নিয়মিত বিদ্যালয়ে সময় মতো না পৌঁছানো এবং ক্লাসে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগে এক প্রাথমিক শিক্ষকের বদলির দাবিতে অভিভাবক ও পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখালেন। বৃহস্পতিবার ঘটনাকে ঘিরে মেটেলি ব্লকের বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের শালবাড়ি ৩ নম্বর বিএফপি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ময়নাগুড়ি সার্কেল এলাকার একটি বিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে ওই শিক্ষক শালবাড়ি ৩ নম্বর বিদ্যালয়ে যোগ দেন। তারপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ উঠছে। নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসার পাশাপাশি তিনি যেদিন আসেন, সেদিনও নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছন না বলে অভিযোগ। অভিভাবকদের অভিযোগ বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেও পঠন-পাঠনে মন না দিয়ে ক্লাসের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এরফলে স্কুলের পঠন-পাঠন ব্যাহত হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
এদিন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হয়ে প্রধান শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুলের ছোট ছোট পড়ুয়ারাও বিক্ষোভে সামিল হয়। তাদের মুখে শিক্ষকের বদলির দাবি শোনা যায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ ঘোষাল অভিভাবকদের অভিযোগকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘অভিযোগগুলি সত্য। ওই শিক্ষককে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে একাধিকবার মৌখিক ভাবে সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি লিখিত ভাবে মেটেলি অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানানো হয়েছে।’’
অভিভাবকদের দাবি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের অনিয়মের সরাসরি প্রভাব পড়ুয়াদের পঠন-পাঠনে পড়ছে। দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ করে সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এবিপিটিএ’র জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক বিপ্লব ঝা বলেন, ‘‘ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত স্কুলে আসছেন না। স্কুলেই যদি না আসেন, তাহলে পড়াবেন কীভাবে? প্রধান শিক্ষকও বিষয়টি নিয়ে কার্যত বিরক্ত। বারবার প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এসআই এখনও তাঁকে ডেকে জবাবদিহি করেননি, কোনও পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।’’ মেটেলি অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।
Guardians - Students Protest
শিক্ষকের বদলির দাবিতে অভিভাবক-পড়ুয়াদের বিক্ষোভ মেটেলি ব্লকে
×
Comments :0