জয়ন্ত সাহা ও অমিত দেব: কোচবিহার
বিজেপি’র শাসনে দেশে বাড়ছে অর্থনৈতিক সংকট। কর্পোরেট পুঁজির সেবা করছে সরকার। পাহাড়, জঙ্গল, খনি এমনকি নদীও কর্পোরেটের হাতে তুলে দিচ্ছে। মানুষ প্রতিবাদী না হয়ে ওঠে সেজন্য মানুষকে খন্ড বিখন্ড করে দেওয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে নিরবিচ্ছিন্ন লড়াইয়ে শামিল রয়েছেন মেডিক্যাল ও সেলস কর্মী। এই লড়াইকে কুর্ণিশ।
শুক্রবার ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল এন্ড সেলস্ রিপ্রেজেন্টেটিভস্ ইউনিয়নের ১৮ তম রাজ্য জেনারেল কাউন্সিল সভার প্রকাশ্য সমাবেশে একথা বলেছেন গণআন্দোলনের নেতা এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও সাংসদ মহম্মদ সেলিম। কর্মসূচি হয় কোচবিহার রবীন্দ্র সদনে।
সেলিম বলেন, সারা দেশে যেমন এখন আর বিকাশকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তেমনি জিডিপি বৃদ্ধিকেও কেউ খুঁজে পাবেন না। তিনি বলেন, দেশে এখন চলছে ফ্যাসিস্ট কায়দার সরকার। বিজেপি সরকারের লক্ষ্য হল মানুষের ঐক্যকে ভেঙে দেওয়া, তারা যখন নিজেদের একাজে সাফল্য এসেছে ভেবে উল্লাসিত ছিল তখনই দিল্লির যন্তর-মন্তরে নতুন প্রজন্মের লড়াই শাসকের বুকে কাঁপন ধরিয়েছে। প্রমাণ হয়েছে, আন্দোলন,লড়াই, প্রতিবাদ ছাড়া একক ভাবে বাঁচা যায় না।
মহম্মদ সেলিম এদিন আরো বলেন,তৃনমুলের শাসনে রাজ্যের সর্বনাশ হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেও শিল্ল আসার ইঙ্গিত নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে সাধুদের এনে কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছেন! বিজেপি পেটের লড়াই, ভাতের লড়াইকে আটকাতে চাইছে। সরকারি শিক্ষাকে তুলে দিতে চাইছে। আসলে বিজেপি বড়লোকের পক্ষে তাই সর্বজনীন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায়। ওরা অতীতমুখী আর লালঝান্ডাওয়ালারা ভবিষৎমুখী।
মুখ্যমন্ত্রীর বুক স্টল সংক্রান্ত মন্তব্যেরও কড়া প্রতিক্রিয়া জানান সেলিম। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, সিপিআই(এম) কারও হুকুমদারি মানে না।
উল্লেখ্য, বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন যে ‘শারদোৎসব'-এর বদলে নির্দিষ্টভাবে 'দুর্গা পুজো' না লিখলে পুজো কমিটিগুলি যেন বুকস্টলও করতে না দেয়।
সেলিম বলেন, কি নামে ডাকবে কি লিখবে কে স্টল দেবে এটা বিধানসভার কাজ নয়। মুখ্যমন্ত্রীর কি আর অন্য কোন কাজ নেই? রাজ্যের স্কুল গুলি বাঁচাতে হবে, যে স্কুলগুলি বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলি চালু করতে হবে, রাস্তায় আন্দোলন করতে গিয়ে পড়ে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্য থেকে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন শূন্য পদ গুলি পূরণ করতে হবে রাজ্যে বিনিয়োগ আনতে হবে, নতুন নতুন কলকারখানা তৈরি করতে হবে, বন্যায় মানুষ ভাসছে ইতিমধ্যেই জলে ডুবে কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এই বানভাসী মানুষদের বাঁচাতে হবে, ত্রাণের ব্যবস্থা করতে হবে, রাজ্যজুড়ে রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল, তার সংস্কার করতে হবে, গোটা রাজ্যে পৌর এবং পঞ্চায়েতের ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন সরকারের, তা না করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিপিআই(এম) তার বুকষ্টলে কি লিখবে, তা নিয়ে মন্তব্য করছেন!
সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পার্থ রক্ষিত বলেন, উৎপাদনের বিচারে ভারত বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প। আমাদের সংগঠন চায়, ওষুধ শিল্প যেন শুধুমাত্র মুনাফা অর্জনের পণ্য না হয়। ওষুধে জিএসটি কমাতে হবে।
সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সুমন ভট্টাচার্য বলেন, সর্বজনীন, বিনামূল্যে এবং শক্তিশালী সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা গড়ে উঠুক। জনস্বাস্থ্যকে কর্পোরেট মুনাফার হাতে তুলে দেওয়া চলবে না।
প্রকাশ্য সমাবেশে প্রাক্তন মন্ত্রী অনন্ত রায় বলেন, নিজেদের পেশাগত লড়াইয়ের পাশাপাশি শ্রমিক- কৃষক ও অন্য গণসংগঠনের লড়াইয়েও আপনারা সহযোদ্ধা। মনে রাখবেন লড়াই জিততে জোট বাঁধতেই হবে। লালঝান্ডাই পারবে লড়াই করে মানুষের অধিকার আদায় করে আনতে।
প্রকাশ্য সমাবেশ শুরুর আগে রাজবাড়ি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য মিছিল শুরু হয়। শেষ হয় রবীন্দ্র সদনে। ১১-১৩ সেপ্টেম্বরের ১৮ তম জেনারেল কাউন্সিল সভা উপলক্ষ্যে কোচবিহার শহরের নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত দীনেশ ডাকুয়া নগর এবং রবীন্দ্র ভবনের নামকরন করা হয় রণজিৎ গুহ ও সুব্রত শীলের নামে।
Comments :0