Bandh in Odisha

ওড়িশায় বনধ, প্রভাব বাংলার সীমান্তে

জাতীয় রাজ্য

ওড়িশায় ১২ ঘন্টার বনধ, বাংলার সীমান্তে দীর্ঘ ৩৩ কিলোমিটার সড়কে সারি সারি গাড়ি। নতুন খনি আইন, স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে থাকা ‘ত্রুটি’ এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের ডাকা ১২ ঘণ্টার বনধের জেরে বৃহস্পতিবার ওড়িশার জনজীবন ব্যাহত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র, পেট্রোল পাম্প, দোকানপাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। বাস ও অটোরিকশার মতো গণপরিবহনও রাস্তায় চলেনি।
দলের পতাকা ও ব্যানার হাতে নিয়ে বিক্ষোভকারীরা ভুবনেশ্বর, কটক, বরগড়, ভদ্রক, বালেশ্বর, রায়গড়া, কেন্দ্রপড়া, বোলাঙ্গির, ব্রহ্মপুর ও সম্বলপুরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং সড়ক ও জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করেন।
লোয়ার পিএমজি স্কোয়ারে লোক সেবা ভবনের (রাজ্য সচিবালয়) দিকে মিছিল করে যাওয়ার সময় ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি ভক্ত চরণ দাসের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়, যার ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।
নতুন খনি আইন বাতিল, স্কুল পাঠ্যপুস্তকে 'ভুলভ্রান্তি'র জেরে রাজ্যের মন্ত্রী নিত্যানন্দ গন্ডের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই(এম), সিপিআই(এমএল) লিবারেশন, ফরওয়ার্ড ব্লক, এনসিপি (শরদ পাওয়ার), সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি ও জেএমএম-সহ 'ইন্ডিয়া' মঞ্চের শরিক দলগুলি এদিন সকাল ৬টা থেকে ওড়িশায় ১২ ঘণ্টার বনধ পালন করছে। বন্ধের কারণে গণপরিবহন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় অনেক মানুষকে বাস স্টপে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এক কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, দমকল পরিষেবা, ওষুধের দোকান ও দুধ সরবরাহের মতো জরুরি পরিষেবাগুলিকে এই বন্ধের আওতার বাইরে রাখা হয়।
ওড়িশায় বনধের প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। বাংলা সীমান্তে দীর্ঘ ৩৩ কিলোমিটার পথে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ে। দুই রাজ্যের সীমান্তে ছিল বামফ্রন্টের ব্যানার, সামিল কংগ্রেসও। ধর্মঘটে সামিল হয় দুই রাজ্যের সীমান্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন থানার সোনাকোনিয়া। ব্যানার ফেস্টুন সহকারে পিকেটিং সহ চলে শ্লোগান। পাশাপাশি আটক পড়া বাসে থাকা পর্যটকাদের পানীয় জল ও খাবার তুলে দেওয়া হয় ধর্মঘটীদের পক্ষ থেকে। বাংলা থেকে দক্ষিণ ভারতের গেট হয়ে সোনাকোনিয়া থেকে বেলদা ছাড়িয়ে প্রায় ৩৩ কিমি জাতীয় সড়কে  শয়ে শয়ে পন্যবাহি লরি আটক পড়ে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবিও রয়েছে। ১২ ঘন্টার বনধে এদিন ওড়িয়াশ রাস্তায় যাত্রীবাহী বাস, অটোরিকশা ও ট্রাকের বড় অংশই রাস্তায় নামেনি। রেলস্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করলে কোথাও কোথাও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের কর্মী ও নেতাদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে

Comments :0

Login to leave a comment