জামশেদপুরের ব্যবসায়ী নিখর সবলোক খুনের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের এক ট্র্যাফিক সার্জেন্ট ও এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয় বেলেঘাটা ট্র্যাফিক গার্ডের সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত এবং মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাসকে। অয়নের বাড়ি পর্ণশ্রী এলাকায়। টুইঙ্কলের বাড়ি চাউল পট্টি রোডে। খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ড পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ছয় দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই মামলায় এর আগেই আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের তদন্তে অভিযোগ উঠেছে যে, গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনদের মধ্যে একজন বেলিয়াঘাটা ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত ওই সার্জেন্টের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রেখেছিলেন। পুলিশ আরও দাবি করেছে, ভাড়াটে খুনি চক্রের সদস্য বলে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে যুক্ত এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের সঙ্গেও কথা বলেছিলেন।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি দল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিও-ও করা হয়েছে। ওই দুই পুলিশ কর্মী কেন ব্যবসায়ী খুনের মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
গত ২৪ আগস্ট, চান্ডিল থানার অন্তর্গত আসানবানির টেন্থ মাইল হোটেলে জামশেদপুরের তরুণ ব্যবসায়ী নিখার সবলোককে গুলি করে খুন করা হয়। পুলিশের যৌথ বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) উত্তর প্রদেশের দুই শুটার এবং স্বর্ণকার অশোক সিং রাঘবসহ ছয়জনকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে।
খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় পিস্তল, সাতটি তাজা কার্তুজ, ছয়টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর কদমার বাসিন্দা নিখর সবলোককে গত ২৪ আগস্ট হোটেলের কাছে অজ্ঞাতপরিচয় অপরাধীরা গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জামশেদপুরের টিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মৃতের বাবা সঞ্জীব সবলোকের জবানবন্দির ভিত্তিতে চান্ডিল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে, ডিআইজি কোলহানের নির্দেশে এসএসপি পূর্ব সিংভূম এবং এসপি সেরাইকেলা-খড়সাওয়ানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়। এসআইটি ঘটনাস্থলের চারপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি বাড়ায়।
পুলিশের মতে, ধৃতদের বেশিরভাগ অভিযুক্তেরই পূর্ব অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। অঙ্কিত সিং, সুনীল রাজাক এবং সুশীল কেরাইয়ের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনের বেশ কয়েকটি গুরুতর মামলা রয়েছে।
ব্যবসায়ী খুনের ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে, উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের দুই ভাড়াটে খুনিকে ২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। দুমকা জেল থেকেই খুনের পরিকল্পনা করা হয়। যোগাযোগের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার ওই সার্জেন্ট ও সিভিক ভলান্টিয়ারকে লালবাজারে তলব করে। দু'জনকে মুখোমুখি বসিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সকালে দুই পুলিশ কর্মীর গ্রেপ্তার করা হয়। কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট এবং মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার গ্রেপ্তার হওয়ায় এই মামলায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আট। অয়ন ও টুইঙ্কলের সঙ্গে ধৃতদের কী যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশের অনুমান ব্যবসায়ীকে খুনের জন্য ১৫ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল। জমি নিয়ে কোনো বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।
Jharkhand Businessman Murder Case
জামশেদপুরের ব্যবসায়ী খুনে গ্রেপ্তার কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক সার্জেন্ট ও সিভিক ভলান্টিয়ার
×
Comments :0