SFI's extended session Srijan

জলপাইগুড়িতে শুরু এসএফআই'র বর্ধিত অধিবেশন, 'অধিকারের লড়াই চলবেই', বলছেন সৃজন

রাজ্য জেলা

এসএফআই'র বর্ধিত অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন সৃজন ভট্টাচার্য। ছবি - প্রবীর দাসগুপ্ত।

"মানুষের উপর আরএসএস বিজেপির প্রত্যেক দিন কার নতুন নতুন আক্রমণ তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে ছাত্রদের মধ্যে শুধু বামপন্থা নয়, মানবতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ধর্ম নিরপেক্ষতা, যুক্তিবাদের কথা কিভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায় তারই আলোচনা হবে এই বর্ধিত অধিবেশনে।‌" বুধবার জলপাইগুড়িতে শুরু হয়েছে এসএফআই রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন। সেখানে অংশ নিয়ে একথা বলেছেন এসএফআই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। এদিন মিছিল করে বর্ধিত অধিবেশনে যোগ দেন ছাত্র-ছাত্রীরা। পাশাপাশি হয় সমাবেশও। 
তার মাঝেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সৃজন বলেন, "রাজ্যে নতুন সরকার পাঁচ মাসের মাথায় সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার অধিকার, কাজকর্মের অধিকার, কথা বলার অধিকার সংকুচিত হচ্ছে। দেশজুড়ে ভোট দেওয়ার অধিকারকে লাটে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদীকে জেতাতে গিয়ে, জ্ঞানেশ কুমারের কথা রাখতে গিয়ে ইলেকশন কমিশনরেই ভেতর তিন কমিশনারের দু’জনের ভোট চুরি হয়ে গিয়েছে। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলি রক্ষা করা, বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি স্কুল খোলার দাবি, কলেজগুলির পরিকাঠামো উন্নত করা, ছাত্র ভোটের দাবি নিয়ে এই অধিবেশন চলবে।"
তিনি বলেন, "সাম্প্রদায়িকতা, যুক্তিবাদ বিরোধী পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে, মানুষের উপর আরএসএস বিজেপির প্রত্যেক দিন কার নতুন নতুন আক্রমণ তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে ছাত্রদের মধ্যে শুধু বামপন্থা নয, মানবতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ধর্ম নিরপেক্ষতা, যুক্তিবাদের কথা কিভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায় তার আলোচনাই চলবে।" 
এই বর্ধিত অধিবেশন শেষ হচ্ছে ৮ অক্টোবর। আরেকদিকে ১০ অক্টোবর, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর-র বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামছে সিজেপি। 
পাশাপাশি, ওই কর্মসূচিতে সমস্ত বিজেপি বিরোধী ছাত্র সংগঠন গুলিকে একত্রিত আসার আহ্বান জানিয়েছে এসএফআই। 
এই বিষয়ে সৃজনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, " সিপিআই(এম) নেতা এমএ বেবি হাজার পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে এক জায়গায় আনার চেষ্টা করেছেন। সিপিআই(এম)’র উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একসঙ্গে এসেছে, ইন্ডিয়া ব্লকের মিটিং বসেছে, টানা কর্মসূচি ঘোষিত হয়েছে। সবাই মিলে গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকারকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আজ সকালে এসএফআই-এর পক্ষ থেকে আমরা বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনকে চিঠি লিখেছি। বলেছি আমাদের মধ্যে যা ফারাক আছে থাকবে কিন্তু ১০ অক্টোবর ' যন্তর মন্তর ২.০' -তে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, তাকে বিচার ব্যবস্থার আওতায় আনা, এস আই আর প্রক্রিয়া রদ, ইলেকশন কমিশনকে সংস্কার করে তার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে আমরা একসঙ্গে লড়াই করবো।" 
তিনি আরও বলেন, "ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে যদি নির্বাচন কমিশনই যদি বিক্রি হয়ে যায় তা হ’লে তা গণতন্ত্রের উপর সব থেকে বড় আঘাত। এই বিষয়টিকে রোধ করার জন্যই সমস্ত অংশকে একসঙ্গে আসার দরকার, এসএফআই সমস্ত সংগঠনকে এক জায়গায় আনারই চেষ্টা করছে।"

Comments :0

Login to leave a comment