অনিন্দিতা দত্ত: শিলিগুড়ি
শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অচলাবস্থা দূরীকরণ সহ সাত দফা দাবিতে ‘শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ চলো’ কর্মসূচি হয়েছে। বৃহস্পতিবারের তীব্র দাবদাহকে উপেক্ষা করে সকালের পর থেকেই শিলিগুড়ি গ্রামীণ এলাকার কৃষক সহ মেহনতি মানুষেরা জমায়েত হতে শুরু করেন শিলিগুড়ি মহানন্দা সেতুর নীচে। গ্রাম এলাকার রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি, সেচ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন, দরিদ্র মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনা, ১০০ দিনের কাজ চালুর দাবিতে এদিন দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ মিছিল মহানন্দা সেতুর নীচ থেকে শুরু হয়। হিলকার্ট রোড ধরে এগিয়ে হাসপাতাল মোড় হয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের গেটের সামনে শেষ হয় মিছিল। সারা ভারত কৃষক সভা দার্জিলিঙ জেলা কমিটির ডাকে এই কর্মসূচিকে সফল করার লক্ষ্যে বেশ কিছূদিন ধরেই শিলিগুড়ি গ্রামাঞ্চল জুড়ে ব্যাপক প্রচারাভিযান চলেছে। তার প্রতিফলন ঘটেছে এদিনের মিছিলে। মিছিলে ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা সমন পাঠক, সংগঠনের রাজ্য কমিটির অন্যতম সদস্য তাপস সরকার ও সারা ভারত কৃষক সভার দার্জিলিঙ জেলা সভাপতি কেবি ওয়াতার, সম্পাদক ঝরেন রায়, চা শ্রমিক নেতা গৌতম ঘোষ, মনি থাপা সহ অন্যান্যরা। ফাঁসিদেওয়া, পাঁচকেলগুড়ি, পাথরঘাটা, খড়িবাড়ি, নকশালবাড়ি, মাটিগাড়া ১/২, আঠারোখাই, মেডিকেল মোড়, বাগডোগার সহ গ্রামাঞ্চলের বিস্তীর্ন এলাকা থেকে কৃষকও মেহনতি মানুষ এদিনের মিছিলে উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পরে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি পদত্যাগ করেছেন। ফলে গত প্রায় চারমাস ধরে শিলিগুড়ি মহকুমার ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েত, একটি মহকুমা পরিষদ ও চারটি পঞ্চায়েত সমিতি অভিভাবকহীন অবস্থার মধ্যে পড়েছে। শিলিগুড়ি গ্রামীন এলাকার বিভিন্ন সমস্যা এবং পঞ্চায়েত ও মহকুমা পরিষদে সৃষ্ট এই অচলাবস্থার দূরীকরণের দাবি সহ একাধিক দাবিতে মিছিল শেষে মহকুমা পরিষদের গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান কর্মসূচিতে অংশগ্রহনকারী গ্রামীন সাধারন মানুষ। মহকুমা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন নেতৃবৃন্দ।
সভা চলাকালীন ১০জনের প্রতিনিধিদল মহকুমা পরিষদের ভেতরে প্রবেশ করে অতিরিক্ত কার্যনির্বাহী আধিকারিকের হাতে সাত দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন তাপস সরকার, কে বি ওয়াতার, ঝরেন রায়, হীরালাল ছেত্রী, প্রনব ভট্টাচার্য, ইন্দ্রমোহন সরকার, শম্ভু প্রসাদ, দিলীপ মুখার্জি, অরুন রায় ও হীরালাল বর্মন। স্মারকলিপিতে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ, এসআইআরে নাম করে বাতিল করা সমস্ত বৈধ নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা, যাদের এসআইআরে নাম বাতিল হয়েছে কিংবা ট্রাইবুনালে আছে তাদেরকে সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত না করা, গ্রামীণ জনগনকে অবিলম্বে ১০০ দিনের (বিভিজি রামজি প্রকল্প) কাজ দেওয়া, কৃষকদের স্বার্থে গ্রামীণ এলাকার বন্ধ করে দেওয়া সমস্ত গরু হাট খুলে দেওয়া, শারদোৎসবের আগে মহকুমার সমস্ত বালি, বজরি তোলার নদীঘাট খুলে দেওয়া ইত্যাদি।
এদিনের বিক্ষোভ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নীহার বিশ্বাস, ধ্রুবজ্যোতি রায়, মহোহর ব্রজবাসী, দিবাকর সরকার, হরিদাস মোদক প্রমুখ। স্মারকলিপি দিয়ে বেরিয়ে এসে তাপস সরকার জানান, অতিরিক্ত কার্যনির্বাহী আধিকারিক সহমত পোষন করে বক্তব্য শুনেছেন। ১০০দিনের কাজ ২অক্টোবর থেকে শুরু করা, শারদোৎসবের আগে ২০ সেপ্টেম্বরের পরে নদী ঘাট খুলে দেওয়া সহ গরুহাট বন্ধ থাকার বিষয়ে ডিএমকে লিখিতভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও গ্রামের রাস্তাঘাট, পানীয় জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এসআইআর সহ সমস্ত দাবিবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দাবিপূরন না হলে পরবর্তী লড়াই আন্দোলন জারি থাকবে।
Comments :0