বারবার ভাঙন, বারবার মেরামতি। কিন্তু তারপরও ফের বসে যাচ্ছে নদীবাঁধ। হুগলী নদীর তীরবর্তী উলুবেড়িয়া পৌরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জগদীশপুরে ভাঙন ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বাঁধ মেরামতির কাজ চললেও ফের একটি অংশ বসে গেছে ক’দিন আগেই। তার উপর বৃহস্পতিবার ভাদ্র মাসের কৌশিকী অমাবস্যা। অমাবস্যায় গঙ্গার ভরা কোটালের জোয়ারের চাপ কী প্রভাব ফেলে তা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, নদীতে জলের চাপ আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
দক্ষিণ জগদীশপুরের নদীবাঁধের সমস্যা অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে এই এলাকায় বারবার নদীভাঙন ও বাঁধের ক্ষয় দেখা দিয়েছে। ২০২৪ সালে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জগদীশপুরে নতুন করে নদীভাঙন হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলেও দক্ষিণ জগদীশপুরে সেচ দফতরের দেওয়া ‘ব্রিক ম্যাট্রেস’-এর একাধিক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে নদীবাঁধে বোল্ডার, মাটির বস্তা, বাঁশের খাঁচা-সহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু নদীর স্রোত ও ঢেউয়ের ধাক্কায় সেই সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এলাকার এক বাসিন্দার কথায়, বছরের পর বছর আমরা একই আতঙ্কের মধ্যে আছি। বাঁধ সারাই হয়, আবার কিছুদিন পর সেই জায়গাই বসে যায়। এখন কৌশিকী অমাবস্যা, নদীতে জলের চাপও বেশি। বাঁধ ভেঙে গেলে তখন তো আর সামলানো যাবে না। প্রশাসনকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
আরেক বাসিন্দার দাবি, আমরা বারবার বলেছি শুধু উপর থেকে মাটি বা ইট দিয়ে কাজ করলে হবে না। নদীর দিকটা ভালো করে পরীক্ষা করে স্থায়ীভাবে বাঁধ তৈরি করতে হবে।
উলুবেড়িয়া পৌরসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা সাবিরউদ্দিন মোল্লা বলেন, মানুষের জীবন ও সম্পত্তি নিয়ে ছেলেখেলা করা যায় না। বছরের পর বছর একই জায়গায় ভাঙন হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে যদি কয়েক মাসের মধ্যেই বাঁধ ফের বসে যায়, তাহলে কাজের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। পুরো প্রকল্পের হিসাব ও কাজের মান প্রকাশ্যে আনতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে বিল মেটানো হলেও কাজের গুণমান নিয়ে যথেষ্ট নজরদারি হচ্ছে না। প্রকল্পের নথি, টেন্ডার, কাজের পরিমাণ, বিল এবং গুণমান পরীক্ষার রিপোর্ট খতিয়ে দেখা জরুরি। আমরা বাঁধ ভাঙনের বিষয়ে বারে বারে প্রশাসনকে জানালেও তারা এব্যাপারে উদাসহীন।
Uluberia Dam
সারালেও বারবার ভাঙছে বাঁধ, অমাবস্যায় গভীর উদ্বেগ উলুবেড়িয়ায়
উলুবেড়িয়া পৌরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জগদীশপুরে ভাঙন। ছবি: মনিরুল হক।
×
Comments :0