অর্থ বরাদ্দ হয়নি। অথচ প্রায় ১৫ কোটি টাকার ৬৫টি পরিকাঠামো উন্নয়ন কাজের জন্য টেন্ডার ডাকার অভিযোগ উঠল ধূপগুড়ি পৌরসভার বিরুদ্ধে। পেভার্স ব্লক, ম্যাস্টিক অ্যাসফল্ট ও বিটুমিনের রাস্তা - সহ একাধিক কাজের জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর অনলাইন দরপত্র ডাকা হয়। কিন্তু পৌরসভা সূত্রেই জানা যাচ্ছে, টেন্ডার ডাকার সময় সংশ্লিষ্ট কাজ গুলির জন্য রাজ্য পৌর দপ্তর থেকে কোনও অর্থ বরাদ্দ ছিল না। ফলে অর্থের সংস্থান ছাড়াই এত বিপুল টাকার দরপত্র কেন ডাকা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
৬৫টি কাজের আনুমানিক ব্যয় ১৫ কোটি টাকারও বেশি ধরা হয়েছিল। টেন্ডারে অংশ নেওয়ার শেষ তারিখ কোনও কাজের ক্ষেত্রে ২৪ সেপ্টেম্বর, আবার কোনও ক্ষেত্রে ২৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ছিল। পরবর্তীতে কোনও স্পষ্ট কারণ না দেখিয়েই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩ অক্টোবর করা হয়। পৌরসভার তরফে প্রযুক্তিগত সমস্যার যুক্তি দেওয়া হলেও তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ঠিকাদারদের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় ই-টেন্ডার ব্যবস্থায় সমস্যা না থাকলে হঠাৎ সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন হল কেন? আধিকারিকের ডিজিটাল সিগনেচার ছাড়া এই পরিবর্তন কীভাবে করা হল, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
সূত্রের দাবি, সেপ্টেম্বরের গোড়ায় পৌরমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে পুজোর আগে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করার বিষয়ে মৌখিক নির্দেশের পরেই তড়িঘড়ি টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু তখনও কাজগুলির জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়নি। পরে মাত্র সাতটি কাজের জন্য প্রায় ৯৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ এসেছে বলে জানা গেছে। ফলে বাকি প্রায় ১৪ কোটি টাকার কাজ কোন অর্থের ভিত্তিতে টেন্ডার করা হয়েছিল,তা নিয়েই মূল প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ, অর্থ বরাদ্দ না থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর টেন্ডার বাতিল না করে ঠিকাদারদের মৌখিক ভাবে তাঁদের জমা দেওয়া দরপত্র প্রত্যাহার করতে বলা হয়।এরপর কয়েকজন ঠিকাদার টেন্ডার প্রত্যাহার করেন। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাতটি কাজের জন্য ৬ অক্টোবর ফের নতুন করে দ্বিতীয়বার টেন্ডার নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এক ঠিকাদারের বক্তব্য, ‘‘কাজের নিশ্চয়তা নেই, অথচ টেন্ডারে অংশ নিতে হাজার হাজার টাকা খরচ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কাজ না হলে এই খরচের দায় কে নেবে?’’
সিপিআই(এম) ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে। ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার বলেন, ‘‘অর্থের সংস্থান ছাড়াই এত বড় অঙ্কের টেন্ডার কেন ডাকা হল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। এর পিছনে যাঁরা জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।’’
অভিযোগের বিষয়ে পৌর প্রশাসনের বক্তব্য জানতে মহকুমা শাসক তথা পৌর প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে টেন্ডার ডাকার সিদ্ধান্ত, সময়সীমা বাড়ানো এবং পরে টেন্ডার প্রত্যাহারের অভিযোগ নিয়ে পৌর প্রশাসনের ব্যাখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।
পৌরভোটের সম্ভাবনার আবহে প্রায় ১৫ কোটি টাকার এই টেন্ডার ঘিরে ওঠা অভিযোগে ধূপগুড়ি পৌরসভার টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
Dhupguri Municipality
ধূপগুড়ি পৌরসভায় বেনিয়মের অভিযোগ
×
Comments :0