মতের ফারাক থাকলে অধ্যাপকদের বদলির রাস্তা খুলতে রাজ্য বিধানসভায় পাশ হলো বিল। ‘দা ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিস এন্ড কলেজ এর (এডমিনিস্ট্রেশন এন্ড রেগুলেশন) (আমেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’-র বিরোধিতা করেছেন সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সহ মোট ১৫ সদস্য।
এদিন ১৭১-১৫ ভোটে পাশ হয় বিল। তৃণমূলের শোভনদেব চ্যাটার্জি ভোট নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
তবে বিধানসভার অধ্যক্ষ স্বীকৃত বিরোধী, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ অংশের বিধায়করা, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বে ভোটাভুটির সময় কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
সিপিআই(এম), আইএসএফ, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের কয়েকজন এই বিলের বিরোধিতায় ভোট দেন।
মোস্তাফিজুর বলেন, অশনি সংকেত রয়েছে এই বিলে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বাধিকার নষ্ট হবে। ইউজিসি’র নিয়ম অনুযায়ী সেনেট এবং সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে পরিচালনা করে। এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে উদ্দেশ্য করে এই বিল আনা হয়েছে।
এই বিলের উপর আলোচনার সময় একই সুরের বিরোধিতা করেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।
মোস্তাফিজুর বলেছেন, এই বিলের ফলে সমস্যার সম্মুখীন হবেন গবেষকরা। গবেষণার প্রকল্পগুলি বিঘ্নিত হবে। এই আলোচনা করতে গিয়েও তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে কটাক্ষ শুনতে হয়েছে।
শুধু তাই নয় মুখ্যমন্ত্রীও সিপিআই(এম) ও আইএসএফ-কেই আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, "সিপিএম, আইএসএফ এই বিলের মধ্যে বিপদের গন্ধ পাচ্ছে। বোঝা যাচ্ছে ওদের কোথায় আঘাত লেগেছে। কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকারর টাকা দেবে যাদবপুরে। সেই যাদবপুরে, ‘ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে‘ বা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি‘- এসব চলবে না। ‘রেড সেলুট কিষাণজী‘, চলবে না। কে কিষানজী? শিলদায় ৩০ জন সিআরপিএফ জওয়ানকেই কিষানজী খুন করেছে।"
কিষেণজী প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আগেই অভিযোগ করেছিলেন যে নন্দীগ্রামে মাওবাদীদের ঢুকিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী নিজেই। তাদের দানাপানির ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি।
শুভেন্দু আরও বলেছেন, যাদবপুরের ছেলেদের ব্রেন ওয়াশ করা হচ্ছে, যারা করছে তাদের চিহ্নিত করেছি। কড়া মাপের ওষুধ দিতে হবে। তথাকথিত পণ্ডিতদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেব। তাদের এত জ্ঞান, চে-লেনিন, সমাজতন্ত্র নিয়ে জ্ঞান নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে কাজে লাগাক।
শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের টার্গেট করেছেন। এদিন বিধানসভায় তিনি বলেছেন, "একশ্রেণীর বামপন্থী অধ্যাপক সনাতনীদের আক্রমণ করছে টার্গেট করে। বদলি চাকরির অন্যতম শর্ত। যাদের পোষাবে না ছেড়ে দিন কাঁধে ঝোলা নিয়ে ফুল টাইমার হয়ে ‘গণশক্তি’ বিক্রি করুন।"
Bill passed in Assembly for the transfer of unpopular university professors; CPI(M) opposes it
বিশ্ববিদ্যালয়ে অপছন্দের অধ্যাপকদের বদলিতে বিল পাস বিধানসভায়, বিরোধিতা সিপিআই(এম)’র
×
Comments :0