জনগণের অধিকার রক্ষায়, সাংবিধানিক ন্যায়বিচারের দাবিতে কনভেনশনের অনুমতি বাতিল করলো কলা মন্দির। আগামী ১৩ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ নাগরিক মঞ্চের ডাকে এসআইআর বাতিলের দাবিতে এবং সাংবিধানিক ন্যায়বিচারের দাবিতে গণকনভেনশনের ডাক দেওয়া হয়। বুকিংয়ের জন্য ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকাও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে অনুমতি। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে গণশক্তি ভবনের পাশের খোলা জায়গায় হবে গণ-কনভেনশন। নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বক্তা হিসাবে কনভেনশনে থাকবেন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, প্রাক্তন আমলা জহর সরকার, অধ্যাপক পবিত্র সরকার, অধ্যাপক অশোক নাথ বসু।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘নাগরিক কনভেনশনের জন্য কলা মন্দিরের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। তাই এই খোলা প্রাঙ্গণে হবে সভা। কোন ভাবেই আমাদের কথা কে আটকে রাখা যাবে না।’
এসআইআর এবং দিল্লির আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রাক্তন সাংসদ বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট এবং কমিশন এখন একটু ব্যাক ফুটে আছে তার একমাত্র মানুষের আন্দোলনের জন্য। কিন্তু আমরা দেখছি এসআইআরকে নাগরিকত্বের সাথে জুড়ে দিয়ে রাজ্যের বিজেপি সরকার মানুষের নাম রেশন তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। প্রান্তিক মানুষকে বাদ দেওয়া হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে। আমরা মানুষের কাছে আসন সত্য তুলে ধরতে চাই, তাই এই কনভেনশম।’
তিনি বলেন, ‘বিহার পশ্চিমবঙ্গ থেকে নাম বাদ দেওয়া শুরু হয়েছিল। আজ গোটা দেশে এই কাজ চলছে। গরিব মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আজকে দিল্লি যাওয়ার সব ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বিমান থেকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এই অধিকার কে দিয়েছে সরকারকে?’
জহর সরকার বলেন, ‘গত বছর সেপ্টেম্বর নাগাদ এসআইআর চালু হয়। এর আগে নির্বাচন সংক্রান্ত অনেক কাজ করেছি। কিন্তু এই এসআইআর শুনিনি। এসআর হয়। ইনটেনসিভ রিভিশন হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার কোন আইনি বৈধতা নেই। সুপ্রিম কোর্টে মামলা হলে শীর্ষ বলেছিল কমিশন এই প্রক্রিয়া করতে পারি। আমার মানি না এই কথা। সাংবিধানিক বেঞ্চ একমাত্র এই বিষয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু কোন সাংবিধানিক বেঞ্চে এই প্রক্রিয়াকে মান্যতা দেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আগে ফর্ম ৬ শুধু বাবার নাম দেওয়া হতো। নতুন প্রক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে বাড়ির লোকের নাম ভোটার তালিকায় ছিল কি না সেই তথ্য দিতে হচ্ছে। কমিশন লোকের কুষ্ঠি বিচার করতে বসেছে। অমিত শাহের কথায় এই কাজ করছেন জ্ঞানেশ কুমার। নাগরিকত্ব জুড়ে দিয়েছেন ভোটার তালিকার সাথে। এখন সুপ্রিম কোর্ট বলছে এই ফর্ম ৬ তারা করেননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএলও দের আবার বাড়ি বাড়ি যেতে বলছে। ফর্ম ৬ দিয়ে আসতে বলছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। তালিকায় নাম না থাকলে সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পাবেন না। এই সব বিষয় মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে প্রাক্তন আমলা বলেন, ‘উনি সব কিছুতে অনুপ্রবেশ দেখেন। বলুক কটা অনুপ্রবেশকারী পেলো এসআইআর করে।’
বিকাশ ভট্টাচার্য, জহর সরকার বলেন, এদিনের সাংবাদিক সম্মেলন তাদের অ্যাকাডেমিতে করার কথা থাকলেও সেই অনুমতিও বাতিল করা হয়। তারা জানান চিঠি দিয়ে তাদের বলা হয়েছে যে এই সাংবাদিক সম্মেলন কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বলে তারা অনুমতি বাতিল করছে। তাদের কথায় সরকারের কথাতেই দুই জায়গার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
অধ্যাপক অশোক নাথ বসু বলেন, ‘নাগরিক সমাজের অধিকার আছে সরকার যদি কিছু ঠিক না করে তার বিরুদ্ধে বলার। সংবিধান এই অধিকার দিয়েছে। দিল্লির দিকে তাকিয়ে দেখুন সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আমাদের সবার বিরুদ্ধে, আমাদের দলমত নির্বিশেষে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার দরকার।’ অধ্যাপক পবিত্র সরকারের কথায়, ‘কোন মন্ত্রে বুঝে নিল যে সরকারের বিরুদ্ধে এই কনভেনশন। এক তরফা ভাবে অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। এটা ফ্যাসিস্ট প্রবণতা।’
Citizen's forum
অনুমতি বাতিল হওয়ায় কলা মন্দির নয়, খোলা আকাশের নীচে হবে নাগরিক কনভেনশন
×
Comments :0