SFI

১০ অক্টোবর দিল্লির সমাবেশে বিজেপি বিরোধী ছাত্র যুব সংগঠন গুলোকে আহ্বান এসএফআই-এর

জাতীয়

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের চলমান প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে সরব হলো এসএফআই। কমিশনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনী অধিকার খর্ব করার অভিযোগ তুলে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে ছাত্র ও যুব সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠনের কাছে আবেদন জানালেন তারা।
এসএফআই-এর সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য এবং সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি এক বিবৃতি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্রমশ অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, এই পরিস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে উদ্বেগের। কমিশনের অধীনে চলা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ইচ্ছামতো বাদ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে এসএফআই।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বহু তরুণ ও যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে দাবি সংগঠনের। একইসঙ্গে বহু প্রথমবারের ভোটারের নামও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর-২০২৬ সংক্রান্ত ভোটার তালিকা, নাম অনুসন্ধান, নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্তি, সংশোধন এবং আপিলের ব্যবস্থা রয়েছে। কমিশনের ওয়েবসাইটে যোগ্য নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফর্ম ৬ সহ বিভিন্ন পরিষেবার কথাও জানানো হয়েছে।
এসএফআই-এর বক্তব্য, ছাত্র সংগঠন হিসেবে গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনী অধিকার রক্ষার প্রশ্নে নীরব থাকা সম্ভব নয়। সেই কারণেই বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে তিনটি দাবি সামনে আনা হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণ ও তার বিরুদ্ধে মামলা করা। এসআইআর প্রক্রিয়া প্রত্যাহার করা।
নির্বাচন কমিশনের সংস্কার করা।
বর্তমানে জ্ঞানেশ কুমারই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচন কমিশনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এসএফআই-এর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ১০ অক্টোবর দিল্লিতে ছাত্র ও যুবদের একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ওই কর্মসূচিতে এসএফআই অংশ নেবে এবং অন্যান্য ছাত্র ও যুব সংগঠনকেও পূর্ণ শক্তি নিয়ে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলির সম্মিলিত হস্তক্ষেপ জরুরি। ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে দিল্লির ১০ অক্টোবরের সমাবেশকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে এসএফআই।
এদিকে নির্বাচন কমিশন নিজেদের অবস্থান থেকে ভোটার তালিকাকে নির্ভুল করার উপর জোর দিয়েছে। কমিশনের সাম্প্রতিক নথিতে বলা হয়েছে, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য হল যোগ্য কোনও নাগরিক যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় না থাকেন।
ফলে এসআইআর ঘিরে একদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, অন্যদিকে বিরোধী ও ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ দুইয়ের মধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম থাকা ভোট দেওয়ার মৌলিক পূর্বশর্ত হওয়ায়, এসআইআর-এর মাধ্যমে কারও নাম বাদ পড়েছে কি না এবং সংশোধনের সুযোগ কতটা কার্যকর তা নিয়ে নজর এখন নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক সংগঠন, উভয়ের দিকেই।

Comments :0

Login to leave a comment