Editorial

নোংরা খেলা

সম্পাদকীয় বিভাগ

বছরের শেষে কলকাতা পৌর কর্পোরেশনের নির্বাচন হবার কথা। প্রাক্তন তূণমূলী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি’র নতুন সরকার তেমনটাই ভাবছে। এতদিন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূল ছিল কর্পোরেশনের ক্ষমতায়। ফিরহাদ হাকিম ছিলেন মেয়র। বিধানসভার ভোটে তৃণমূলের গদি উলটে গেলে তৃণমূলের বেশিরভাগ বিধায়ক ও সাংসদরা ভালো তৃণমূলের সার্টিফিকেট নিয়ে বি‍‌জেপি’র ছাতার তলায় ঢুকে পড়েছেন। মেয়র হাকিম পদত্যাগ করে ভালো তৃণমূল হয়ে গেছেন। তৃণমূল কাউন্সিলররাও সব নিখোঁজ হয়ে গেছেন। স্বভাবতই কর্পোরেশন পরিচালনার কাজ বন্ধ। দায়িত্ব বর্তেছে সরকার নিযুক্ত প্রশাসকের উপর। অর্থাৎ যে বোর্ড পরিচালনার কথা নির্বাচিত তৃণমূল কাউন্সিলরদের। তারা বেপাত্তা। এখন নতুন করে নির্বাচন করে নির্বাচিতদের হাতে কর্পোরশেনের দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।
নতুন সরকার ঠিক করেছে ভোটের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হবে। বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ডের জায়গায় হবে ২০৯টি ওয়ার্ড। অর্থাৎ ওয়ার্ডগুলিকে ছোট করা হবে। ভালো কথা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলায়। কোথাও জনসংখ্যা বাড়ে, কোথাও কমে। তেমনি ভূবিন্যাস ও যোগাযোগের প্রয়োজনেও পুনর্বিন্যাস জরুরি হয়ে পড়ে। তাতে কেউ আপত্তি করে না। তবে অবশ্য অবশ্যই পুনর্বিন্যাস বা নতুন ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ হবে সুনির্দিষ্ট নীতি ও যুক্তির ভিত্তিতে। কোনও অবস্থাতেই শাসকদলের জেতার গোপন ষড়যন্ত্রে ছক হিসাবে নয়। কিন্তু কলকাতার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের যে প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়েছে সেটা ঠিক কোন নীতির ভিত্তিতে বা যুক্তির ভিত্তিতে হয়েছে তা স্পষ্ট করে সরকারিভাবে তা জানানো হয়নি। ফলে প্রস্তাবে কোনও সামঞ্জস্য নেই। পদে পদে বৈষম্য, খামখেয়ালিপনার ছাপ।
আসলে বিজেপি’র লক্ষ্য কলকাতাবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে উন্নয়নের জন্য পুনর্বিন্যাস নয়। তাদের লক্ষ্য যেভাবে ওয়ার্ড ভাগ করলে বিজেপি-র জয় নিশ্চিত করা যাবে সেটা। তাই জনসংখ্যাকে মাপকাঠি করা হয়নি। এলাকায় যোগাযোগগত অবস্থানকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। চেষ্টা হয়েছে বিরোধী প্রভাবিত এলাকাগুলিকে যথাসম্ভব ভে‍‌ঙে বিজেপি প্রভাবিত এলাকার সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত করা যাতে নতুন ওয়ার্ডগুলিতে সর্বোচ্চ সংখ্যায় বিজেপি-র জয় সম্ভব হয়। তাই কোনও ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়ালেও কোনও ওয়ার্ডে সেটা ৫-৬ হাজারে আটকে আছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় মুসলিম অধ্যুষিত ওয়ার্ডগুলিকে সবচেয়ে বেশি ভাঙাচোরা করা হয়েছে যাতে সেখানে বিরোধীদের জয় নি‍শ্চিত না হয়।
আসন পুনর্বিন্যাসের নামে এমন নোংরা খেলা বিজেপি জম্মু-কাশ্মীরে করেছে। আসামেও করেছে। আসলে বিজেপি-র কাছে জয় এবং ক্ষমতা দখলই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। উন্নয়ন বা নাগরিক স্বার্থ কথার কথা মাত্র।

Comments :0

Login to leave a comment