রাতভর প্রবল বর্ষণে শুক্রবার ভোরে ফের মিরিকের অস্থায়ী লোহার সেতু ভেঙে পড়েছে। বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি নদী বালাসনের জলস্তর হু হু করে বাড়তে থাকায় ফের জলের তোড়ে ভেসে গেল দার্জিলিঙের দুধিয়ার অস্থায়ী হিউম পাইপ সেতু। শুক্রবার ভোর চারটে নাগাদ এই সেতু ভেঙে পড়ার জেরে শিলিগুড়ির সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মিরিক। কয়েক মাস যেতে না যেতেই ফের অস্থায়ী সেতুটি ভেঙে পড়ায় দুধিয়া এলাকায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, টানা বৃষ্টিতে নতুন করে ধস বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছে পাহাড়। আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে। দ্রুত ব্রিজ মেরামতের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। ইতোমধ্যেই দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত এক নাগাড়ে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের জেরে কার্শিয়াঙ মহকুমার বালাসন নদী অতি খরস্রোতা হয়ে উঠেছে। ভয়ঙ্কর রূপ ধারন করেছে বালাসন। নদীর প্রবল জলচ্ছ্বাসে শুক্রবার ভোরে দুধিয়াস্থিত বালাসন নদীর ওপরে অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুটি ভেঙে পড়েছে। ফলে মিরিক—শিলিগুড়ি সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বালাসন দিয়ে জল প্রবল বেগে বইতে শুরু করে। বৃষ্টি নামতেই আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে রাত কাটছিলো বালাসন নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের। বিপদের আশঙ্কা সত্যি হলো। ভোরের দিকে নদীর জলের তোড়ে ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী সেতুটি। চলতি বছরের গত জুন মাসে টানা বৃষ্টির ফলে বালাসনের জল বেড়ে ভেসে গিয়েছিল দুধিয়ার এই অস্থায়ী সেতুটি। সে সময় শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছিল প্রশাসন। যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সেনা ও পূর্ত দপ্তর যৌথভাবে একটি বেইলি ব্রিজ তৈরি করে। তবে ওই বেইলি ব্রিজের ওপর দিয়ে ভারী গাড়ি যাতায়াত করতে না পারায় বিকল্প হিসেবে ফের একটি হিউম পাইপ ব্রিজ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টির জেরে বালাসনের জলের প্রবল স্রোত সেই হিউম পাইপ ব্রিজটিকেও ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, এর আগেও গত ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর রাতের প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে প্রচন্ড বৃষ্টিতে বালাসনের জলচ্ছ্বাসে মিরিক ও দুধিয়া সংযোগকারী ১৯৬৫ সালের তৈরী প্রাচীন ঐতিহাসিক লোহার সেতুটি ভেঙে পড়ে শিলিগুড়ি—মিরিক সরাসরি যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়ে পড়েছিলো। মিরিক ও দুধিয়া সংযোগকারী লোহার সেতুটির তিন নম্বর পিলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। এমনকি সেই পরিস্থিতিতে দার্জিলিঙ শহরের সাথেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই সময় দুধিয়ার সেতু বিপর্যয়ে আশপাশের একাধিক গ্রামের সাথে জনসংযোগ বিচ্ছিন্ন পড়ে। নদীপাড় লাগোয়া বেশ কিছু বাড়িঘর সম্পূর্ন ধসে যায়। সেতুটি দার্জিলিঙ বিভাগের রাজ্য সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছিলো। দুধিয়াতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিলো। সেই পরিস্থিতিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ১০ অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করে যান চলাচল সচল রাখতে দূর্যোগ পরবর্তী পনেরো দিনের মধ্যেই বালাসন নদীবক্ষেই তৈরী করা হয় বিকল্প অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতু। সেই অস্থায়ী সেতু দিয়েই মিরিক ও শিলিগুড়ির মধ্যে যানবাহন চলাচল করতো। যদিও খরস্রোতা বালাসনের ওপরে অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতু নির্মানের প্রথমদিন থেকে সেতুটির পরিকাঠামোগত স্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্ন ছিলোই। এক বছর পার না হতেই চলতি বছরের জুন মাসে এক রাতের বৃষ্টিতে সেই অস্থায়ী সেতুটিও ভেঙে পড়ে।
হিউম পাইপের ব্রিজ ভেঙে পড়ার ফলে বর্তমানে বড় গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে পূর্বে তৈরি করা বেইলি ব্রিজ দিয়ে আপাতত শুধু ছোট গাড়ি যাতায়াত করতে পারছে। পাহাড়ি এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এবং আটকে পড়া পর্যটক ও স্থানীয়দের যাতায়াত সুগম করতে দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতায় কাজ শুরু হয়েছে।
Comments :0