দুর্গাপুজোর মুখে বোনাস ও বকেয়া বেতন নিয়ে ফের ডুয়ার্সের চা বলয় উত্তপ্ত হয়ে উঠল। নির্ধারিত ৫ অক্টোবর পেরিয়ে গেলেও বোনাস নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় মঙ্গলবার ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা বাগানে কাজ বন্ধ রেখে শ্রমিকরা বিক্ষোভে সামিল হলেন। কোথাও গেট মিটিং ও মিছিল, কোথাও বাগানের অফিস ঘেরাও, আবার কোথাও শ্রমিকরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের দাবি, এবছর কোনও কিস্তিতে নয়, এককালীন ২০ শতাংশ বোনাস দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ বানারহাট, নিউ ডুয়ার্স, কারবালা ও চুনাভাট্টি চা-বাগানে এদিন বোনাসের দাবিতে গেট মিটিং ও বিক্ষোভ হয়। একই সঙ্গে মালবাজার শহর সংলগ্ন সোনগাছি চা বাগানেও শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।
চা শ্রমিকরা সোনগাছিতে কর্তৃপক্ষের টালবাহানার প্রতিবাদে কাজ বন্ধ রেখে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। এর জেরে বীরপাড়া, জলপাইগুড়ি ও মালবাজারমুখী রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। দু’দিকে বহু যানবাহন আটকে পড়ে। খবর পেয়ে মেটেলি ও মালবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে। শ্রমিকদের অভিযোগ, গত বছরও আন্দোলনের পর মাত্র ১২ শতাংশ বোনাস দেওয়া হয়েছিল। তাও একসঙ্গে না দিয়ে একাধিক কিস্তিতে মেটানো হয়। শেষ কিস্তির টাকা পেতে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এ বছর সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি তাঁরা চান না।
চুনাভাট্টি চা বাগানে এদিন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বাগানের রাস্তা অবরোধের পাশাপাশি অফিস ঘেরাও করেন। ম্যানেজারের কাছে বোনাস নিয়ে স্পষ্ট জবাব চাইলেও সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় ক্ষোভ আরও বাড়ে। শ্রমিকরা ভুটান-ভারত সার্ক রোড অবরোধ করেন।
আন্দোলনরত শ্রমিক বসনা তামাং বলেন, ৫ অক্টোবরের মধ্যে বোনাস নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও ঘোষণা নেই। তাঁর কথায়, ‘‘এই বাজারে অন্তত ২০ শতাংশ বোনাস চাই। ১৬ হাজার টাকা তো দূরের কথা, পুরো কাজ না থাকলে ১০ হাজার টাকাও হাতে আসে না। বোনাসের জন্যও বারবার আন্দোলনে নামতে হবে কেন?’’
শ্রমিকদের বক্তব্য, মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কম মজুরিতে সংসার চালানোই কঠিন। তার উপর বকেয়া বেতন ও বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তা তাঁদের উৎসবের আনন্দকেও ম্লান করে দিচ্ছে। বছরের পর বছর চা বাগানে কাজ করেও প্রাপ্য অধিকারের জন্য বারবার রাস্তায় নামতে হওয়ায় ডুয়ার্সের শ্রমিক মহলে ক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
Comments :0