কলকাতা কর্পোরেশনের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে বৃহস্পতিবারের সর্বদলীয় বৈঠককে ‘প্রহসন’ বলে অভিযোগ করল সিপিআই(এম)। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি ছাড়াই বৈঠক ডাকার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন বিজেপি ছাড়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কার্যত খর্ব করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
এদিনের বৈঠকে সিপিআই(এম), সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, কংগ্রেস, বিজেপি, তৃণমূলের দুই পক্ষ এবং বিএসপি-র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বৈঠক শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর সভায় আসেন পৌর কমিশনার স্মিতা পান্ডে। সিপিআই(এম)’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত দত্ত, কৌস্তুভ চ্যাটার্জি ও রাজীব মজুমদার।
ডিলিমিটেশনের পর কলকাতা কর্পোরেশনের ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হয়েছে। এ নিয়ে রাজ্য বিধানসভায় বিলও পাশ হয়েছে। তবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়ায় একাধিক অসঙ্গতি এবং রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ তুলেছে সিপিআই(এম)।
সর্বদলীয় বৈঠকে সিপিআই(এম)’র প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তোলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং কোনও পাবলিক নোটিফিকেশন ছাড়াই কীভাবে ডিলিমিটেশনের কাজ সম্পন্ন করা হলো। বৈঠকে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ক্লেম, অবজেকশন এবং হিয়ারিং সংক্রান্ত কোনও তথ্যও দেওয়া হয়নি।
সুব্রত দত্ত জানতে চান, বৈঠকের এজেন্ডা কী। তাঁর প্রশ্নের কোনও সদুত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘‘সব যদি আগেই ঠিক করা থাকে, তাহলে বৈঠক ডাকার প্রয়োজন কী?’’ কৌস্তুভ চ্যাটার্জি প্রশ্ন তোলেন, জনগণনার তথ্যকে উপেক্ষা করে কেন ডিলিমিটেশনের কাজ করা হচ্ছে। রাজীব মজুমদারের প্রশ্ন, বিজেপি ছাড়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দল যখন একাধিক বিষয়ে একমত, তখন সেই মতামত কেন উপেক্ষা করা হচ্ছে।
বামফ্রন্টের শরিক দলগুলি ছাড়াও কংগ্রেস ও অন্যান্য দলের প্রতিনিধিরাও একই প্রশ্ন তোলেন। হিয়ারিংয়ের রিপোর্টও চাওয়া হয়। কিন্তু সেই রিপোর্ট সম্পর্কে পৌর কমিশনার নিজেই অবহিত নন বলে জানান অভিযোগ।
বৈঠকের শেষপর্বে মিউনিসিপ্যাল ল’ অফিসার জানান, বিধানসভায় আলোচনা হয়েছে এবং সেখানেই বিষয়টির আলোচনা শেষ হয়ে গিয়েছে। এরপরই ক্ষোভ প্রকাশ করে বিজেপি ছাড়া সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
Comments :0