জয়ন্ত সাহা ও শম্ভু চরণ নাথ: আলিপুরদুয়ার
আসন্ন দুর্গাপুজোর বোনাসের অপেক্ষায় চা শ্রমিকরা। শ্রম দপ্তরের এডভাইজারি অনুযায়ী ৫ ছিল অক্টোবর ছিল শেষ দিন। সেই সময় পেরিয়ে গেলেও চা বাগান শ্রমিকরা বোনাস পাননি। বোনাস হাতে না পেয়ে সোমবার রাতেই আন্দোলন শুরু করেছিল কালচিনি ব্লকের তিনচুলা চা বাগানের শ্রমিকেরা। আর মঙ্গলবার ভোরের আলো ফুটতেই খবর আসতে শুরু করে বাগানে বাগানে শ্রমিকদের বোনাস না পেয়ে বিক্ষোভ আন্দোলনে নেমে পড়ার। বোনাস না পাওয়া শ্রমিকদের মুখে একটাই শ্লোগান, ‘‘বোনাস হামার হক হ্যায়, হক পাওয়ার লাগি হামার লড়াই চলি।’’
মঙ্গলবার কুমারগ্রামের রহিমাবাদ বাগানে সকাল থেকেই শুরু হয় শ্রমিক বিক্ষোভ। লালঝান্ডার সাথে অন্য সব ঝান্ডা মিলে মিশে একাকার। এদিন সকালেই কালচিনি ব্লকের নিমতি বাগানের শ্রমিকেরাও বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করে দেয়।
অন্যদিকে বানারহাটের চার চা বাগানের শ্রমিকেরাও বোনাস না পেয়ে ফুঁসছেন। কারবালা, বানারহাট, চুনাভাটি, নিউডুয়ার্স বাগানের শ্রমিকেরা বাগানে বিক্ষোভ দেখানোর পর রাজপথে নেমে আন্দোলন শুরু করেন। পথ অবরোধ করে শুরু হয় হক আদায়ের জান কবুল লড়াই।
সিআইটিইউ রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলম থেকে চা শ্রমিকদের নেতা বিকাশ মোহালি, বিদ্যুৎ গুনদের আশঙ্কাই সত্য প্রমানিত হল। ২৪ ঘন্টা আগেই এই শ্রমিক নেতারা বলেছিলেন, শ্রম দপ্তরের এডভাইজারি নোটিশ পেয়েও মালিক শ্রেণি বোনাস না দিলে পাহাড়-সমতল-ডুয়ার্সের বাগানে বাগানে শ্রমিকদের বিক্ষোভ দাবানলের মত ছড়াবে। সেই বিক্ষোভ বাগান ছেড়ে রাজপথে নেমে আসবে। সিআইটিইউ রাজ্য সম্পাদক জিয়াউল আলম বলেন, ‘‘এডভাইজারি জারি করে বোনাস দেওয়ার নিয়ম লাগু করেছে রাজ্যের শ্রম দপ্তর, তাদেরকেই সমাধান সূত্র খুঁজে বের করতে হবে।’’
আলিপুরদুয়ার-কোচবিহার চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা বিকাশ মোহালি মঙ্গলবার বলেন, ‘’৪৪ শতাংশ বাগানের বোনাস এখনও বাকি। শ্রম দপ্তর গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০শতাংশ হারে বোনাস দেবার এডভাইজারি জারি করে। বোনাস দেবার শেষ দিন ছিল চলতি মাসের ৫ অক্টোবর। খবর মিলেছে ৫৬ শতাংশ বাগান বোনাস দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অধিগৃহীত বাগানও রাজ্যের শ্রম দপ্তরের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার তোয়াক্কা করলো না!
এদিকে খবর মিলেছে তরাইয়ের ৪৮টি বাগানের মধ্যে ১৪ টি বাগানের শ্রমিকেরা বোনাস না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন। এরমধ্যে কয়েকটি বাগান ৯ থেকে ১০ শতাংশের বেশি বোনাস দিতে রাজিই নয়। কিছু বাগান মালিক এখনও বোনাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতেই পারে নি। কেন্দ্রের ভারী শিল্প মন্ত্রকের অধীন এন্ড্রিউ ইউলের বানারহাটের চার বাগান ও শ্রম দপ্তরের নির্দেশ মেনে বোনাস দেয় নি।
পাহাড়ের ৪৭ টি চালু বাগানের মধ্যে ৭-৮ টি বাগান বোনাস পায় নি বলে খবর মিলেছে। এরমধ্যে গরুবাথান ও মিরিকের দুটি করে বাগান রয়েছে। সিআইটিইউ নেতা সমন পাঠক এদিন অভিযোগ করেছেন, ‘‘বেশ কিছু বাগান বোনাস দিলেও পাক্ষিক মজুরি আটকে রেখেছে। মজুরির বকেয়া রেখে সেই টাকায় বোনাস দেওয়া তো শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা ছাড়া অন্যকিছু নয়।’’
আলিপুরদুয়ার জেলার স্বীকৃত ৬১ টি বাগানের মধ্যে কালচিনি, রায়মাটাং, মধু, রামঝোরা, লংকাপাড়া ও বান্দাপানি চা বাগান বন্ধ পড়ে আছে। খোলা ৫৫ টি বাগানের মধ্যে মাত্র ২৭টি বাগানে বোনাস মিটিয়েছে বলে শ্রম দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
বীরপাড়া চা বাগানের শ্রমিকেরাও লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাগানের শ্রমিক লাইনের ঘরে ঘরে প্রচার চলছে। বুধবার ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হবে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। লেবার কমিশনের অফিস ঘেরাও করবে বাগান শ্রমিকেরা।
Comments :0