বিজেপি’র দুষ্কৃতীদের প্রতিরোধ করল গড়বেতা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সিপিআই(এম)’র অফিস দখল করে গেরুয়া রং করতে এসেছিল বিজেপি’র দুষ্কৃতীরা। তারা প্রায় ৭০-৮০ জন ছিল। এসেছিল বাইকে। হাতে ছিল লাঠি, রড। কয়েকজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। প্রথমে তারা পার্টি অফিসে গেরুয়া রং করার চেষ্টা করে। রুখে দেয় গোটা খড়কুশমা গ্রাম। কয়েকশো গ্রামবাসী বেরিয়ে পড়েন। বাধা পেয়ে পালালেও কিছুক্ষণ পর আবার দুষ্কৃতীরা ফিরে আসে। এবার পার্টির পতাকা খুলে জ্বালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। গ্রামবাসীরা ঘিরে ফেলেন বিজেপি’র কর্মী-দুষ্কৃতীদের। দু’জনকে ধরেও রাখেন তাঁরা। দুষ্কৃতীরা এরপর সন্ধিপুরের দেওয়ান গ্রামে হানা দেয়। সেখানে বাড়ি বাড়ি ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করেছিল সেই দুষ্কৃতীরা। মানুষের প্রতিরোধ হয় সেখানেও। সেখান থেকে পালিয়ে দুষ্কৃতীরা পার্টির গড়বেতা পার্টি অফিসে ভাঙচুর করেছে। আগুন লাগিয়ে দিয়েছে পার্টি অফিসে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিপিআই(এম) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক বিজয় পাল বলেন, ‘পার্টি অফিসে প্রথমে গেরুয়া রঙ করতে আসে। বাধা পেয়ে ফিরে যায়। তারপর বাইরে থেকে লোক এনে পতাকায় আগুন লাগিয়ে দেয়। গ্রামের মানুষজন বেরিয়ে আসে। ভয় পেয়ে পালায়। তারপর গড়বেতায় পার্টি অফিসে ভাঙচুড় হয়। চন্দ্রকোনায় যেই বিশাল মিছিল হয় তারপর থেকে গড়বেতায় আক্রমণ হয়েছে। বহু কমরেড আক্রান্ত হয়েছেন। অনেককে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে জানানো হলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পবন সামন্ত, হাসিমুদ্দিন মল্লিক এরা আগে ছিল তৃণমূলের তোলাবাজ এখন তারা বিজেপির লোক। রাজীব কুন্ডু যিনি বিজেপি প্রার্থী ছিলেন, তিনি ফেসবুকে এই দুজনের নামে লিখেছেন তারা তৃণমূলে ছিল এখন বিজেপিতে এসে তোলাবাজি করছে। পুলিশ যদি একতরফা ভাবে কাজ করে তবে তাদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হবে পদক্ষেপ।’
গতকাল রাতে একদিকে তারা যখন গড়বেতা পার্টি অফিসে হামলা চালাচ্ছিল, তখনই আর একদল পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে খড়কুশমা, দেওয়ান গ্রামে যায়। পুলিশ হামলা চালায় গ্রামবাসীদের উপর। ৫জন গ্রামবাসীকে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে যায় এলাকা থেকে। আহত হয়েছেন অনেক গ্রামবাসী। পালটা বিজেপি দাবি করেছে যে, তাদের ১৯জন কর্মী আহত হয়েছে খড়কুশমায়। পার্টির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির সম্পাদক বিজয় পাল এই প্রসঙ্গে বলেছেন,‘‘বিজেপি ওখানে কেন গেছিল? তাদের কোনও পার্টি অফিস নেই। তারা ওই গ্রামের নয়। বিজেপি’র কর্মীরা গড়বেতা, চন্দ্রকোনা সহ বিভিন্ন এলাকায় আমাদের পার্টি অফিসগুলি দখল করতে চাইছে। কারণ, ওই অফিসগুলি গ্রামের মানুষের ভরসাস্থল। মানুষ দুষ্কৃতীদের ঠেকানোর চেষ্টা করে তাই প্রমাণ করেছেন। তাঁরা তাঁদের আশা,ভরসাস্থলকে রক্ষা করতে চান। আমরা পুলিশের কাছে দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে বিজেপি’র এই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হোক।’’
সম্প্রতি বিজেপি’র কর্মীরা চন্দ্রকোনা, গড়বেতা, শালবনীর ৮টি পার্টি অফিসে ভাঙচুর করেছে। লেনিনের মূর্তিও ভেঙেছে। এই এলাকায় তৃণমূলও একই কায়দায় তাদের শাসনে হামলা চালিয়েছিল। বিজেপিও সেই কায়দা নিয়েছে। মূলত গ্রামবাসীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে সিপিআই(এম) আন্দোলন করছে। তা আটকাতেই এই হামলাগুলি। গড়বেতার খড়কুশমা, সন্ধিপুর সিপিআই(এম) দীর্ঘদিনই শক্তিশালী। সেই জায়গাতেই হামলা চালিয়ে বামপন্থীদের এবং প্রতিবাদী গ্রামবাসীদের মনোবল ভাঙতে চাইছে বিজেপি।
Comments :0