Post Editorial

ভোটের কারচুপিতে সর্ষের মধ্যেই ভূত

সম্পাদকীয় বিভাগ

পার্থপ্রতিম বিশ্বাস 
ইতিমধ্যে রাজ্যের কিছু গেরুয়া নেতা দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ্মভূষণ দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। তাদের এমন দাবি এক অর্থে সঙ্গত, কারণ দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখার পরিবর্তে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জাতীয় রাজনীতিতে পদ্মের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। ফলে বিজেপি’র তরফে তাকে ‘পদ্ম’ পুরস্কারের স্বীকৃতি জানানো বাস্তবে তাঁর কৃতকর্মের স্বীকৃতি! আর বিপরীতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে দেশের বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গণসংগঠনগুলি।  
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ হলো এদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দায়বদ্ধতা রক্ষার শাসন শীর্ষ আসন। নির্বাচন কমিশন হলো এ দেশের ভোটে নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতা রক্ষার শীর্ষ স্বশাসিত সংস্থা। দেশজুড়ে এমন বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থা তৈরি হয়ে থাকে দেশের সরকারের তত্ত্বাবধানেই। যদিও সরকার তৈরি হয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবেই কিন্তু সেই সরকারকেই এমন স্বশাসিত সংস্থাগুলির অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হয়। এমন প্রেক্ষিতে সেই স্বশাসিত সংস্থাগুলি তাদের স্বাধীন নিরপেক্ষ অবস্থান পালনে ব্যর্থ হলে প্রথমেই আক্রান্ত হয় দেশের গণতন্ত্রের প্রাথমিক ভিত্তি এবং মানুষের ভোটের অধিকার। কারণ বহুদলীয় গণতন্ত্রে মানুষ যোগ দেয় ভোটের অধিকারকে মূলধন করে। এদেশের গণতন্ত্র ইতিমধ্যে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃত। ফলে এই দেড়শো কোটির দেশে গণতন্ত্রের বিকাশে স্বচ্ছতা রক্ষার দায় যে নির্বাচন কমিশনের ওপর সাংবিধানিকভাবে ন্যস্ত রয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের অন্দরে গণতন্ত্রের চর্চা নিয়ে যখন গুরুতর প্রশ্ন উঠে যায় তখন সঙ্গত কারণেই সেই প্রশ্ন বৃহত্তর গণতন্ত্রের পরিসরে যে অশনি সংকেত তা নিয়ে বিশেষ সন্দেহের অবকাশ থাকে না। 
এই প্রেক্ষিতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক দেশে বহুমাত্রিক সঙ্কটকে সামনে এনেছে। ইতিমধ্যে দেশের প্রজাতন্ত্র পঁচাত্তর বছর পার করেছে। এই বিস্তীর্ণ সময়কাল জুড়ে নির্বাচন কমিশনের বহু সিদ্ধান্ত ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এলেও কখনো দেশজুড়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবি ওঠেনি। বলাই বাহুল্য, গত ৭৫বছরে দেশের নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা কিংবা দায়বদ্ধতা নিয়ে এমন অনাস্থার পরিস্থিতি কখনো তৈরি হয়নি। ইতিমধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কিংবা তার কর্মপন্থা যেভাবে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় ফাঁস হয়েছে তাতে স্পষ্ট যে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দেশের বিরোধীদের সার্বিক অনাস্থার পেছনে অন্য কেউ নয় স্বয়ং তিনিই দায়ী। দেশের গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হিসাবে স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের সদা জাগ্রত ভূমিকা প্রত্যাশিত। অথচ আজ সেই প্রতিষ্ঠানের অন্দরেই দুই নির্বাচন কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে মুখ্য কমিশনার সাম্প্রতিক অতীতে এমন বহু সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নিয়েছেন যার পরিণতিতেই আজ সৃষ্টি হয়েছে দেশজোড়া বিতর্ক। কারণ দেশের আইন অনুযায়ী কমিশনের অন্দরে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার কথা তিন কমিশনারের আলোচনা কিংবা ঐকমত্যের ভিত্তিতে। অথচ দেখা যাচ্ছে গত দশ মাসে এই তিনজনের মধ্যে দু’জন কমিশনার ১৪টি ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁদের লিখিত আপত্তি ও ভিন্নমতের কথা জানিয়েছিলেন। যেগুলি উপেক্ষা করেই কার্যত এমন বহু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেগুলি দেশের নাগরিকদের ভোটার হিসাবে তাঁদের ন্যায্য অধিকার খর্ব করেছে এবং ১৩কোটি মানুষকে হয়রানির পথে নিয়ে গেছে।
কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য যে কোনও সংবাদ মাধ্যমের মনগড়া তদন্তনির্ভর ছিল না সেটা প্রমাণ হলো নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল‘ বৈঠকের নির্যাস ও কার্যবিবরণী থেকে। যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হচ্ছে যে অতঃপর কমিশনের সভায় সূচি সকল সদস্যদের আগাম জানানো হবে এবং সভার সিদ্ধান্ত সকলকেই লিখিতভাবে সভার পরই জানানো হবে। যে কোনও সভায় সাধারণ নিয়ম-কানুনের মধ্যেই পড়ে এমন ঘোষণা। কিন্তু সেই ঘোষণা অসাধারণ হয়ে ওঠে যখন সবিস্তারই কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসাবে এমন কথা প্রকাশ্যে জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে হাজির করা হয়। আর সেখানেই তৈরি হয় নতুন খটকা। কারণ ইতিপূর্বে কি তাহলে সভা পরিচালনা কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সভার সেই সাধারণ নিয়ম মানা হয়নি? 
নির্বাচন কমিশনের এমন চারিত্রিক পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল ঐ কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর থেকেই। অতীতে কমিশনের সদস্য নির্বাচন করতেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়ে গড়া তিন সদস্যের কমিটি। কিন্তু সেই নিয়মের বদল ঘটিয়ে যখন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দেশের মন্ত্রীসভার এক সদস্যকে সেই কমিটির অন্তর্ভুক্ত করা হলো তখন থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেল ২-১ গোলে কমিশনার নিয়োগের অঙ্কে এগিয়ে গেল শাসক দল। ফলে তখন থেকেই যে স্বাধীন-নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের পরিবর্তে শাসকের নিয়ন্ত্রিত কিংবা সরকার পক্ষের আস্থাভাজন মানুষেরাই নির্বাচন কমিশনের হাল ধরবেন সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল। কিন্তু তখন সেই  পরিবর্তন দেশের কোটি কোটি মানুষের ভোটের ভবিষ্যৎকে কতটা ভয়াবহ বিপদে ফেলতে পারে সেটা স্পষ্ট ছিল না। যেটা এখন স্পষ্ট হচ্ছে সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহে। দেশের সংসদে ক্ষমতার দাপটে স্বশাসিত নির্বাচন কমিশনের স্বাধিকার ভেঙে  জাঁকিয়ে বসলো শাসকের নিয়ন্ত্রণের থাবা! আর ঠিক এই রাজনৈতিক সমীকরণের ভিত্তিতেই আজ জ্ঞানেশ কুমার প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কুর্সিতে। ফলে কর্তার ইচ্ছায় কর্মের মতোই তিনি কমিশনের চেয়ারে বসে একের পর এক সিদ্ধান্ত বিনা আলোচনায় নিয়ে চলেছেন দেশের শাসকের রাজনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে। 
আর শাসকের এই রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এই সময়কালে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। এসআইআর শুরুর আগে নির্বাচন কমিশনের নিরামিষ ঘোষণায় ছিল দেশজুড়ে মৃত, স্থানান্তরিত কিংবা ভূতুড়ে ভোটারদের বাদ দিয়ে ঝাড়াই বাছাই করে বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরি করা। কিন্তু যত দিন গড়িয়েছে তত স্পষ্ট হয়েছে নির্বাচনে ত্রুটিমুক্ত নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির পরিবর্তে কমিশনের তালিকায় বাদ পড়েছে সমাজের প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু মানুষেরা। ফলে কমিশনের যাবতীয় নিয়ম-কানুন থেকে শুরু করে ফরমের সংশোধন এমনভাবেই হতে শুরু করল যে বাপ-ঠাকুরদার জন্ম বৃত্তান্তের কাগজ থেকে শুরু করে নানাবিধ যোগসূত্রের ফর্মুলা হাজির হলো ঐ সংশোধন প্রক্রিয়ায়। ফলে অতীতের ভোটার তালিকার নিবিড় কিংবা সাধারণ সংশোধনের যে মূলনীতি ছিল সেগুলিকে হিমঘরে পাঠিয়ে উর্বর মস্তিষ্ক প্রসূত ফর্মুলায় যোগ্য ভোটারদের বাছাইয়ের সফটওয়্যার থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিয়মাবলী রচনা শুরু হলো। আর এই  সমস্তটাই হয়েছে স্থানীয় স্তরের আধিকারিক ‘ইআরও’দের ক্ষমতা কেড়ে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে। এই সুচিন্তিত ঝাড়াই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে এই রাজ্যেই নাম বাদ গেল নব্বই লক্ষ ভোটারের। এখনও অবধি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ৩৮লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ। আর বর্তমানে যে শম্বুকগতিতে ওই ট্রাইবুনালগুলির কাজ চলছে তাতে ওই মানুষদের ভোটের অধিকারের চূড়ান্ত মীমাংসা হতে ৩০বছরেও হবে কিনা সন্দেহ।  
ফলে আজ এটা স্পষ্ট যে এসআইআর’র ক্ষেত্রে কমিশনের বহু পদক্ষেপে বহু মানুষের ভোটের অধিকার খর্ব হয়েছে। এক ধাপ এগিয়ে একদা জ্ঞানেশ কুমার বিহার নির্বাচনের আগে বলেছিলেন যে দেশের নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই ভোটার তালিকা হবে ভবিষ্যতের মাপকাঠি। তখন থেকেই প্রশ্ন ছিল যে কোন আইনি অধিকার বলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন? নাগরিকত্ব প্রদানের যে দায়িত্ব দেশের সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের, সেই দায়িত্ব কমিশনের হাতে এল কি করে? কিন্তু তার এমন ভবিষ্যৎ বাণীর অব্যবহিত পরেই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছিলেন তাঁদের রাজনৈতিক ক্রোনোলজি হলো ‘ডিটেক্ট- ডিলিট-ডিপোর্ট’। অর্থাৎ ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে প্রথম সন্দেহজনক ভোটার চিহ্নিত করা, তারপর সেগুলি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া আর পরিশেষে তাদের বেনাগরিক বানিয়ে ঘাড় ধরে দেশ থেকে বিদায়। ফলে শাসকের এমন রাজনৈতিক ভাষ্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল নির্বাচন কমিশনার প্রধান তার কর্তার ইচ্ছায় কর্ম সম্পাদন করছেন ভোটার তালিকা ছেঁটে ফেলতে। সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এক মাননীয় বিচারপতি প্রকাশ্যে বলেছেন যে ‘যদি কোনও প্রক্রিয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন এবং নিজের দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হন অর্থাৎ ভোটাধিকারহীন নাগরিক হয়ে ওঠেন তাহলে সেই প্রক্রিয়াটি সহজাতভাবেই স্বেচ্ছাচারী। এটাকে কোনও আদালত অনুমোদন করতে পারে না। এটা সংবিধানের মর্মস্থলে আঘাতের সমান’। ফলে বিচারপতির এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে সাম্প্রতিক অতীতে দেশজুড়ে এসআইআর’র নতুন মডেলে যেভাবে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে সেই প্রক্রিয়া ছিল এক স্বেচ্ছাচারী এবং স্বৈরাচারী প্রক্রিয়া। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে দেশে যে ছেলেখেলা হয়েছে আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। আর সেই দাবিতেই সোচ্চার দেশের মানুষ। কারণ ভোটের তালিকায় গলদ থাকলে ভোটের ফলও গলদ মুক্ত হয় না। 
ফরম-৬, ফরম-৭ না বললে প্রসঙ্গটা অসম্পূর্ণ থাকবে। কারণ ইতিমধ্যে বেরিয়ে এসেছে যে কমিশন প্রধানের নেওয়া একক সিদ্ধান্তে ফরম-৬ এর ভোটারদের ঝাড়াই বাছাইয়ের নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে অপছন্দের ভোটারদের অসঙ্গতির ছুঁতোয় ভোটার তালিকা থেকে ঝেড়ে ফেলা যায়। সম্প্রতি এক মামলায় ঐ ফরম-৬ এর অনুমোদনের দায় কৌশলে সর্বোচ্চ আদালতের ঘাড়ে চাপাতে গিয়ে কমিশনকে বিফল হয়ে ফিরতে হয়েছে। ঠিক একইভাবে ফরম -৭ যেটি অবৈধ ভোটার ছেঁটে ফেলার দাবি জানানোর এক মাধ্যম। কিন্তু সেই পদ্ধতিতে যে কেউ অন্যের সম্পর্কে অবৈধ ভোটারের দাবি তুললেই সেটা রাতারাতি অবৈধ বলে বিবেচিত হয় না। তার জন্য প্রয়োজন কমিশনের তরফে তথ্যভিত্তিক যাচাই। কিন্তু এক্ষেত্রে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রমাণের যাচাই ব্যতিরেকেই একপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতেই লাখ লাখ নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। আর এই সমস্তটাই হয়েছে স্থানীয় স্তরের নির্বাচনী আধিকারিক ইআরওদের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে।  কমিশনের নিয়ম ও প্রথা ভেঙে নতুন তথ্য আধিকারিক, নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ করে ভোটার তালিকার সংযোজন এবং বিয়োজন সবটাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছে দিল্লি থেকে। ফলে তথ্য এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনের মাধ্যমে বিভিন্ন আধিকারিকদের ব্যবহার করে কেন্দ্রীয়ভাবে ভোটার তালিকায় এই কারচুপি ঘটনা হয়েছে এমনটাই অভিযোগ। ফলে সঙ্গত কারণেই সোচ্চার দেশের বিরোধীরা রাজপথে।
ইতিমধ্যে দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের রাজধানীতে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা সোচ্চার হচ্ছে। আর এমন প্রতিবাদ আন্দোলন দমন করতে আবারও রাজধানীতে পুলিশ দমনপীড়নের পথে নেমেছে। ইতিমধ্যে দিল্লিতে বাম নেতা-নেত্রী সহ সোচ্চার বিরোধীদের শয়ে শয়ে গ্রেপ্তারি চলছে। কার্যত রাজধানীর আন্দোলনের হৃদপিণ্ড যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ কিংবা গ্রেপ্তার করতে তৎপর হয়েছে পুলিশ। কয়েক মাস আগে এনটিএ’র  প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন দমাতে যেভাবে যথেচ্ছ দমনপীড়নের পথে নেমেছিল পুলিশ এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কিন্তু এবার মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় রাজপথের আন্দোলন জানান দিচ্ছে আন্দোলনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ কেবল একটা যন্তর মন্তরে নয় বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গজিয়ে উঠছে এমন যন্তর মন্তরের প্রতিচ্ছবি। কার্যত নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা যেভাবে ধুলুণ্ঠিত হয়েছে কমিশন প্রধানের ভূমিকায় সে ক্ষেত্রে এ দেশের গণতন্ত্রের ঐতিহ্য মেনেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করা উচিত। অন্যথায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরিণতি তারও জন্য অপেক্ষা করছে কিনা সেটা ভবিষ্যৎ বলবে!  
Highlights
সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় রাজপথের আন্দোলন, ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ কেবল একটা যন্তর মন্তরে নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গজিয়ে উঠছে এমন যন্তর মন্তরের প্রতিচ্ছবি। নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা যেভাবে ধুলুণ্ঠিত হয়েছে কমিশন প্রধানের ভূমিকায়, সে ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের ঐতিহ্য মেনেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করা উচিত। অন্যথায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরিণতি তারও জন্য অপেক্ষা করছে কিনা সেটা ভবিষ্যৎ বলবে!

Comments :0

Login to leave a comment