীর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। খুব তাড়াতাড়ি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। ফের আগামী ৬ অক্টোবর কালিম্পঙে আসার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
কালিম্পঙের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা নিশ্চিন্তে থাকুন, যারা দুর্নীতির সাথে যুক্ত তাদের একজনকেও ছাড়া হবে না। জনগনের করের টাকা বেআইনীভাবে সরানো হয়ে থাকলে তা ফেরৎ নেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার। এদিন ২০২৫ সালে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্তদের তিন লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
উত্তরকন্যা থেকেই উত্তরের পাহাড় ও চা বাগান অঞ্চলের জন্য একাধিক পদক্ষেপ ও নতুন প্রকল্পের রূপরেখা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের বন্ধ থাকা, রুগ্ন এবং সমস্যায় জর্জরিত চা বাগানগুলির স্থায়ী সমাধানের প্রশ্নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বর্তমান কেন্দ্রের সরকার। আসামের মতো পশ্চিমবঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা ২০২১ চালু করা হচ্ছে যা বিগত সরকার কার্যকরী করেনি। এই প্রকল্পে ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে পাহাড় থেকে তরাই অঞ্চলের চা বলয়ের উন্নয়নের কাজ করা হবে। একইসঙ্গে জানান, দূর্গাপূজো, দীপাবলী ও ভাইফোঁটার উৎসবের আগেই বাগিচা শ্রমিকদের জন্য ২০ শতাংশ হাতে বোনাস নিশ্চিত করতে শ্রম দপ্তর থেকে উপযুক্ত নির্দেশিকা জারি করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
চা শ্রমিকদের বোনাস প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য গৌতম ঘোষ বলেন, গতবারও এ্যাডভাইজারি জারি করে তৃণমূল সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নির্দেশিকা জারি করেছে। তবুও প্রায় ৭০ চা বাগান শ্রমিকদের বোনাস দিতে পারেনি। অনেকগুলো বাগান দুই কিস্তি, তিন কিস্তি আবার চার কিস্তিতে বোনাস দিয়েছে। এবারও মুখ্যমন্ত্রী দূর্গাপূজো, দীপাবলী ও ভাইফোঁটার উৎসবের আগেই বাগিচা শ্রমিকদের জন্য ২০ শতাংশ হাতে বোনাস নিশ্চিত করতে শ্রম দপ্তর থেকে উপযুক্ত নির্দেশিকা জারি করার যে ব্যবস্থা করেছেন। তাতে খুশি আমার। কিন্তু এই বোনাসের টাকা আদায় করতে গিয়ে পরবর্তীকালে দেখা না যায় মালিকদের টালবাহানা শুরু না হয়ে যায়। যদি তাই হয় তখন কিন্তু ইউনিয়নের কিছু করার থাকে না। কিছু বলতেও পারে না। শ্রমিক, মালিক ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠকে দরকষাকষি যে এগ্রিমেন্ট হতো সেটাকে শেষ করে দিতে চাইছে এই সরকার। কর্পোরেট পুঁজিপতিদের নির্দেশে এই ধরনের নির্দেশিকা জারি করে বিজেপি সরকার। গতবার মমতা ব্যানার্জি ঘোষণা করেছেন এবার শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন চ্যাম্পিয়ন থাকার জন্য। আদৌও বাস্তবায়ীত হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন চা শ্রমিকদের হিসাব করে ৬৬১ টাকা মজুরি বৃদ্ধি হয়েছে অনেক দিন আগে। এই সরকার এ্যাডভাইজারি দিয়ে বোনাসের কথা বলছে কিন্তু মজুরি বৃদ্ধির কথা এ্যাডভাইজারি দিয়ে ঘোষণা করুন না তাহলেই বোঝা যাবে মালিকদের বিরুদ্ধে তিনি বলছেন। বাগান মালিকদের কাছে আত্মসমর্পণ না করে চা শ্রমিকদের মজুরি ৬৬১ টাকা ঘোষণা করলেই বোঝা যাবে শ্রমিকদের জন্য তিনি কিছু করলেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানাবো।
Comments :0