Mathura Tank Tragedy

জলের ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে বৃন্দাবনে ৪ পড়ুয়ার মৃত্যু

জাতীয়

উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার বৃন্দাবনে মঙ্গলবার রাত ১০ টা নাগাদ একটি আবাসিক স্কুলের জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে চার পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করার সময়ে বিষাক্ত কোনও গ্যাসের সংস্পর্শে এসে দম বন্ধ হয়ে ওই ৪ পড়ুয়া মারা গিয়েছে। এই ঘটনায় আরও এক পড়ুয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলেও খবর। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গন্ধ পেয়ে কয়েকজন পড়ুয়া আবাসিক স্কুল ক্যাম্পাসের মাটির নিচে জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নামে এবং বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে আসে। ট্যাঙ্কে প্রবেশ করার পর ছাত্ররা অজ্ঞান হয়ে পড়ে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। জেলা শাসক চন্দ্র প্রকাশ সিংয়ের বক্তব্য, ঘটনাটি বৃন্দাবনের চৈতন্য বিহার এলাকায় আশীষ শর্মা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে ঘটেছে।  যেখানে প্রায় ২০০ জন শিশু ভর্তি ছিল বলে জানা গেছে, এবং প্রায় ১০০ জন বর্তমানে ক্যাম্পাসে বসবাস। মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাসে থাকা একটি জলের ট্যাঙ্ক থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। এরপর ছাত্ররা নিজেরাই ট্যাঙ্কটি পরিষ্কার করার চেষ্টা করে। প্রথমে ট্যাঙ্কটির জল বের করে দেওয়া হয়, তারপর কয়েকজন ছাত্র সেটির ভেতরে প্রবেশ করে। ১০ থেকে ১২ ফুট গভীর জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করার জন্য পড়ুয়ারা একে একে তাতে প্রবেশ করলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে মৃতদের পরিচয়, মনু কাটারে(২২), বিশু শর্মা (১৯), আরিয়ান পান্ডে (১৬) এবং দেবাংশ শর্মা (১৭)। অসুস্থ ছাত্র রুদ্রাক্ষ চিকিৎসাধীন।
প্রশাসনের তরফে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে ট্যাঙ্কটি বিষাক্ত গ্যাসে পূর্ণ ছিল। প্রবেশ করার সাথে সাথেই চার ছাত্রা জ্ঞান হারাতে শুরু করে। পাঁচজন পড়ুয়া ট্যাঙ্কটিতে প্রবেশ করেছিল। তাদের মধ্যে চারজন বের হতে না পেরে প্রাণ হারায়, আর একজন শিশু পালাতে সক্ষম হয়। আহত শিশুর চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনকে খবর দেন। এই ঘটনা ঘটার পর আবাসিক স্কুলের কাজকর্ম ও বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়রা। জেলা শাসক জানিয়েছেন, ঘটনায় ১৭ থেকে ২০ বছর বয়সি চার ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও খবর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি কিসের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছিল, তা তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে। প্রশাসনের মতে, সেখানে বসবাসকারী শিশুরা স্থানীয় ছিল না, বরং বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসেছিল। সুতরাং, প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় স্বীকৃতি ছিল কি না এবং কী পরিস্থিতিতে শিশুদের সেখানে রাখা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করা হবে। পুলিশ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments :0

Login to leave a comment